kalerkantho


শরণার্থীদের জন্য ফুটবল মাঠ

নাবীল অনুসূর্য   

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



শরণার্থীদের জন্য

ফুটবল মাঠ

সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলছে সেই ২০১১ সাল থেকে। প্রাণে বাঁচতে অনেকেই আশপাশের দেশগুলোতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এখনো নিচ্ছে। এই যে লোকগুলো প্রাণের ভয়ে নিজের দেশ থেকে আরেক দেশে গিয়ে আশ্রয় নেয়, তাদেরই বলে শরণার্থী। সিরিয়া থেকে যাওয়া এই শরণার্থীদের জন্য আশপাশের দেশগুলোতে বেশ কয়েকটি আশ্রয়শিবির খোলা হয়েছে। তেমনই একটি জর্দানের আল-জাতারি আশ্রয়শিবির। খোলা হয়েছে সেই ২০১২ সালে। এত দিনে বেশ বড়সড় হয়ে গেছে। ওখানকার অস্থায়ী বসতিতে এখন প্রায় ৮০ হাজার সিরিয়ান শরণার্থী থাকছে।

ওখানে যে শরণার্থীদের থাকা-খাওয়ার খুব একটা সুবন্দোবস্ত নেই, তা তো বলাই বাহুল্য। তারা কবে নিজ নিজ বাড়ি ফিরতে পারবে, তারও কোনো ঠিক নেই। আশ্রয়শিবিরটির বয়সই অর্ধযুগ পেরিয়ে যাচ্ছে। মানে, ওখানে যেসব ছেলে-মেয়ের ঠাঁই হয়েছে, তাদের শৈশব-কৈশোরের পুরোটাই পেরিয়ে যাচ্ছে ওখানেই। আর সেই সব ছেলে-মেয়ের জন্যই উয়েফা আর ফিফা মিলে নিয়েছে চমত্কার এক উদ্যোগ। তারা ওই আশ্রয়শিবিরে একটি ফুটবল মাঠ তৈরি করে দিয়েছে। একদম সত্যিকার সাইজের ফুটবল মাঠ। বেশ খরুচে ও আধুনিক মাঠটিতে বসানো হয়েছে কৃত্রিম টার্ফ বা ঘাসের চাপড়া। শুধু দর্শকদের বসার জায়গা আর অন্যান্য সুবিধা নেই বলে ওটাকে স্টেডিয়াম বলা যাচ্ছে না।

মাঠটি তৈরির টাকা এসেছে উয়েফার ফাউন্ডেশন ফর চিলড্রেন আর জর্দানের এশিয়ান ফুটবল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট থেকে। কিন্তু সে টাকার পরিমাণ কত, তা অবশ্য কেউ-ই জানায়নি। তবে এটা জানানো হয়েছে যে এই একটা মাঠ দিয়ে ওই শরণার্থী শিবিরের ছোট-বড়, বুড়ো মিলিয়ে সাড়ে চার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। এদিকে সিরিয়ানরা যে সত্যি ফুটবল ভালোবাসে এর প্রমাণ তাদের জাতীয় ফুটবল দল। যাদের দেশে আধা যুগেরও বেশি দিন ধরে যুদ্ধ চলছে, যারা নিজেদের দেশে ফুটবল খেলতে পারে না, তারা কিন্তু বিশ্বকাপ খেলার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল।

হ্যাঁ, সিরিয়া জাতীয় ফুটবল দল এবার একদম শেষ মুহূর্তে গিয়ে বাদ পড়েছে বিশ্বকাপ থেকে। এশিয়া থেকে বিশ্বকাপে খেলে পাঁচটি দল। চূড়ান্ত বাছাই পর্বে দেশগুলোকে দুই গ্রুপে ভাগ করে খেলা হয়। দুই গ্রুপের তৃতীয় সেরা দল দুটির মধ্যে প্লে-অফ হয়। সেই প্লে-অফেও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দুই লিগেই ১-১ গোলে ড্র করেছিল সিরিয়া। শেষ ম্যাচে তাই অতিরিক্ত সময় খেলা হয়। সেই অতিরিক্ত সময়ের গোলেই বাদ পড়ে সিরিয়ানরা।

 



মন্তব্য