আল ইনশিরাহ পবিত্র কোরআনের ৯৪ নম্বর সুরা। এটি মক্কায় সুরা আদ-দুহার পরে অবতীর্ণ হয়েছে। এর মোট আয়াত আটটি। এ সুরার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে।
আল ইনশিরাহ পবিত্র কোরআনের ৯৪ নম্বর সুরা। এটি মক্কায় সুরা আদ-দুহার পরে অবতীর্ণ হয়েছে। এর মোট আয়াত আটটি। এ সুরার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে।
বক্ষ বিদারণ স্বতন্ত্র মুজিজা
বক্ষ বিদারণ আর বক্ষ উন্মুক্তকরণের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
আর বক্ষ বিদারণ শুধু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটা তাঁর স্বতন্ত্র একটি মুজিজা।
প্রথমবার বক্ষ বিদারণ
রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথমবার বক্ষ বিদারণের সময় হালিমা সাদিয়ার তত্ত্বাবধানে ছিলেন। একবার তিনি দুধ ভাইয়ের সঙ্গে জঙ্গলে যান। তখন এটি সংঘটিত হয়। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জিবরাইল (আ.) এলেন, তখন তিনি শিশুদের সঙ্গে খেলছিলেন। তিনি তাঁকে ধরে শোয়ালেন এবং বক্ষ বিদীর্ণ করে তাঁর হৃৎপিণ্ড বের করে আনলেন। তারপর তিনি তাঁর বক্ষ থেকে একটি রক্তপিণ্ড বের করলেন এবং বলেন, এ অংশ শয়তানের। এরপর হৃৎপিণ্ড একটি স্বর্ণের পাত্রে রেখে জমজমের পানি দিয়ে ধৌত করলেন এবং তাঁর অংশগুলো জড়ো করে আবার তা যথাস্থানে পুনঃস্থাপন করলেন। তখন ওই শিশুরা দৌড়ে তাঁর দুধ মায়ের কাছে গেল এবং বলল, মুহাম্মদ (সা.)-কে হত্যা করা হয়েছে। কথাটি শুনে সবাই সেদিকে এগিয়ে গিয়ে দেখল তিনি ভয়ে বিবর্ণ হয়ে আছেন! আনাস (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বক্ষে সে সেলাইয়ের চিহ্ন দেখেছি। (মুসলিম, হাদিস : ৩১০)
এই বক্ষ বিদারণের রহস্য ছিল তাঁর কলবকে পবিত্র ও অন্যায় প্রবণতা থেকে মুক্ত করে দেওয়া, যাতে পাপ প্রবণতার শেষ চিহ্ন পবিত্র কলবে অবশিষ্ট না থাকে।
দ্বিতীয়বার বক্ষ বিদারণ
দ্বিতীয়বার ১০ বা ২০ বছর বয়সে এক ময়দানে জিবরাইল (আ.) ও মিকাইল (আ.) তাঁকে শোয়ায়ে বক্ষ বিদারণ করেন। এতে কোনো রক্ত বের হয়নি। কোনো কষ্টও অনুভব করেননি। তখন একজন পানি আনয়ন করেন, দ্বিতীয়জন কলব ধৌত করেন। এটা দ্বারা হিংসা-বিদ্বেষকে একটি রক্তপিণ্ডের মতো বের করে ফেলে দেন। আর স্নেহ-মমতাকে রৌপ্যের টুকরার মতো একটি পিণ্ড আকারে অন্তরে প্রবিষ্ট করিয়ে দেন। অতঃপর বক্ষ বন্ধ করে তাতে একটি জিনিস ওষুধের মতো লাগিয়ে দেন। এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অন্তরে স্নেহ-মমতা, দয়া ও অনুগ্রহ প্রবল হয়ে ওঠে। আর যৌবনের সর্বপ্রকার কু-বাসনা দূর হয়ে যায়। (তাফসিরে জালালাইন : ৭/৫০৬)
তৃতীয়বার বক্ষ বিদারণ
তৃতীয়বার যখন তিনি হেরা গুহায় ছিলেন তখন বক্ষ বিদারণ করা হয়। তা এ জন্য যে পবিত্র কলব ওহির রহস্য ও আল্লাহর ইলম গ্রহণ এবং বহনে যেন সক্ষম হয়। (সীরাতে মুস্তফা : ১/৮০)
চতুর্থবার বক্ষ বিদারণ
চতুর্থবার মিরাজে গমনের সময় বক্ষ বিদারণ করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র কলব যাতে ফেরেশতাজগতে ভ্রমণ, আল্লাহর নিদর্শন পর্যবেক্ষণ ও আল্লাহর সরাসরি নির্দেশ হৃদয়ঙ্গম করার ক্ষমতার অধিকারী হয়। আনাস ইবনে মালেক (রা.) বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমার কাছে ফেরেশতা আসলেন এবং তাঁরা আমাকে নিয়ে জমজমে গেলেন। আমার বক্ষ বিদীর্ণ করা হলো। তারপর জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে আমাকে নির্ধারিত স্থানে ফিরিয়ে আনা হলো। (বুখারি, হাদিস : ৩৬০৮)
