বিশ্বব্যাপী মারণব্যাধিগুলোর মধ্যে ক্যান্সার অন্যতম। জরায়ু মুখের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে যে পিণ্ডের আকৃতির গঠন তৈরি হয় তাকেই জরায়ুমুখ ক্যান্সার বলে। আমাদের দেশে ক্যান্সারজনিত কারণগুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। তবে আগে কিন্তু এটা প্রথম অবস্থানেই ছিল।
বাঁচুন জরায়ুর ক্যান্সার থেকে!
- ডা. জাকিয়া সুলতানা নাহিদ, এমবিবিএস, এফসিপিএস, (গাইনি ও প্রসূতিবিদ্যা), এফসিপিএস (গাইনি অনকোলজি), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
অনলাইন ডেস্ক

জরায়ুমুখ ক্যান্সারের কারণ
♦ অল্প বয়সে বিয়ে বা যৌনমিলন
♦ অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণ
♦ অধিক সন্তান গ্রহণ
♦ বহুগামিতা
♦ ধূমপান
♦ জরায়ুমুখে ভাইরাসের (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) সংক্রমণ।
জরায়ুমুখ ক্যান্সারের লক্ষণগুলো
♦ অনিয়মিত মাসিক
♦ তলপেটে চাপ চাপ অনুভব করা
♦ মাসিক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও রক্তপ্রবাহ
♦ রক্ত ও বাদামি দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব
♦ যৌনমিলনের সময় ব্যথা ও স্রাব
জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়
ঔষধি প্রতিরোধকের চেয়ে আচরণগত প্রতিরোধকের দিকে বিজ্ঞানীরা বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন।
প্রাথমিকভাবে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে ১৩ থেকে ১৪ বছরের কিশোরীদের টিকা দিতে হবে। জরায়ুমুখ ক্যান্সারের ভ্যাকসিনে প্রায় শতভাগ সুফল পাওয়া যায়।
দ্বিতীয়ত, স্ক্রিনিং সেন্টারে গিয়ে সব মাকে স্ক্রিনিং করাতে হবে।
স্ক্রিনিংয়ের তিনটি পদ্ধতি রয়েছে
♦ ভায়া টেস্ট
♦ প্যাপ স্মেয়ার বা এলবিসি
♦ এইচপিভি ডিএনএ টেস্ট
ভায়া টেস্ট
এই টেস্টটি সরকারিভাবে করা হয়। সব সরকারি জেনারেল হাসপাতালগুলোতে এই টেস্টের সুবিধা রয়েছে এবং বিনা মূল্যে করা।
কিভাবে কলপোস্কপি পরীক্ষা করা হয়?
একজন নারীরোগ বিশেষজ্ঞ হাসপাতাল বা তাঁর ব্যক্তিগত চেম্বারে কলপোস্কপি পরীক্ষা করে থাকেন। কলপোস্কপ (Colposcope) নামের একটি বিশেষ ক্যামেরার মাধ্যমে জরায়ুমুখ ও যোনিপথ অতি সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোনো জায়গা অস্বাভাবিক মনে হলে সেখান থেকে কিছু কোষ বা সেল নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। একে প্যাপ স্মেয়ার (Pap smear) বলে। প্রয়োজন হলে সন্দেহজনক স্থান থেকে যন্ত্রের সাহায্যে চিমটি দিয়ে কোষ কলা (Tissue) নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। একে বায়োপসি (Biopsy) বলা হয়। কলপোস্কপি পরীক্ষায় সাধারণত নিম্নলিখিত সমস্যাগুলো ধরা পড়ে।
♦ জরায়ুমুখ বা সারভিক্সের ক্যান্সারের পূর্ব লক্ষণ।
♦ যোনিপথে/যোনিমুখে ক্যান্সারের পূর্ব লক্ষণ।
♦ জরায়ুমুখের প্রদাহ।
♦ যৌনরোগ।
ভ্যাকসিনের মাধ্যমে চিকিৎসা
