kalerkantho


পিছিয়ে নেই বাংলা ভাষাও

ইন্টারনেট-কম্পিউটারের বেশির ভাগই ইংরেজি, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য ভাষাও ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে। পিছিয়ে নেই বাংলা ভাষাও। সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তির বিভিন্ন প্রায়োগিক ক্ষেত্রে বাংলার সহজ ব্যবহার ও সুবিধা নিয়ে লিখেছেন তুসিন আহম্মেদ ও এস এম তাহমিদ

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পিছিয়ে নেই বাংলা ভাষাও

ইলাস্ট্রেশন : দেওয়ান আতিকুর রহমান

বাংলায় লিখে আয়

গত ডিসেম্বরে বাংলা ভাষার ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাডসেন্স ব্যবহারের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তাই বাংলায় লেখালেখি করে আয় করা যাবে গুগল অ্যাডসেন্স। অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে কোনো ওয়েবসাইটের মালিক কিছু শর্ত সাপেক্ষে নিজের সাইটে গুগল নির্ধারিত বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের মাধ্যমে আয় করতে পারেন। অ্যাডসেন্সের নিয়ম সম্পর্কে জানা যাবে https://goo.gl/1xq7SH থেকে। অ্যাডসেন্সের নিবন্ধনের জন্য যেতে হবে https://goo.gl/YDHPn2 ঠিকানায়।

 

ফেইসবুকও বাংলায় 

বিশ্বের বেশির ভাগ ব্যবহারকারী ফেইসবুকে ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগ করেন। তবে ভিন্ন ভাষাভাষীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগের এই সাইটে সম্প্রতি পছন্দমতো ভাষা নির্বাচনের সুবিধা চালু করেছে। এর মধ্যে বাংলাও আছে।

ফেইসবুকে বাংলা ভাষা নির্বাচন করতে লগইন করে ফেইসবুকের ডান পাশের setting-এ ক্লিক করতে হবে। পরের ক্লিকটি করতে হবে বাঁ পাশে থাকা language-এ। পরে ডান পাশ থেকে ‘What language do you want to use Facebook in?’ অপশনে ক্লিক করে বাংলা ভাষায় নির্বাচন করে দিতে হবে। তাহলে সম্পূর্ণ ফেইসবুকে ইন্টারফেস বাংলায় হয়ে যাবে।

এবার General Account Settings-এ গিয়ে Language অপশনে বাংলা ভাষা নির্বাচন করে দিতে হবে। পেইজটি রিফ্রেশ দিলেই পছন্দের ভাষা হিসেবে বাংলা দেখা যাবে। ফেইসবুকে লিখতে হবে ইউনিকোডে।

 

গুগল ও জিবোর্ডে কণ্ঠ দিয়ে বাংলা লেখা

মুখে কথা বললে হাতের কোনো স্পর্শ ছাড়াই আপনার কথা লেখা হয়ে যাবে। বিশ্বব্যাপী এমন প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন না হলেও সুবিধাটি (সফটওয়্যার) এত দিন ছিল ইংরেজির জন্য।

এখন এটি বাংলায়ও করা যায়। এ জন্য ইনস্টল করে নিতে হবে জিবোর্ড অ্যাপটি। https://goo.gl/4zUkQH থেকে জিবোর্ড ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে হবে।

 

মাইক্রোসফট ট্রান্সলেটরে বাংলা  

ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ এত দিন শুধু গুগলেই ছিল। এবার সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট ট্রান্সলেটরেও ভাষা হিসেবে বাংলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বাংলা ট্রান্সলেটরে ভাষার অনুবাদ তাত্ক্ষণিক দেখতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। https://goo.gl/sUq3sd ঠিকানায় পাওয়া যাবে এটি।

 