এভাবে বারবার বক্ষ বিদারণ করে আল্লাহ তাআলা দৈহিক ও আত্মিকভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বক্ষ উন্মুক্ত ও সম্প্রসারিত করেছেন। ফলে তাঁর শরীর ও হৃদয় এমন জ্যোতির্ময় হয়েছিল যে প্রখর সূর্য কিরণের মধ্যেও তাঁর শরীরের ছায়া প্রতিবিম্বিত হতো না।
সম্পর্কিত খবর
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে এক যুগ ধরে কাজ করছেন লুকাস ক্লেমেন্টে। দীর্ঘ এই সময়ে কথা হয় এক মুসলিম সহকর্মীর সঙ্গে। তার কথায় মুগ্ধ হয়ে ইসলাম ও অন্য ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করেন লুকাস। পরে ৩৫ বছর বয়সে দীর্ঘদিন চিন্তা-ভাবনার পর অবশেষে ইসলাম গ্রহণ করেন।
ইতালির মিলানে জন্ম নেওয়া ক্লেমেন্টে প্রথমে বারটেন্ডিং হিসেবে ব্রাসেলসে যান। মূলত তিনি তার এক বন্ধুর কাছ থেকে অফারটি পেয়েছিলেন। তখন ব্রাসেলস সম্পর্কে তার কোনো জানাশোনা ছিল না। এমনকি ফ্রেঞ্চ ভাষাও তার জানা ছিল না।
ক্লিমেন্টে জানান, তিনি যে হোটেলে থাকতেন সেখানে মরক্কোর একজন রিসেপশনিস্টের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। মূলত ওই ব্যক্তি সঙ্গে কথা বলতে বলতে এক সময় তার আধ্যাত্মিক যাত্রা শুরু হয়। তাদের মধ্যে প্রায়ই ধর্মীয় বিষয়সহ নানা বিষয়ে আলোচনা হতো।
ক্লিমেন্টে বলেন, ‘আমি স্রষ্টায় বিশ্বাস করতাম না। ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে আমরা বিতর্ক করতাম।
স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করার পর ক্লেমেন্ট কোন ধর্ম সবচেয়ে সঠিক সেই প্রশ্নের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তিনি বৌদ্ধ ধর্ম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে গবেষণা করেন। ইসলাম সম্পর্কে জানার পর কোরআনের অনস্বীকার্য প্রমাণ এবং অলৌকিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার খোঁজ পান যা তিনি উপেক্ষা করতে পারেননি।
ক্লেমেন্ট বলেন, ‘কোরআনের প্রথম যে বিষয় আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল তা হলো এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। এমনকি তাতে ভ্রূণের বিকাশ সম্পর্কে বিবরণ রয়েছে।’
ক্লেমেন্ট বলেন, কেবল বৈজ্ঞানিক দিকগুলোই তাকে প্রভাবিত করেনি, বরং মুসলিম সমাজের চরিত্রও তাকে প্রভাবিত করেছে। মুসলিমরা সাধারণত বেশি উদার, বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল। ইসলাম সামাজিক আচরণকে যেভাবে প্রভাবিত করে তিনি এর প্রশংসা করেন।
তা ছাড়া একজন ইমামের কথাও ক্লেমেন্টের মধ্যে স্থায়ী প্রভাব ফেলেছিল। ইমাম তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘তুমি কি মনে করো, তোমার কবজির ঘড়িটি কোনো স্রষ্টা ছাড়াই অস্তিত্বে এসেছে? সে বলেছিল, না। তখন ইমাম বলেছিল, তাহলে তুমি কিভাবে ভাবতে পারো যে একজন মানুষ একজন স্রষ্টা ছাড়া অস্তিত্বে এসেছে?’ ক্লেমেন্ট এই প্রশ্নটি নিয়ে চিন্তা করে বুঝতে পারেন, একটি উচ্চতর শক্তির অস্তিত্ব কাকতালীয় বিষয় নয়।
ক্লেমেন্ট বলেন, ‘যখন আমি মুসলিম হই তখন আমি আমার হৃদয়ে এমন কিছু অনুভব করি। তা এমন কিছু যা আপনি ব্যাখ্যা করতে পারবেন না। কেবল অনুভব করতে পারবেন। আপনি সুন্দর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি অনুভব করেন। তা একটি অবর্ণনীয় অনুভূতি, কিন্তু তা বাস্তবতার সারাংশ।’
ইসলাম গ্রহণের পর তার আধ্যাত্মিক রূপান্তরের বর্ণনা দিতে গিয়ে ক্লেমেন্ট বলেন, ‘প্রথমে আমি সন্দেহের মন নিয়ে ইসলামের দিকে এগিয়ে যেতাম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা একটি আধ্যাত্মিক জাগরণে পরিণত হয়। আপনি আপনার দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম প্রয়োগ করতে শুরু করেন। নামাজ, রোজাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে থাকেন। আমি পার্থক্য অনুভব করতে শুরু করেন। যেদিন আমি মুসলিম হয়েছিলাম, সেদিনই আমি আমার হৃদয়ে কিছু অনুভব করেছিলাম। এটি ছিল গভীর শান্তির অনুভূতি।’
