kalerkantho


সাদাকালো

অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষ প্রসঙ্গ বাংলাদেশ

আহমদ রফিক

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষ প্রসঙ্গ বাংলাদেশ

১৮১৭ সালের ২৫ অক্টোবর (পরে সংশোধিত পঞ্জিকার হিসাবে ৭ নভেম্বর) লেনিনের নেতৃত্বে, বলশেভিক পার্টির উদ্যোগে রাশিয়ার শ্রমিক-সৈনিক-নাবিক ও মেহনতি মানুষের বিপ্লবী প্রচেষ্টায় অত্যাচারী জারতন্ত্র ও পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে। অভ্যুদয় ঘটে সমাজতন্ত্রী রাশিয়ার, রাষ্ট্রিক পরিচয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন (সোভিয়েত রাশিয়া)।

মার্কিনি সাংবাদিক জন রিডের ভাষায় ‘দুনিয়া কাঁপানো’ এই বিপ্লব ও নব্য সমাজব্যবস্থার পত্তন গোটা বিশ্বকে প্রচণ্ড নাড়া দিয়েছিল। আতঙ্ক সৃষ্টি হয় সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর শাসক শ্রেণিতে। অভিনন্দন জানায় বিশ্ব বুদ্ধিজীবী শ্রেণির বড়সড় অংশ। বাদ যায়নি তৎকালীন বাঙালি সাহিত্যিক-সংস্কৃতিবিদ বিশিষ্টজন। সে ধারা চলেছে দীর্ঘ সময় ধরে, বিশের দশকে নজরুলের কাব্যিক ‘জয়ধ্বনি’তে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ব্রিটেন, ফ্রান্স, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন সমাজতন্ত্রী রাষ্ট্র সোভিয়েত রাশিয়াকে শুরুতেই ধ্বংস করতে ষড়যন্ত্র শুরু করে। তাদের অস্ত্র, অর্থ ও উৎসাহে রাশিয়ার অভ্যন্তরে পরাজিত অভিজাত, সামন্ত ভূস্বামী, ধনিক ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের প্রতিবিপ্লব শুরু হয়ে যায়। সদ্য গঠিত সমস্যাজড়িত রাষ্ট্রটি পার্টি ও জনগণের অদম্য শক্তির জোরে অনেক রক্তক্ষরণের পর ওই অসম যুদ্ধে প্রতিবিপ্লবীদের পরাস্ত করে।

অব্যাহত ধারায় চলে লেনিনের ভাষায় ‘সমাজতন্ত্র গড়ার পালা’।

দুই.

কী ছিল ওই রুশ বিপ্লবের মর্মবাণী, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যে বিশ্বজুড়ে চমক সৃষ্টি? ফরাসি বিপ্লবের উত্থান-পতন শেষে স্বল্পস্থায়ী প্যারি কমিউনের পর অক্টোবর বিপ্লব রাশিয়ায় প্রতিষ্ঠিত করে শ্রমিক রাষ্ট্র। সমাজব্যবস্থার শেওলাপড়া পুরনো খুঁটিগুলো হ্যাঁচকা টানে উপড়ে ফেলে এই নতুন ব্যবস্থা। এবং তা মার্ক্স-এঙ্গেলসের রচিত বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রী মতাদর্শের সঠিক ও সফল প্রয়োগে। মূলকথা হলো, সমাজে সম্পদ-সম্পত্তি ও ব্যক্তিগত মালিকানার উচ্ছেদ ঘটিয়ে, সব ধরনের উৎপাদনের উপায়গুলোর সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠা।

আরো স্পষ্ট ভাষায় প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক চাহিদা—অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি পূরণের দায় রাষ্ট্রের। এদিক থেকে ভেদ নেই শ্রমিক-কৃষকের সঙ্গে শিক্ষিত শ্রেণির, সম-অধিকার সর্বক্ষেত্রে নর-নারীর। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘ধনগরিমার ইতরতার অবসান ঘটানোই শুধু নয়, এককথায় শোষণহীন, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। সেই সঙ্গে বেকারত্বের অবসান, সব সক্ষম মানুষের জন্য কাজ সৃষ্টির ব্যবস্থাও ছিল বিপ্লব তথা এই সমাজতন্ত্রী রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য। ’