সাধারণত ১০ বছর বয়সের পর থেকেই জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধক টিকা নেওয়া যায়। মোট তিন ডোজ টিকা নিতে হয়। প্রথম ডোজের এক মাস পর দ্বিতীয় ডোজ এবং প্রথম ডোজের ছয় মাস পর তৃতীয় ডোজ টিকা নিতে হয়। টিকা গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত পরীক্ষা করালে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের আক্রমণ হার কমিয়ে আনা যায়। ভাইরাস এইচপিভি-১৬, এইচপিভি-১৮, এইচপিভি-৬, এইচপিভি-১১-এর প্রতিরোধক টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে। আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) নিয়মানুযায়ী ৯ থেকে ২৫ বছর বয়সে এ টিকা কার্যকর হয়।
আমাদের দেশে দুই ধরনের ভ্যাকসিন পাওয়া যায়—সার্ভারিক্স ও গার্ডাসিল। এই ভ্যাকসিনগুলো অবশ্য সরকারিভাবে দেওয়া হচ্ছে না। তবে বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে অথবা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এই ভ্যাকসিনগুলো তিনটি ডোজের মাধ্যমে দেওয়া হয়। এতে তিন থেকে চার হাজার টাকার মতো খরচ হয়।
ভ্যাকসিন বা টিকা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
♦ বিবাহিত জীবন যাপন করা নারীদের এ টিকা তেমন কার্যকর হয় না।
♦ গর্ভাবস্থায় এ টিকা নেওয়া এখনো অনুমোদন পায়নি।
♦ এইচভিপি ইনফেকশন হয়ে যাওয়ার পর বা ক্যান্সার হয়ে যাওয়ার পর টিকা দিলে কোনো কাজে আসে না। কারণ এ টিকা ইনফেকশন দমন করতে পারে না এবং ক্যান্সারের গতিও রুদ্ধ করতে পারে না।
♦ এ টিকা গ্রহণকারীকেও নিয়মিত পেপস স্মেয়ার পরীক্ষায় যেতে হবে।
এ ছাড়া স্বামী-স্ত্রী বা যেসব নারী ও পুরুষের একাধিক যৌন সঙ্গী রয়েছে বা অল্প বয়সে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছে, এমন ক্ষেত্রে কনডম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব।
পরিশেষে বলা যায়, জরায়ুমুখ ক্যান্সার একটি প্রতিরোধযোগ্য ক্যান্সার। জনসচেতনতাই পারে জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূল করতে। আসুন সচেতন হই—জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধ করি।
একনজরে
♦ জরায়ু ক্যান্সারকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ এই অসুখে আক্রান্ত হলেও অনেক নারী এটির লক্ষণ বুঝতে পারেন না।
♦ একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিবছর সারা বিশ্বে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ নারী এই জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
♦ সারা বিশ্বে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নারী এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
♦ বাংলাদেশে প্রতিবছর ১২ হাজার নতুন রোগী এই রোগে শনাক্ত হন এবং প্রায় ছয় হাজার নারী মৃত্যুবরণ করেন।
♦ এটি বিশ্বের একমাত্র ক্যান্সার, যার টিকা আবিষ্কার হয়েছে।
♦ ভ্যাকসিন শতভাগ না হলেও ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ এই জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্পর্কিত খবর