ওয়ার্ডপ্রেসে বাংলা লেখা

কম্পিউটারে কোনো বাংলা লেখার টুলস বা সফটওয়্যার না থাকলে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বাংলা লেখার সুবিধা যুক্ত করা যায়। এ কাজটি করতে ওয়ার্ডপ্রেসে ‘রয়েল বাংলা কি-বোর্ড’ নামে চমৎকার একটি প্লাগ-ইন রয়েছে। এর মাধ্যমে ইউনিজয় ও অভ্র ফনেটিক কি-বোর্ড লেআউটে লেখা যাবে। এতে স্থায়ীভাবে (ডিফল্ট) ইউনিজয় কি-বোর্ড দেওয়া থাকে। ব্যবহারকারী প্রয়োজনমতো কি-বোর্ড পরিবর্তন করে ইংরেজি বা অভ্র ফনেটিক নির্বাচন করে লিখতে পারেন।

এই কি-বোর্ডের সাহায্যে ব্যবহারকারীরা (ভিজিটররা) যেমন বাংলা লিখে সার্চ, কমেন্ট করতে পারবেন, তেমনি ডেভেলপাররা (ব্যাক-এন্ড) ড্যাশবোর্ডেও বাংলা লিখতে পারবেন। কোন সেটিংস পরিবর্তন বা বাড়তি কোনো টুল নির্বাচন করতে হবে না।

প্লাগ-ইনটি https://goo.gl/DyaYAb থেকে ডাউনলোড করে ওয়ার্ডপ্রেসের ড্যাশবোর্ডে গিয়ে ইনস্টল করে নেওয়া যাবে।

 

ম্যাকে বাংলা লেখা

অ্যাপলের ম্যাকবুক ব্যবহারকারীরা বাংলা লিখতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। উইন্ডোজের মতো কিন্তু ম্যাকেও বাংলা লেখা যায়। এ ক্ষেত্রে লাগবে বিজয় একাত্তর সফটওয়্যার। এতে আছে বিজয় ক্ল্যাসিক, বিজয় একাত্তর ও ইউনিকোড দিয়ে লেখার সুবিধা।

সফটওয়্যারটি ডাউনলোড ও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে https://goo.gl/AFbtPE ঠিকানায়।

যদি অভ্রর ফনেটিকে লিখে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন, তাহলে https://goo.gl/LvigC5 থেকে আইঅভ্র সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করে নিতে হবে। এ ছাড়া ম্যাকে ইউনিকোড লিখতে একুশে কি-বোর্ড ডাউনলোড করতে পারেন https://goo.gl/baMmb2 থেকে।

লেআউট ও ফন্ট ইনস্টল করার পরে পরবর্তী ধাপে প্রথমে ম্যাকের বাঁ পাশে থাকা অ্যাপল আইকনে ক্লিক করতে হবে। এরপর system preferences-এ ক্লিক করতে হবে। তারপর নতুন একটি পেইজ চালু হবে, সেখান থেকে keybord  অপশনে যেতে হবে।

সেখান থেকে input sources-এ গিয়ে নিচ থেকে ‘+’ আইকনে ক্লিক করতে হবে। এর পর সেখান থেকে নির্ধারণ ভাষার লেআউট নির্ধারণ করে ধফফ বাটনে ক্লিক করতে হবে। তাহলে বাংলায় লখা যাবে ম্যাকে। কি-বোর্ডের ভাষায় পরিবর্তন করতে control + space-এ ক্লিক করতে হবে।

 

বাংলা প্রগ্রামিং ভাষা

শৈশব থেকেই শিশুদের প্রগ্রামিংয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে বাংলা প্রগ্রামিং ভাষা হলো ‘পতাকা’ (http://potaka.io)। নবীনদের জন্য সহজ বাংলায় প্রগ্রামিংয়ের ধারণা দেওয়া ও প্রগ্রামিংয়ের প্রতি প্রেরণা জাগিয়ে তোলাই পতাকার প্রাথমিক উদ্দেশ্য। কোড রিপোজিটরির এবং ছোটদের জন্য ভিজ্যুয়াল গেইমের মাধ্যমে প্রগ্রামিং শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলবে পতাকা।

