kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো। ধারাবাহিক

পারিবারিক কাঠামো সামাজিকীকরণে সহায়তা করে

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পারিবারিক কাঠামো সামাজিকীকরণে সহায়তা করে

৭২. আল্লাহ তোমাদের থেকে তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের যুগল থেকে তোমাদের জন্য পুত্র-পৌত্রাদি সৃষ্টি করেছেন। আর তোমাদের উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছেন। তবু কি তারা মিথ্যা বিষয়ে বিশ্বাস করবে? তারা কি আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করবে? [সুরা : নাহল, আয়াত : ৭২ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : মহান আল্লাহ মানুষের গোত্রভুক্ত করে এবং মানুষের আকৃতিতে স্ত্রী জাতিকে সৃষ্টি করেছেন। এতে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে হৃদ্যতা গড়ে ওঠার সুযোগ হয়েছে। যদি স্ত্রী জাতিকে মানুষ ছাড়া অন্য গোত্রভুক্ত করা হতো, তাহলে তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলা ও ভালোবাসার সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব হতো না।

সন্তান জন্মদান ও বংশবিস্তার বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিয়ের মাধ্যমে এক পরিবারের সঙ্গে আরেক পরিবারের আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পানি থেকে। অতঃপর তিনি তার বংশগত ও বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন।’ (সুরা : আল ফুরকান, আয়াত : ৫৪)

স্বামী-স্ত্রীর দৈহিক সম্পর্কের মাধ্যমে সন্তান জন্ম নেওয়ার ফলে মুসলিম উম্মাহর সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে মুসলিম উম্মাহ একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দণ্ডায়মান হয়। এ জন্য নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা এমন নারীদের বিয়ে করবে, যারা স্বামীদের অধিক ভালোবাসে এবং অধিক সন্তান প্রসব করতে সক্ষম। কেননা আমি (কিয়ামতের দিন) তোমাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে (আগের উম্মতদের ওপর) গর্ব বোধ করব।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২০৫০)

শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভি (রহ.) লিখেছেন, ‘স্বামী ও স্ত্রীর ভালোবাসার মাধ্যমে পারিবারিক কল্যাণ পূর্ণ হয় এবং বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে সভ্যতা ও জাতির কল্যাণ পূর্ণতা লাভ করে। আর স্বামীর প্রতি স্ত্রীর ভালোবাসা তার মেজাজের সঠিকতা ও স্বভাব-চরিত্রের দৃঢ়তা নির্দেশ করে।...এতে তার লজ্জাস্থান ও দৃষ্টির পবিত্রতা নিশ্চিত হয়।’ (হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা)

বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রেম-ভালোবাসার যে ফল্গুধারা প্রবাহিত হয়, তা পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর মানবপ্রেমে মানুষকে উজ্জীবিত করে। বিয়ের ফলে স্ত্রী-সন্তানদের জন্য উপার্জনে প্রবৃত্ত হয়। ফলে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্পদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। আবিষ্কৃত হতে থাকে নিত্যনতুন খনিজ সম্পদ।

বিয়ের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য লাভ করা যায় এবং আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি পায়। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা বিয়েহীন, তাদের বিয়ে সম্পাদন করো এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও। তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ তো প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা : আন নূর, আয়াত : ৩২)

বিয়ে কর্তব্যপরায়ণতার প্রশিক্ষণক্ষেত্র। এখান থেকে মানুষ নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে সমাজের মানুষের প্রতি তার যে দায়িত্ব আছে, সে ব্যাপারে সজাগ হয়।

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য