কাঁচা আম খাওয়ার উপকারিতা
অনলাইন ডেস্ক

কাঁচা আম গ্রীষ্মকালের একটি অতি জনপ্রিয় ফল। আমাদের শৈশবের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় যখন আমরা এই টাটকা, রসালো ফলটিকে মরিচ ও লবণ দিয়ে খাই। কাঁচা আমের নাম শুনলেই মুখে পানি চলে আসে। কাঁচা আম যে শুধু মজার তাই নয়, বেশ পুষ্টি সমৃদ্ধও।
শরীর শীতল রাখতে সহায়ক
গ্রীষ্মে গরমের তীব্রতা কমাতে এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখতে কাঁচা আমের রস দারুণ কাজ করে।
হজম সমস্যা নিরাময়
কাঁচা আম হজম সমস্যা সমাধানে কার্যকরী। এটি হজম রসের উৎপাদন বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য, অজীর্ণতা, অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক এবং বমি বমি ভাবের মতো সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়ক
কাঁচা আমে থাকা বিটা-ক্যারোটিন এবং ফাইবার হৃদরোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি কোলেস্টেরল কমাতে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
যকৃৎ (লিভার) স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
কাঁচা আম যকৃৎ পরিষ্কার করতে সহায়ক এবং এটি তেল শোষণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি গোপন বাইল অ্যাসিডের স্রাব বৃদ্ধিতে সহায়তা করে যা টক্সিন পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
মুখের স্বাস্থ্য
কাঁচা আম মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
কাঁচা আমে প্রচুর ভিটামিন সি ও এ থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়ক। এটি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যও উন্নত করে এবং শরীরকে নানা ধরণের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
অতিরিক্ত খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পরিমিত পরিমাণে কাঁচা আম বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপকারী। তবে বেশি পরিমাণে কাঁচা আম খেলে বদহজম, পেটে ব্যথা, আমাশয় এবং গলা জ্বালা হতে পারে। মনে রাখবেন, কাঁচা আম খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা পানি পান করবেন না কারণ এটি জ্বালা বাড়ায়।
সূত্র : কেয়ার হসপিটাল

প্রতিদিন একটি আপেল খাওয়ার ৭ উপকারিতা
অনলাইন ডেস্ক

আপেল লাল রঙের দেখতে খুবই সুন্দর ও মিষ্টি স্বাদের অতুলীয় একটি ফল। এটি শুধু দেখতে আর স্বাদে নয় বরং স্বাস্থ্য উপকারিতাতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি খাওয়া ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম। আপেল খাওয়ার মাধ্যমে প্রাকৃতিক পুষ্টিসহ ফাইবার, ভিটামিন সি, পটাসিয়াম, এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পলিফেনল, যা শরীরের বিভিন্ন উপকারে আসে।
গবেষণা বলছে, আপেল খাওয়ার মাধ্যমে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার এবং অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমানো যায়। এছাড়া, এটি হজমের সমস্যাও সমাধান করতে সাহায্য করে।
তাই, প্রতিদিন একটি আপেল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা আমাদের সুস্থ জীবনযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। তাহলে দেরি কেন? আসুন জেনে নেই লাল আপেলের ১০ টি চমৎকার স্বাস্থ্য উপকারিতা।
১. পুষ্টিগুণ
আপেল একটি পুষ্টিকর ফল। আপেল ভিটামিন সি, পটাসিয়াম, ফাইবার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণে ভরপুর। এক একটি মাঝারি আপেলে রয়েছে প্রায় ১০৪ ক্যালোরি, ৫ গ্রাম ফাইবার এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজ। আপেলের খোসাসহ খাওয়া হলে আরো বেশি উপকার পাওয়া যায়।
২. ওজন কমাতে সাহায্য
আপেলে উচ্চ পরিমাণে ফাইবার ও জল থাকে, যা পেট ভরে রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত রাখে। গবেষণা অনুযায়ী, আপেলের খোসাসহ খাওয়া শরীরের মাস ইনডেক্স (বিএমআই) কমাতে সহায়ক হতে পারে এবং শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সহযোগিতা করে।
৩. হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য
আপেল হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এতে থাকা ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পলিফেনল হৃদরোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
৪. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য
আপেলে কোয়ারসেটিন নামক পলিফেনল থাকে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
৫. ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য
আপেলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফুসফুস, স্তন ও পাচনতন্ত্রের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে রক্ষাকারী ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, আপেল পলিফেনল ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করতে সক্ষম।
৬. হাঁপানির বিরুদ্ধে লড়াই
আপেলের খোসায় কোয়ারসেটিন থাকে, যা হাঁপানি এবং অ্যালার্জির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। এটি শ্বাসনালীর প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং হাঁপানির পরবর্তী পর্যায়ের প্রতিক্রিয়া কমাতে সক্ষম।
৭. হজমে সহায়ক
আপেল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার মাধ্যমে হজমে সহায়ক হতে পারে। এর হজম ক্ষমতা ও প্রাকৃতিক ফাইবারের উপস্থিতি আমাদের পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
সূত্র : ক্যাম্পবেল কান্ট্রি হেলথ

