সিলেট নগরের মেজরটিলা এলাকায় লাকী আক্তার (১৫) নামে এক গৃহপরিচারিকার মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় রবিবার দিবাগত রাতে হাসপাতালে ভর্তির পর রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, নির্যাতনের পর তাকে হারপিক খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রেমে বাধা দেওয়ায় আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি বাড়ি মালিকের।
জানা গেছে, লাকী আক্তার নগরের মেজরটিলা এলাকায় ডাক্তার জাকারিয়া আহমেদ রুমেলের বাসায় গত আট বছর ধরে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করে আসছিল। গত রবিবার রাতে লাকীকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসক জাকারিয়ার পরিবার। তখন বলা হয়, লাকীর পেট ব্যথার কথা। পরে ওই দিন রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লাকী আক্তারের মৃতদেহের সুরতহাল করে শাহপরান থানা পুলিশ।
লাকী আক্তারের মা বিলাতুল বেগমের অভিযোগ করে জানান, এর আগেও লাকী আক্তারকে নির্যাতন করা হয়েছে। এবার নির্যাতনের পর জোরপূর্বক হারপিক খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে তার মেয়েকে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চান ও মেয়ের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।
অভিযুক্ত চিকিৎসক জাকারিয়া আহমেদ রুমেলের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘প্রেমে বাধা দেওয়ায় ক্ষোভে হারপিক খেয়েছে লাকী।’
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লাকীকে রবিবার রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের আইসিইউতে আনা হয়। পরে রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।’ সে হারপিক খেয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পরিবারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পরিবার হত্যার অভিযোগ করছে।
পুলিশ লাশ সুরতহাল করেছে। সেখানে সে রকম আঘাতের বা অন্য কিছু পাওয়া যায়নি। ধর্ষণের শিকার হয়েছে কি না বা প্রেগন্যান্ট কি না সে বিষয়ে চিকিৎসকদের মতামত চাওয়া হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আরেকটা তথ্য পাওয়া গেছে যে নিহতের অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। সেটি ওই চিকিৎসক দেখে ফেলার পর তাকে বকাঝকা করেছিলেন এবং তার পরিবারকে ডেকে আনবেন বলেছিলেন। সে কারণে হয়তো সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। তবে কিভাবে মৃত্যু হয়েছে সেটি শতভাগ নিশ্চিত হতে হলে প্রথমে মেডিক্যাল রিপোর্টে প্রমাণিত হতে হবে। তারপর ডিএনএ মিললে চূড়ান্তভাবে বলা যাবে।’