তা ছাড়া ক্লেমেন্ট একটি স্বপ্নের কথাও বর্ণনা করেন। তিনি দেখেন, একজন নাস্তিক বন্ধুর সঙ্গে তিনি দৌড়াচ্ছিলেন। পথের সব বাধা অতিক্রম করে তিন স্বপ্নে দৌড়ে জয়ী হন। তিনি বলেন, ‘তা আমার কাছে একটি পূর্বাভাস ছিল, আমি সঠিক পথে আছি।’
ইসলাম গ্রহণের পর ক্লেমেন্টের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। তিনি বলেন, ‘আগে আমি টাকা হারানোর ভয় করতাম। আমি ঝুঁকি নিতে পারতাম না।ভয় করতাম যে আমি যা বিনিয়োগ করেছি তা হারাব। কিন্তু বিশ্বাস গ্রহণের পর আমি নৈতিক, শারীরিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জন করে বুঝতে পারি, সবকিছুই আল্লাহর কাছ থেকে আসে। একবার আপনি তা বুঝতে পারলে ভয় অদৃশ্য হয়ে যায়।’
ক্লেমেন্ট আরো বলেন, ‘আমি আমার সব খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করেছি। আমি মদ্যপান ও ধূমপান বন্ধ করেছি। আমার মনোযোগ উন্নত হয়েছে। আমি বুঝতে পারি, আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমি কোনো কিছুতে মনোনিবেশ করতে পারতাম না। ৩৫ বছর বয়সে আমি আমার ক্যারিয়ার এবং পরিবার গড়ে তুলেছি। অন্যদিকে ইতালিতে আমার সমবয়সী বন্ধুরা এখনও তাদের বিশের কোঠায় বসবাস করছে।’
আধ্যাত্মিক সংকটে ভোগা তরুণদের উদ্দেশে ক্লেমেন্ট বলেন, ‘ইসলাম হলো আপনার সব সমস্যার সমাধান। তা একটি উন্নত জীবনের দিকে পরিচালিত করে। ইসলামের অভ্যন্তরীণ দিক ব্যাখ্যা করা কঠিন, তবে যৌক্তিক দিকগুলো স্পষ্ট। ইসলাম অনুসারে জীবনযাপন আপনাকে শক্তি, মনোযোগ ও উদ্দেশ্যের দিকে এগিয়ে নেবে।’
তথ্য সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
মানুষের মৃত্যুর পর প্রথম আবাসস্থল কবর। মুমিনদের সেখানকার অধিবাসীর জন্য দোয়া করতে বলা হয়েছে। রাসুল (সা.) নিয়মিত কবর জিয়ারত করতেন এবং দোয়া করতেন। হাদিসে বর্ণিত একটি দোয়া হলো-
السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ، مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ، أنتُم لنا فرَطٌ ونحنُ لَكم تبعٌ، أَسْاَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ
উচ্চারণ : আসসালামু আলাইকুম আহলাদ দিয়ার।
অর্থ : হে গৃহের অধিবাসী মুমিন ও মুসলিমরা, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় আপনাদের সঙ্গে মিলিত হব। তোমরা আমাদের অগ্রগামী এবং আমরা তোমাদের অনুসরণকারী। আমি আল্লাহর কাছে আমাদের ও তোমাদের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করি।
হাদিস : বুরাইদাহ আল-আসলামি (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) কবর জিয়ারতে গেলে তিনি দোয়াটি পড়তেন। (নাসায়ি, হাদিস নং : ২০৩৯)
পৃথিবীতে সুখে থাকার জন্য পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করা। হালাল পন্থায় তাদের আনন্দ দেওয়া। রাসুল (সা.) পরিবারের সদস্যদের যেমন নতুন নতুন বিষয় শিক্ষা দিতেন, তেমনি তাদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণও করতেন।
আমাদের সমাজের ধারণা যে পরিবারকে সব সময় শাসনে রাখলেই তারা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, সুপথে থাকবে। এটি ভুল ধারণা। পরিবারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে হবে, তাদের মাঝে মাঝে আনন্দ দিতে হবে, তাহলে তারা যেকোনো বিষয়ে তাদের পরিবারপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা করতে সাহস পাবে।