বিশ্ব সুন্দরী হওয়ার আগে যা খেতেন মানুষী
জীবনযাপন ডেস্ক

২০১৭ সালে মিস ওয়ার্ল্ড মুকুট জিতেছিলেন মানুষী চিল্লার। বুদ্ধির ঝলকে ঘেরা সৌন্দর্য তাকে বিশ্ব সুন্দরীর শিরোপার পাশাপাশি এনে দিয়েছে মডেলিং ও বলিউডে খ্যাতি। ১৭ বছর পর মানুষীর হাত ধরে মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট ভারতে এসেছিল। এর পেছনে ছিল মানুষীর কঠোর পরিশ্রম।
আপনিও মেনে চলতে পারেন মানুষীর লাইফস্টাইল। মানুষী যখন বিশ্ব সুন্দরীর হয়েছিলেন, সেই সময় সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ দিন ওয়ার্কআউট করতেন।
মানুষীর পুষ্টিবিদ নমমী আগারওয়াল জানিয়েছেন, মানুষী কঠোর পরিশ্রম করতেন সুন্দরী প্রতিযোগিতার জন্য।
এখন প্রশ্ন থাকতে পারে সারা দিন কী খেতেন মানুষী?
নায়িকার দিন শুরু হত এক গ্লাস পানি পান করে। তাতে মাঝেমধ্যে লেবুর রসও মেশাতেন। ব্রেকফাস্টে থাকত ওটস, টক দই ও বাদাম। লাঞ্চে খেতেন এক বাটি ভাত না হলে দুটি রুটি।

ভাত খেলেও ওজন বাড়বে না, জেনে নিন উপায়
জীবনযাপন ডেস্ক

ভাত বাঙালির প্রিয় খাবার। অনেকেই ওজন কমানোর জন্য ভাত খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। পুষ্টিবিদের মতে, সঠিক পদ্ধতিতে ভাত খেলে ওজনও বাড়বে না পাশাপাশি স্বাস্থ্যও থাকবে ভালো।
রান্নার পদ্ধতি
ভাত রান্নার সময় যদি শুধুমাত্র চাল ধুয়ে চুলায় বসানো হয়, তবে স্টার্চ বের হয় না।
খাওয়ার পদ্ধতি
ভাতকে ডাল, ভাজি, তরকারি, সালাদ ইত্যাদির সঙ্গে মেশালে এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) কমে যায়।
খাওয়ার সময়
ভাত খাওয়ার সেরা সময় দুপুর। রাতে ভাত কম খাওয়াই ভালো।
কত পরিমাণ খেতে হবে
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে দিনে ৩০ গ্রাম চালের ভাত রান্না করা উচিত, যা এক কাপের সমান। এতে প্রায় ১৫০-১৭০ কিলোক্যালোরি থাকে।
ভাতের উপকারিতা
ভাত ভিটামিন বি, ফলিক অ্যাসিড ও ম্যাগনেশিয়ামের ভালো উৎস। এটি অন্ত্র ও ত্বকের জন্য উপকারী। বাজারে বিভিন্ন ধরনের চাল পাওয়া যায় অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর কালো চাল। বাদামি চাল যা ফাইবারে সমৃদ্ধ এবং লাল চাল যার প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এসব চাল ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। ভাত খেতে হবে কিন্তু সঠিক পদ্ধতিতে, তবেই তা শরীরের জন্য উপকারী।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা