kalerkantho


বদরগঞ্জ শহরের ‘দুঃখ’ যানজট

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রংপুরের বদরগঞ্জ পৌর শহরের প্রধান সমস্যা এখন যানজট। শহরের প্রধান সড়কে সহজে চলাচল করা যায় না। বিশেষ করে উত্তরের তিন-চার জেলার তেলবাহী ট্যাংক লরি পাশের উপজেলা পার্বতীপুরের তেল ডিপোতে চলাচলের জন্য দিন-রাত এ সড়ক ব্যবহার করে। পৌর শহরের কোনো কোনো ব্যবসায়ী সড়কটির ওপর বড় বড় ট্রাক থামিয়ে মালামাল লোড-আনলোড করানোয় ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে সড়কের দুই পাশের ফুটপাত অবৈধ দোকানদারের দখলে চলে যাওয়ায় যানজটের মাত্রা বেড়েছে আরো বেশি।

বাইপাস সড়ক না থাকায় উপজেলার ৬৬টি ইটভাটা থেকে প্রতিনিয়ত ইট বোঝাই করে শত শত ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচল করছে পৌর শহরের ভেতর দিয়ে। এ ছাড়া মালবাহী গাড়ি, ভটভটি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে যানজটের তীব্রতা বাড়ছে দিন দিন। পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার সড়কে যানজটে আটকে পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দুই মিনিটের পথ পার হতে সময় লাগছে আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা। অথচ উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় একাধিকবার যানজট নিয়ে তুমুল হৈচৈ হলেও প্রয়োজনীয় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে পৌর শহরে সপ্তাহে দুই দিন সোম ও বৃহস্পতিবার হাট বসে। এ দুই দিন শহরের ভেতর মালবাহী ট্রাক থেকে মাল ওঠানো-নামানোতে পৌর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা থাকলেও কোনো ব্যবসায়ী তা মানছে না। তারা প্রকাশ্যে সড়কের ওপর বড় বড় ট্রাক থামিয়ে ধান-চাল, সিমেন্টসহ বিভিন্ন মাল ওঠা-নামা করাচ্ছে। রাস্তা প্রশস্ত না হওয়ার কারণে পৌর শহরের ভেতর দিয়ে পাশের খোলাহাটি শহীদ মাহবুব সেনানিবাসের গাড়িসহ দূরদূরান্তে চলাচলকারী মানুষজন যানজটে আটকে পড়ে নাজেহাল হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চারজন চৌকিদার নিয়োগ দিলেও তারা যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বদরগঞ্জ পৌর শহরের ভেতর একাধিক রাস্তা দখল করে অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। রাস্তার ওপর বেপরোয়াভাবে অটোরিকশা, ভ্যান দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানোতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এর ওপর আছে সড়কের পাশের দোকানদারদের দখলবাজি। এতে রাস্তা আরো সংকুচিত হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে যানজটের কবলে পড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে রোগীদের। ইটভাটার ট্রলি, ট্রাক ও ট্রাক্টর সারা দিন পৌর শহরের ভেতর দিয়ে চলাচল করে। এসব যান কোনো নিয়ম-নীতি না মেনেই বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। যানজট থেকে মুক্তি পেতে বদরগঞ্জ পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি বাইপাস সড়ক নির্মাণ। সংসদেও একাধিকবার বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবি তোলা হয়; কিন্তু কার্যকর কোনো কিছুই হচ্ছে না।

রংপুর থেকে বদরগঞ্জগামী এ সড়কটির গুরুত্ব অনেক। বিশেষ করে রংপুর থেকে পার্বতীপুর চলাচলের ক্ষেত্রে একমাত্র এই সড়কটি ব্যবহৃত হয়। বিকল্প সড়ক না থাকায় খোলাহাটি শহীদ মাহবুব সেনানিবাস, মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্প ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে যেতেও সড়কটি ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া সড়কটির ওপর দিয়ে উপজেলার নাগেরহাট হয়ে মিঠাপুকুর, তারাগঞ্জ ও সৈয়দপুরে যেতে হয়। দিনাজপুরের পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর ও হাকিমপুরে সহজে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি। কিন্তু বাইপাস সড়ক না থাকায় প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে প্রধান সড়কটিতে প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে। ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কয়েকটি উপজেলার রোগীদের অ্যাম্বুল্যান্সে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হয়। অনেক সময় ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও যানজটে আটকে থেকে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না।

পৌর শহরের হক সাহেবের মোড় এলাকার বরুন কুণ্ডু বলেন, ‘যানজট এখন বদরগঞ্জ পৌর শহরের দুঃখে পরিণত হয়েছে। বাইপাস সড়ক না থাকায় দিন দিন ভয়াবহ যানজটের কারণে মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে’।

বদরগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সারওয়ার জাহান মানিক বলেন, ‘বাইপাস সড়কের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় দরকার।

পৌর মেয়র উত্তম কুমার সাহা বলেন, বদরগঞ্জ পৌরসভার পক্ষে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য স্থানীয় এমপির সদিচ্ছার প্রয়োজন আছে। যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে আমাদের নিজস্ব প্রচেষ্টায় চারজন চৌকিদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে হাটের দিন পৌর শহরের ভেতর কোনো ব্যবসায়ী যাতে মালামাল লোড-আনলোড করাতে না পারে সে জন্য তাদের অবগত করে ব্যানার লাগানো হয়েছে। কিন্তু কেউ কারো কথা মানছে না।’

রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক বলেন, ‘বদরগঞ্জে একটি বাইপাস সড়ক হবে, এটা আমারও দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। আমি বদরগঞ্জে যানজট নিরসনে এবং জনগণের প্রত্যাশিত দাবিটি পূরণে আপ্রাণ চেষ্টা করছি। জাতীয় সংসদে তিনবার বাইপাস সড়কের জন্য বক্তব্য উপস্থাপন করেছি। এ নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা যায়।’


মন্তব্য