রয়েছে আরো কিছু সূত্র—যেমন দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করে উন্নত সমাজ গড়ে তোলা, ভেদাভেদহীন সর্বজনীন নব্য সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো। আবারও রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, প্রতিটি মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পক্ষে দরজা খুলে রাখা, যাতে যে যার সাধ্যমতো স্তরে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ নাগরিক সুযোগ ও অধিকারের সমতা রক্ষা করা। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সমাজ ও রাজনীতিতে সেক্যুলারিজম প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা। সরকারি ব্যয়ে শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার সুবিধা নিঃসন্দেহে বিরল উদাহরণ। বিস্ময়কর অর্জন দুই দশকেরও কম সময়ে গোটা জাতিকে শিক্ষিত করে তোলা।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন সম্ভবত কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন ও উৎপাদন সম্পর্কের আমূল পরিবর্তন, উৎপাদন বৃদ্ধি, যৌথ খামারব্যবস্থা; যা দেখে অভিভূত হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। স্বদেশে তাঁর গ্রামোন্নয়ন পরিকল্পনায় কৃষিতে আধুনিকায়নের বহুমুখী ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেই কবির বিস্ময়। আরো বিস্ময় শিক্ষা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অসাধারণ সাফল্যে। সে শিক্ষার মূল লক্ষ্য শ্রেণি-নির্বিশেষে আলোকিত চিত্তের মানুষ তৈরি করা। এ কারণে বিপ্লবের মাত্র ১২ বছর পর রবীন্দ্রনাথ অবাক হয়েছিলেন মস্কোতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে আসা একজন সাধারণ সৈনিক ও কৃষকের উপভোগ্যতা লক্ষ করে।

এমন এক সাংস্কৃতিক অর্জন তিনি সুসভ্য পশ্চিমা দেশগুলোতে দেখতে পাননি। অন্যদিকে সোভিয়েত রাশিয়ায় বহু কোটি জনসাধারণের বুকের ওপর থেকে অশিক্ষা ও অসামর্থ্যের জগদ্দল পাথর ঠেলে নামানোর অসম্ভব কাজ সম্ভব করা দেখে। হয়তো এমন সব কারণে রাশিয়া সফর (ডিসেম্বর ১৯৩০) রবীন্দ্রনাথের কাছে মনে হয়েছে এ জন্মের তীর্থদর্শন। একজন বিশ্বপথিকের বহু দেশ, বহু সমাজ ও সাংস্কৃতিকচর্চা দর্শনের পর এ ধরনের বহু উক্তিও প্রমাণ করে অক্টোবর বিপ্লবের মতাদর্শিক সংগ্রাম, সামাজিক-সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক সংগ্রাম কতটা শ্রমনিষ্ঠ, শ্রমনির্ভর ছিল।

বিপ্লবের বহুমাত্রিক সমাপনে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির চর্চাও ছিল অসাধারণ। শুধু উদ্ভিদবিজ্ঞান, শারীরতত্ত্ব, চিকিৎসা ও জীববিজ্ঞানের পথ ধরে পরে আণবিক গবেষণা, মহাকাশ গবেষণায় চরম উৎকর্ষের প্রমাণ রাখেন সোভিয়েত বিজ্ঞানীরা। এসবই রুশ বিপ্লবের সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের দান। দেশ গড়ার জন্য একধরনের প্রবল আবেগ তৈরি হয়েছিল কারখানা শ্রমিকের মধ্যে উৎপাদনের প্রতিযোগিতায়। তেমনি কৃষি উৎপাদনে কৃষি শ্রমিকদের মধ্যে। একইভাবে সাহিত্য ও সংস্কৃতিকর্মী, নাট্যকর্মী ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে।

এমন একটি জাগরণমূলক (রেনেসাঁসীয়) জোয়ার তৈরি করেছিল অক্টোবর বিপ্লব লেনিনের নেতৃত্বে এবং তাঁর দক্ষ সহকর্মীদের সহযোগিতায়। এ বিপ্লবের মতাদর্শিক তথা তাত্ত্বিক দর্শনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের কথা এর আগে বলা হয়েছে। প্রাথমিক পর্বে লেনিন ও লেনিনোত্তর যুগে স্তালিনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের যৌথ কর্মকাণ্ডের পটভূমিতে একটি নিরক্ষর, সংস্কারাচ্ছন্ন কৃষিপ্রধান দেশকে সামন্ত ভূস্বামী ও জারশাসনের  বর্বরতা থেকে মুক্ত করে দ্রুতই বিশ্বের অন্যতম প্রধান শিল্পোন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল।