এতে আমাদের পরিবারের অনেক সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে। অনেক সময় পরিবারপ্রধানের ভয়ে স্ত্রী-সন্তানরা অনেক কথাই তাঁর সঙ্গে শেয়ার করতে পারে না। ফলে পরিবারপ্রধানের সঙ্গে তাদের অনেক বিষয়েই মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়, যা একটি সংসারে কখনোই শান্তি ডেকে আনে না। এখানে রাসুল (সা.)-এর এমন কিছু ঘটনা তুলে ধরা হলো, যেখানে রাসুল (সা.) তাঁর পরিবারকে আনন্দ দিয়েছেন।
কন্যা ও জামাতাকে আনন্দ দেওয়া : রাসুল (সা.) মাঝে মাঝে কথার ছলে তাঁর কন্যা ও জামাতাকেও আনন্দ দিয়েছেন। সাহল ইবনে সাদ (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) ফাতিমা (রা.)-এর গৃহে এলেন, কিন্তু আলী (রা.)-কে ঘরে পেলেন না। তিনি ফাতিমা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার চাচাতো ভাই কোথায়? তিনি বলেন, আমার ও তাঁর মধ্যে বাদানুবাদ হওয়ায় তিনি আমার সঙ্গে অভিমান করে বাইরে চলে গেছেন। আমার নিকট দুপুরের বিশ্রামও করেননি। অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সা.) এক ব্যক্তিকে বলেন, দেখো তো সে কোথায়।
উপরোক্ত হাদিসে রাসুল (সা.) তাঁর মেয়েকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই বলেছিলেন, ‘তোমার চাচাতো ভাই কোথায়?’ আবার আলী (রা.)-কে ধুলাবালিতে শুয়ে থাকতে দেখে ‘আবু তুরাব’ বলার উদ্দেশ্যও ছিল আনন্দ দেওয়া।
স্ত্রীকে আনন্দ দেওয়া : রাসুল (সা.) তাঁর স্ত্রীদেরও আনন্দে রাখতে পছন্দ করতেন। তিনি তাঁদের আনন্দ নষ্ট হয় এমন কাজ করতে অপছন্দ করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, আমার বান্ধবীরাও আমার সঙ্গে খেলা করত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলত। (বুখারি, হাদিস : ৬১৩০)
এমনকি রাসুল (সা.) হজরত আয়েশা (রা.)-কে আনন্দ দেওয়ার জন্য তাঁর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন। আয়েশা (রা.) বলেন, তিনি এক সফরে নবী (সা.)-এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। অতঃপর আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম, এবার তিনি আমাকে পিছে ফেলে দিলেন, বিজয়ী হলেন। তিনি বলেন, এই বিজয় সেই বিজয়ের বদলা। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৫৭৮)
নাতি-নাতনিদের আনন্দ দেওয়া : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে ইশার নামাজ পড়ছিলাম। রাসুল (সা.) সিজদা করলে হাসান-হুসাইন লাফ দিয়ে তাঁর পিঠে উঠত। রাসুল (সা.) সিজদা থেকে ওঠার সময় তাদের হাত দিয়ে নামিয়ে দিতেন। তিনি আবার সিজদা করলে তারাও আবার পিঠে উঠত। এভাবে তিনি নামাজ শেষ করেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৭৮৭৬)
অন্যান্য হাদিসে রাসুল (সা.) স্বীয় নাতনি উমামা বিনতে আবুল আসকেও আনন্দ দিয়েছেন বলে জানা যায়। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে রাসুল (সা.)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
নীতিবান শাসকদের জন্য ইহকাল ও পরকালে সুসংবাদ রয়েছে। তাদের মাধ্যমে পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ সুফল ভোগ করে। পাশাপাশি ন্যায়-ইনসাফের কারণে তাদরে জন্য আসমান ও জমিনের অসংখ্য সৃষ্টি কল্যাণের দোয়া করতে থাকেন। হাদিস শরিফে এসেছে,
وَعَن عِياضِ بن حِمارٍ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُأهلُ الجَنَّةِ ثَلاَثَةٌ : ذُو سُلطَانٍ مُقْسِطٌ مُوَفَّقٌ وَرَجُلٌ رَحيمٌ رَقِيقُ القَلْبِ لكُلِّ ذي قُرْبَى ومُسْلِمٍ وعَفِيفٌ مُتَعَفِّفٌ ذُو عِيالٍ رواه مسلم
অর্থ : ইয়াজ বিন হিমার (রা.) বলেছেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, জান্নাতিরা তিন ধরনের হবেন।