kalerkantho


অদৃশ্য ঘাতক মান্দজুকিচ

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



অদৃশ্য ঘাতক মান্দজুকিচ

ম্যাচজুড়ে ধারাভাষ্যকারদের কণ্ঠে খুব একটা তাঁর নাম শোনা যায় না। যখন শোনা যায়, ততক্ষণে কিছু একটা ঘটে গেছে। পরশু রাতেই যেমন পুরো ম্যাচে বলে পা ছুঁইয়েছেন মাত্র ৪১ বার। গোটা ক্রোয়েশিয়া দলে যা সর্বনিম্ন। তাঁর চেয়ে বেশিবার বল ধরেছেন গোলরক্ষক সুবাসিচও। কিন্তু দেখুন, ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছোঁয়াটা তাঁর পায়েরই। যে ছোঁয়াতেই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেছে তাঁর দেশ।

পুরো ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়দের যা ক্লাব সাফল্য, বায়ার্ন মিউনিখ, অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ, জুভেন্টাসে খেলা মান্দজুকিচের একারই আছে তাঁর চেয়ে বেশি ট্রফি। অথচ ক্রোয়েশিয়া নিয়ে কথা উঠলেই তাদের দুর্ধর্ষ মিডফিল্ডের কথাই আসে সবার আগে, লুকা মডরিচ, ইভান রাকিটিচরাই থাকেন স্পটলাইটে। ইংলিশরাও মনে হয় গোনায় ধরেনি এই স্ট্রাইকারকে। তাঁর রহস্যটা এখানেই। গত চ্যাম্পিয়নস লিগেই তো রিয়ালের মাঠে রিয়ালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি জুভেন্টাসকে জিতিয়েছেন। তাঁর আগের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে করেছেন আসরের ইতিহাসেই অক্ষয় হয়ে থাকার মতো এক গোল। সেই মান্দজুকিচ তবু প্রচারের আলোয় ছিলেন না। তাঁর ধরনটা এমনই।

জুভেন্টাসে গনসালো হিগুয়েইন যোগ দেওয়ার পর নাম্বার নাইন পজিশন থেকে তিনি কিছুটা বাঁয়ে সরে যান। তাতে নতুন আরেক মান্দজুকিচকে খুঁজে পাওয়া যায়। যিনি প্রতিপক্ষের অর্ধ থেকেই দলের জন্য ডিফেন্ডিংটা শুরু করেন আর আচমকা চলে আসেন গোল স্কোরিং পজিশনে। এই বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া ফ্রন্টম্যান হয়েও তিনি সেভাবেই খেলছিলেন। ইভান পেরিসিচ, আন্তে রেবিচদের জায়গা করে দিচ্ছিলেন গোল স্কোরিং পজিশনে চলে আসার জন্য। প্রতিপক্ষ তাই ধাঁধায় থেকেছে তিনি নিজে কখন হুমকি এ নিয়ে। লুঝনিকিতেও এদিন বেশির ভাগ সময়ই কাটিয়েছেন তিনি অফ দ্য বল রানিং করে। ইংলিশ মার্কাররা তাঁকে নিয়ে যখন হাল ছেড়ে দিয়েছেন, পেরিসিচের আপাতদৃষ্টিতে এক নিরীহ হেডে তখনই উঠে এসেছেন তিনি নীরব ঘাতকের মতো। স্রেফ এক টাচেই বল পাঠিয়ে দিয়েছেন জালে।

তাতেই ইতিহাস লেখা হয়ে গেছে। মান্দজুকিচ আবারও আবির্ভূত চমকের নাম হয়ে। অথচ এটাই তাঁর ধরন। এমন উপলক্ষ্যের জন্যই তাঁর ফুটবলার হয়ে ওঠা। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে গোল করে বায়ার্নকেও তো শিরোপা জিতিয়েছেন তিনি। পরশুর ম্যাচ দেখে হোসে মরিনহোও তাই বলেছেন, ‘এ ধরনের উপলক্ষের জন্যই মান্দজুকিচ। তাকে দারুণ ক্লান্ত মনে হচ্ছিল। কিন্তু যখন সুযোগটা এলো তা সে তুলে নিয়েছে দুহাত ভরে।’ মান্দজুকিচ নিজে এই গোলটা করে যতটা না উচ্ছ্বসিত, তার চেয়ে বেশি মুগ্ধ তিনি পুরো দলের পারফরম্যান্সে। ফাইনালে ওঠাটা তাঁর কাছে অলৌকিক মনে হলেও দলগত লড়াইয়েই সেই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে বলে তাঁর বিশ্বাস, ‘এটা একটা মিরাকল। শুধু ইতিহাস সেরা দলগুলোই এ ধরনের ম্যাচে এভাবে পিছিয়ে পড়েও লড়াই করে বেরিয়ে আসে। আমরা আজ সেই লড়াইটাই করেছি সিংহের মতো।’ সন্দেহ নেই তাতে শেষ আঁচরটা মান্দজুকিচেরই। ফিফাডটকম



মন্তব্য