এমনই তার কর্মোদ্যোগ, শ্রমনিষ্ঠা, কর্মের সর্বজনীন ঐক্য—কারখানা শ্রমিক ও কৃষিক্ষেত্র থেকে বিজ্ঞানীর গবেষণাগার পর্যন্ত যে ব্যক্তি ও সমষ্টির সর্বোচ্চ অর্জন সম্ভব হয়েছিল। তাই বিশাল এক মহাদেশীয় রাষ্ট্র, বিজ্ঞানচর্চায় যার অগ্রগতি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সেই যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে নভোমণ্ডলে প্রথম মহাকাশযান ‘স্পুটনিক’ পাঠানোর কৃতিত্ব সোভিয়েত ইউনিয়নের, যা গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। জয়ধ্বনি উঠেছিল সমাজতন্ত্র সমর্থক বিশ্বের দেশে দেশে। বাদ যায়নি ভারতীয় উপমহাদেশ ও পূর্ববঙ্গের রাজধানী শহর ঢাকা।

অভাবিত এমন সব অর্জনের পেছনে প্রেরণা ও উদ্দীপনা জুগিয়েছিল অক্টোবর বিপ্লবের মতাদর্শে বিশ্বাস, আর সেই বিশ্বাসনির্ভর স্বদেশি স্বার্থনিষ্ঠ কর্মযজ্ঞ। ব্যক্তিগত স্বার্থ, স্বাতন্ত্র্যবাদী বা ভোগবাদী চেতনা সে পর্যায়ে কর্মোদ্যোগকে দূষিত করেনি। আদর্শবাদী নিঃস্বার্থ নেতৃত্বও ছিল বড় কারণ। আদর্শবাদ যত দিন সজীব থাকে, তত দিন সামাজিক উন্নয়ন তার সর্বজনীন চরিত্র থেকে বিচ্যুত হয় না। উৎপাদনের ফলে সর্বজনভোগ্য হয়। নেতৃত্বে, শাসনযন্ত্রে আদর্শহীনতার দূষণ ঘটলেই যত বিপত্তি।

তিন.

খ্রিস্টাব্দ ২০১৭। বিশ্বের দেশে দেশে রুশী অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষ উদ্যাপিত হচ্ছে উৎসাহী আবেগে। তবে তা কতটা আদর্শনিষ্ঠার টানে, কতটা আনুষ্ঠানিকতায়—তার প্রমাণ মিলবে পরবর্তী সময়ের কর্মকাণ্ডের বিচার-বিশ্লেষণে। বাংলাদেশও এ মহৎ উদ্যাপনের অংশীদার। এখানে অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে জাতীয় কমিটি গঠিত হয়েছে। চলছে কর্মোদ্যোগ সমাজের আদর্শনিষ্ঠ বিভিন্ন শ্রেণি—যেমন শিক্ষিত শ্রেণি থেকে শ্রমিক-কৃষক শ্রেণির এবং নারী ও ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে। রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। এসব উদ্যোগের পরিণাম স্পষ্ট হবে আনুষ্ঠানিকতার শেষে।

অক্টোবর বিপ্লবের আদর্শ ও সাফল্য এবং তার বৈপ্লবিক অর্জনের সূত্রাকার উল্লেখ অতি সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে। কেউ যদি বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ পরবর্তী অর্জন ও উন্নয়নের চরিত্র এ প্রেক্ষাপটে তুলনায় আনতে চান, তাহলে দেখা যাবে যে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে যা কিছু উন্নতি, যা কিছু অর্জন সবই শ্রেণিবিশেষের অর্থনৈতিক স্বার্থনির্ভর। মধ্যবিত্ত বা উচ্চ মধ্যবিত্ত, পেশাজীবী, বৃহৎ ব্যবসায়ী থেকে শিল্পপতি, সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্রসহ অনুরূপ শ্রেণির অর্থনৈতিক সামাজিক শ্রীবৃদ্ধি আকাশচুম্বী। স্বভাবতই তা সমাজে প্রবল বৈষম্য সৃষ্টি করেছে।

