kalerkantho


দুই দিকে দুই ওএস

কিছুদিন আগেই অপারেটিং সিস্টেম (ওএস) এনেছে অ্যাপল ও গুগল। এ দুই ওএসের বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে লিখেছেন এস এম তাহমিদ

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দুই দিকে দুই ওএস

মডেল : আরমান ও তন্নি ছবি : তারেক আজিজ নিশক

আইওএসের নতুন সুবিধা

সিরি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ডিজিটাল সহকারী সেবা কাজে লাগিয়ে নিয়মিত প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন অনেকে। কিন্তু প্রতিদিন এক কণ্ঠে উত্তর শুনতে একঘেয়ে লাগতে পারে। সিরিকে তাই আরো প্রাণবন্ত করার ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। ব্যবহারকারী চাইলে একাধিক কণ্ঠস্বরে প্রশ্নের উত্তর দেবে সিরি। নতুন সংস্করণে আরো দুই কণ্ঠ যুক্ত করা হয়েছে। কোনো বাক্য ইংরেজি, চীনা, ফরাসি, ইতালীয় ও স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করেও শোনাবে সিরি। কথা বলতে ইচ্ছা না হলে লিখেও সিরিকে প্রশ্ন করা যাবে। সত্যিকারের সহকারী হিসেবে গড়ে তুলতে সিরির প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পদ্ধতিতেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। ব্যবহারকারীর সার্চ ইতিহাস, ডিভাইসে থাকা তথ্য এবং আগের বিভিন্ন প্রশ্ন যাচাই করে তারপর উত্তর দেবে সিরি। গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারীরাও এসব সুবিধা পাবেন।

ড্রাইভিং ডোন্ট ডিস্টার্ব : গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষেধ। অনেকেই এ নির্দেশনা মানেন না। দুর্ঘটনাও ঘটে। এবার ব্যবহারকারীর গাড়ি চালানোর তথ্য ব্লুটুথ ডিভাইস বা ওয়াই-ফাই ডপলার প্রযুক্তির সাহায্যে আইফোন শনাক্ত করবে। গাড়ি চলন্ত অবস্থায় ডিভাইসে আসা সব ধরনের বার্তার নোটিফিকেশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। বার্তা প্রেরকের কাছে ব্যবহারকারীর গাড়ি চালানোর খবরও পৌঁছে যাবে।

নতুনরূপে অ্যাপস্টোর, ম্যাপস, অ্যাপল মিউজিক : অ্যাপস্টোরের ইন্টারফেস ঢেলে সাজানো হয়েছে। নতুন এই ইন্টারফেসে অ্যাপের ফিচার, টপ চার্ট অ্যাপ ও গেইমের সন্ধান করা যাবে। পাওয়া যাবে অ্যাপ ও গেইমের পেছনের গল্পও।

পথনির্দেশক ‘অ্যাপল ম্যাপস’-এ যোগ হয়েছে ‘স্পিড লিমিট’, ‘লেন গাইডেন্স’ সুবিধা। আশপাশে থাকা বড় অফিস, শপিং মল বা এয়ারপোর্টের ভেতরের চিত্রও জানা যাবে। ‘অ্যাপল মিউজিক’-এ যুক্ত করা হয়েছে গানের তালিকা ও শিল্পী সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য। অ্যাপল ম্যাপসে ‘ইনডোর ম্যাপ’ ও অ্যাপস্টোরের ‘অ্যাপ নিউজ’ ছাড়া বাকি সব সুবিধা গুগলের প্লেস্টোর, প্লে মিউজিক ও অ্যাপল মিউজিকের অ্যানড্রয়েড অ্যাপের মাধ্যমেও উপভোগ করতে পারবে।

ক্লাউড মেসেজিং : আই-মেসেজে যুক্ত হয়েছে ক্লাউড মেসেজিং সুবিধা। এখন ডিভাইসে থাকা বার্তা আই-ক্লাউডে সংরক্ষণ করা যায়। ফলে নিজের আইফোন হাতের কাছে না থাকলেও অন্য যেকোনো আইফোন বা আইপ্যাড থেকে বার্তাগুলো পড়া যাবে।

কন্ট্রোল সেন্টার : ডিভাইসের হার্ডওয়্যার চালু-বন্ধ এবং অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ সুবিধায় নতুনত্ব আনা হয়েছে। ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথের মতো অপশনগুলোর সেটিংস পরিবর্তন সহজ হবে।

আইপ্যাড মাল্টি-টাস্কিং : আইপ্যাডে ম্যাক ওএসের মতো মাল্টি-টাস্কিং সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। ফলে আইপ্যাডে চালু থাকা সব অ্যাপ একসঙ্গে স্ক্রিনে দেখা যাবে।

