<p style="text-align: justify;">কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় নির্মীয়মাণ একটি ব্রিজের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদার পলাতক থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত পাঁচ গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।</p> <p style="text-align: justify;">দক্ষিণগ্রাম-পাইকোটা-রাজাপুর সড়কের ওপর লেভেলক্রসিংসংলগ্ন প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ ব্রিজটির কাজ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের অধীনে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়। চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়।</p> <p style="text-align: justify;">স্থানীয়দের অভিযোগ, আরিফ এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার নিক্সন কাজের অর্ধেক রেখে শ্রমিকসহ সাইট ত্যাগ করেছেন। এ ঘটনায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী প্রতিবাদ সভা করে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান।</p> <p style="text-align: justify;">সভায় এলাকাবাসী বলেন, পুরাতন ব্রিজ ভেঙে নতুন নির্মাণকাজ শুরুর সময় কোনো বিকল্প সড়ক রাখা হয়নি। ফলে দক্ষিণগ্রাম, পাইকোটা, রাজাপুরসহ আশপাশের অন্তত পাঁচ গ্রামের মানুষ যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিকল্প পথে ঘুরে যেতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে।</p> <p style="text-align: justify;">সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রিজের পিলারের আংশিক কাজ শেষ হলেও পাটাতন নির্মাণ হয়নি। বেরিয়ে থাকা রডে মরিচা ধরছে এবং চুরির আশঙ্কাও রয়েছে। বিকল্প পথ না থাকায় অনেকেই কোমরসমান পানি পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।</p> <p style="text-align: justify;">এলাকাবাসী আরো জানান, ব্রিজ না থাকায় কৃষকরা মাঠ থেকে ধান পরিবহন করতে পারছেন না। জরুরি প্রয়োজনে রোগী, বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হাসপাতালে নেওয়া এবং পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করায় সময় ও অর্থ—দুই-ই নষ্ট হচ্ছে।</p> <p style="text-align: justify;">ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শ্রমিক সংকটের কথা বলে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।</p> <p style="text-align: justify;">উপজেলা প্রকৌশলী আলিফ আহমেদ অক্ষর জানান, বিষয়টি অবগত হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে কাজটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের অধীনে হওয়ায় বিস্তারিত তথ্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দিতে পারবেন।</p> <p style="text-align: justify;">এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হাসান বলেন, ‘ঠিকাদার দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ রেখেছেন এবং কাজের মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’</p>