একুশের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জনমানসের যেসব আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছিল তার পরিণাম শ্রেণিবিশেষের ভোগেই লেগেছে, জনসাধারণের ভোগে নয়। পেশাজীবী, আমলাতন্ত্র, শাসনযন্ত্র যেমন আত্মকেন্দ্রিক তেমন প্রবল শক্তিমান। এবং তা সামাজিক-রাজনৈতিক সর্ববিধ বিবেচনায়। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল তাদের হাতের মুঠোয়।

সবচেয়ে বড় সামাজিক দুঃসংবাদ সর্বব্যাপী দুর্নীতি, যা সব সুসম্ভাবনা নষ্ট করে নিচ্ছে। সামাজিক সন্ত্রাস, ব্যক্তিগত সন্ত্রাস, রাজনৈতিক সন্ত্রাস সমাজের স্বার্থই নষ্ট করছে না, নাগরিকদের নিরাপত্তা অনিশ্চিত করে তুলছে। সমাজের বিরাজমান অস্থিরতা, শিশুহত্যা, শিশু ধর্ষণ, নারী ধর্ষণ, নারী হত্যা ও নির্যাতন সংবাদপত্রে প্রাত্যহিক খবর হয়ে উঠেছে। নারীর সম-অধিকার অনেক দূর-অস্ত্।

অন্যদিকে শাসনযন্ত্রে ও সমাজে বেড়েছে সাম্রাজ্যবাদী প্রভাব, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের। করপোরেট পুঁজি ও ভোগবাদী আদর্শের প্রভাব সমাজের উচ্চস্তরে প্রকট হয়ে উঠেছে। এ প্রভাব পরিবারপ্রধান থেকে উত্তরসূরিতে সংক্রমিত। মাদকাসক্তি বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজে এক ব্যাপক অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর কোনো কার্যকর প্রতিরোধ বা চিকিৎসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

গণতন্ত্র, ব্যক্তিক নিরাপত্তা, উন্নততর জীবনাদর্শ বাংলাদেশের সমাজে দৃশ্যমান নয়। শিক্ষাব্যবস্থার সর্বত্র দূষণ। তার চেয়ে বড় কথা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা দুর্মূল্য পণ্যে পরিণত, দুস্থ ও নিম্ন-আয় মানুষের তা নাগালের বাইরে। নিম্নবর্গীয়দের মধ্যে কথিত যে উন্নতি তা শুষে নিচ্ছে নিয়মিত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি। সম্প্রতি চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি একটি উদাহরণ। যার কোনো সুব্যবস্থা এখনো হয়নি। বহু উদাহরণের এই একটিতেই শোনা যায় সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট বহু কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যেই কাঁচা বাজারে নতুন উৎপাত—কাঁচা মরিচের কেজি ২০০ টাকার ওপরে। ভাবা যায়?

সাদামাটা বেগুন তাতেও আগুন লেগেছে। বৃহৎ ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো।

মনে হয়, এ সবকিছুই দুর্ঘটনা বা দুঃস্বপ্ন। কিন্তু তা নিয়মিতই ঘটে চলেছে। হতাশ মানুষ প্রতিবাদ করতে ভুলে গেছে। ছোটখাটো এসব ঘটনা উল্লেখের কারণ এগুলোর দুর্যোগ মানুষকে ভীষণ এক চাপের মধ্যে বেঁধে রেখেছে। অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এদের কেউ কেউ দুর্নীতির দিকে হাত বাড়াচ্ছে। এককথায় সামাজিক নৈরাজ্য সর্বগ্রাসী চরিত্র অর্জন করতে চলেছে।

এর ফলে যা কিছু ইতিবাচক অর্জন, তার সদর্থক চরিত্র বিবেচনায় আসছে না। সুশাসন কি এমন এক সামাজিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে? জাতীয়তাবাদী চেতনার যা কিছু ইতিবাচক, তা নেতিবাদে পরিণত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি এমন অবস্থা সমর্থন করবে বা প্রস্তুত ছিল এমন কিছুর জন্য?

এ অবস্থায় অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষ উদ্যাপন একটি মাত্র আকাঙ্ক্ষাই তুলে ধরতে পারে। আর তা হলো, অবস্থার জনবান্ধব পরিবর্তনে অক্টোবর বিপ্লবের অনুরূপ সমাজবদলের পক্ষে একটি বিপ্লব, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সুদূরপরাহতই বলা চলে। তবু মানুষের আশা ও স্বপ্নের মৃত্যু নেই।

 

লেখক : কবি, গবেষক ও ভাষাসংগ্রামী


মন্তব্য