অ্যাপ অটো ডিলিট : অনেক অ্যাপ ডাউনলোড করা হলেও ব্যবহার করা হয় কম। ডিভাইসে জমে থাকা এ ধরনের অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে দেবে ‘ইন-অ্যাক্টিভ অ্যাপ’ ফিচারটি।

স্ক্রিন রেকর্ডার : ফোনের স্ক্রিন রেকর্ড করার জন্য এত দিন বিশেষ সফটওয়্যার (জেইল ব্রেক) বা আলাদা ডিভাইস ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ত। আইওএস ১১-র সিস্টেমে অ্যানড্রয়েডে স্ক্রিন রেকর্ডিং যুক্ত হওয়ায় এই কাজ এখন নিজের ফোনেই করা যাবে।

 

অ্যানড্রয়েডে নতুন সুবিধা

পিকচার ইন পিকচার : একটি অ্যাপ চালানোর সময় নতুন অ্যাপ চালুসহ উইন্ডোটি ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণের সুযোগ করে দেবে ‘পিকচার ইন পিকচার’। আগের তুলনায় ইউটিউব ভিডিও, মিউজিক কন্ট্রোল, মাল্টি-টাস্কিং করা যাবে।

দ্রুত বুট : ডিভাইস বুট করার সময় আগের চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ গতিতে মোবাইল ফোন চালুর সুযোগ দেবে অপারেটিং সিস্টেমটি।

ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রেস্ট্রিক্ট : অ্যানড্রয়েডে প্রায় সব অ্যাপই চালু থাকে। ফলে প্রচুর ডাটা ও ব্যাটারি খরচ হয়। এই সমস্যার সমাধান আছে নতুন ওএসে। প্রয়োজনে সব অ্যাপ বন্ধ করা যাবে। এতে ব্যাটারি লাইফ বাড়বে বহুগুণ। এই ফিচারটি আইএস ৭-এর সঙ্গে যুক্ত করেছিল অ্যাপল।

কনটেক্সট বুঝে কপি পেস্ট : মোবাইল ফোনে ব্যবহারকারী ঠিক কোন তথ্য কপি করতে চাইছেন এবং সেটি কোথায় পেস্ট করবেন তা আগেভাগেই বুঝতে পারবে গুগল। যেমন—ই-মেইলে থাকা ঠিকানা নিজ থেকেই হাইলাইট করে গুগল ম্যাপস চালুর অপশন দেখাবে।

অ্যাডাপ্টিভ অ্যাপ আইকন, নোটিফিকেশন ডট : অ্যাপ্লিকেশন আইকনের আকার এখন থেকে গুগলই ঠিক করে দেবে। চাইলে আইকনগুলো এনিমেশনও করা যাবে।

অ্যাপ্লিকেশনের কোনো নোটিফিকেশন থাকলে আইকনের ওপরে একটি ডট দেখা যাবে। ফলে আইকনটিতে টাচ করেই দ্রুত নোটিফিকেশন বার্তা দেখা যাবে। অর্থাৎ মেসেজিং অ্যাপের ওপর ডট দেখলেই বোঝা যাবে নতুন বার্তা এসেছে। অ্যাপে প্রবেশ না করেও সেই বার্তার উত্তর দেওয়া যাবে।

নতুন ব্লুটুথ অডিও কোডেক : ব্লুটুথ হেডফোনের মিউজিক আরো মানসম্পন্ন ও অডিও ল্যাগ কমাতে সনির এলডিএসি অডিও কোডেক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে অ্যানড্রয়েড। ফলে এলডিএসি প্রযুক্তির হেডফোন ব্যবহার করা যাবে। পাওয়া যাবে উন্নত মানের শব্দ।

গুগল প্লে প্রটেক্ট : ডাউনলোড করা প্রতিটি অ্যাপের কোড গুগল প্লেস্টোরের সঙ্গে মিলিয়ে ডিভাইসকে ম্যালওয়্যারমুক্ত রাখবে গুগল প্লে প্রটেক্ট। অ্যাপে থাকা অপ্রয়োজনীয় ফিচার সম্পর্কে ব্যবহারকারীকে জানাবে।

অ্যাপ অটোফিল ও কালার গ্যামুট : ওয়েবসাইট ছাড়াও বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ করবে গুগল। ফলে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের আগে বারবার তথ্য দেওয়ার ঝামেলা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ডিভাইসে নিখুঁত রঙের ছবি ফুটিয়ে তুলতে বিশেষ ইন্টারফেস যুক্ত করা হয়েছে অ্যানড্রয়েড ও-তে।


মন্তব্য