kalerkantho


কুড়িগ্রামে জুয়ার আসর

প্রতি রাতে ১০ লাখ টাকা লেনদেন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



জুয়ার আসরে প্রতিরাতেই জড়ো হয় কমপক্ষে ১০০ মোটরসাইকেল ও তিনটি মাইক্রোবাস। রাত ১২টার পর চলে মচ্ছব। চলে ভোর রাত পর্যন্ত। দূরবর্তী জুয়াড়িদের আকৃষ্ট করতে মদের বিল আর গাড়িভাড়া ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। কোমরপুর ও আমসার বাজারের প্রহরা লাগিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রতিরাতে সোলারের বাতির আলোয় জমে ওঠে জুয়ার আসর। সেখানে লেনদেন হয় অন্তত ১০ লাখ টাকা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পেশাদার জুয়াড়িদের তত্ত্বাবধানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জ্ঞাতসারেই চলছে এই জুয়ার আসর। প্রায় দেড় মাস ধরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের চর কাগজিপাড়ায় চলছে এই জুয়ার আসর।

কুড়িগ্রাম সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ধরলা নদীর বাংটুর ঘাট। নদী পেরিয়ে বালুচর মাড়িয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের গ্রাম কাগজিপাড়া। গ্রামটি সদর উপজেলার শেষপ্রান্তে অবস্থিত। যাতায়াতের পথ দুর্গম। এই সুযোগে গ্রামের ব্রিজের মাথায় চলে রমরমা জুয়ার আসর।

এলাকাবাসী জানায়, রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত চলা জুয়ার আসরে নাগেশ্বরী, সদর ও ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জুয়াড়িরা হাজির হয়। প্রায় ৩০ জনের একটি দল জুয়ার আসর নিয়ন্ত্রণ করে। নেতৃত্বে রয়েছে উকিল, আলাউদ্দিন, কাদেরসহ চার-পাঁচজন। জেলা সদরের বাচ্চু নামের এক ব্যক্তি পুলিশ ও অন্যদের সঙ্গে লিয়াজোঁ রক্ষা করে। সে প্রতি রাতেই আসর থেকে তোলে ৪০ হাজার টাকা। এর পর তা ঘাটে ঘাটে বণ্টন করে বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। এ ছাড়া জুয়াতে রয়েছে তার অংশীদারি। এলাকাবাসী অভিযোগ করে, কেউ যাতে আসরে বাধা দিতে না পারে সে জন্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত থাকে জুয়াড়িরা। স্থানীয় মেম্বার মোক্তার হোসেন অভিযোগ করেন, ‘এলাকার পরিবেশ দূষিত করছে এই জুয়ার আসরটি। অথচ থানায় অভিযোগ করে কোনো কাজ হচ্ছে না।’

কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি এস এম আব্দুস ছোবহান বলেন, ‘যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে ওই জুয়ার আসরটি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।’ জুয়ার আসর থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘ঢালাওভাবে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। বাস্তবে এর কোনো সত্যতা নেই।’


মন্তব্য