বাংলা লেখা বিজয় ও ইউনিকোডে পরিবর্তন

ইউনিকোডে লেখা বাংলা পরিবর্তন করার জন্য কনভার্টার রয়েছে। সেখানে একটি উইন্ডোতে ইউনিকোড বাংলা কপি করে কনভার্ট বাটন চাপলেই অন্য উইন্ডোতে সাধারণ বাংলা পাওয়া যাবে। সেখান থেকে টেক্সট কপি করে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে একটি ডকুমেন্ট খুলে সেখানে পেস্ট করে পুরোটা নির্বাচন করে কোনো একটি বিজয় ফন্ট নির্ধারণ করে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় সুতন্বি এমজে। তবে অভ্র কনভার্টারে ফন্ট ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে, ফলে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে বিএন ওয়েবটুলস (https://goo.gl/RX3Zzr) ওয়েবসাইট থেকে কনভার্ট করা বেশি সুবিধাজনক।

 

আরো বাংলা কি-বোর্ড লেআউট

বিজয় ও অভ্র ফোনেটিক ছাড়াও বেশ কিছু বাংলা লেখার কি-বোর্ড লেআউট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে, যেগুলো নানা কারণে বিজয় অথবা ফোনেটিকের চেয়ে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করার জন্য সহায়ক। এর মাঝে রয়েছে ইউনিজয়, প্রভাত, জাতীয় ও ইনস্ক্রিপ্ট।

প্রতিটি লেআউট অভ্র সফটওয়্যারটির মাধ্যমে ব্যবহার করা গেলেও সরাসরি ইনস্টল করে অপারেটিং সিস্টেমের মাঝেই লেআউটগুলো ব্যবহার করার সুবিধা থাকায় সেগুলো বেছে নেয় অনেকেই।

ইউনিজয় লেআউট নিয়ে প্রচুর বিতর্ক থাকলেও সম্পূর্ণ মুক্ত ও বিনা মূল্যে ডাউনলোড এবং ব্যবহারযোগ্য লেআউটটি বিজয় ব্যবহারকারীদের মাঝে ইউনিকোডে লেখার জন্য বেশ জনপ্রিয়। লেআউটটি তৈরি করেছেন বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবক প্রগ্রামার।

প্রভাত লেআউটটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে মূলত লিনাক্স ব্যবহারকারীদের মাঝে। প্রায় প্রতিটি লিনাক্স সিস্টেমেই লেআউটটি দেওয়া থাকে।

ইনস্ক্রিপ্ট লেআউটের জন্ম ভারতের বাঙালিদের মাঝে, লেআউটে যুক্তাক্ষরের শর্টকাট থাকায় অনেকেই সেটি বেছে নেয়।

জাতীয় লেআউটের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের গবেষণা। যদিও তারা এটি পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি, তবে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক জাতীয় লেআউটের কাছাকাছি এটিই।

প্রতিটি লেআউট সরাসরি উইন্ডোজ, ম্যাক ও লিনাক্সে ইনস্টল করে কোনো বাড়তি সফটওয়্যার ছাড়াই চালানো যাবে। প্রতিটি লেআউট পাওয়া যাবে https://goo.gl/JNJvAh ওয়েবসাইটে।

 

উইন্ডোজে বাংলা লেখা

বাংলা লেখার জন্য উইন্ডোজে দুটি সফটওয়্যার জনপ্রিয়—বিজয় ও অভ্র। বিজয় সফটওয়্যারটি আনন্দ কম্পিউটার্সের তৈরি, এটি বাজার থেকে কিনে পিসিতে ইনস্টল করতে হবে। ইনস্টল করার পর সফটওয়্যারটি কম্পিউটার চালুর সময় থেকেই কাজ করতে শুরু করবে। বাংলা লেখার জন্য মাইক্রোসফট ওয়ার্ড চালু করে বিজয়ের যেকোনো একটি ফন্ট নির্বাচন করতে হবে। তারপর বিজয় থেকে বাংলা মোড চালু করে লিখলেই হবে। বিজয়ের ক্ষেত্রে কি-বোর্ড লেআউট মাত্র একটি, বিজয়। এর মাধ্যমে অ্যানসি বাংলা ও ইউনিকোড—দুটিই ব্যবহার করা যাবে। উইন্ডোজ ছাড়াও ম্যাক ও লিনাক্সের জন্য বিজয়ের সংস্করণ রয়েছে। আরো জানতে যেতে হবে https://goo.gl/jXLiU7 ওয়েবসাইটে।


মন্তব্য