‘বিজ্ঞান শিক্ষার মৌলিক ধারণা লাভ সব শিক্ষার্থীর জন্য অপরিহার্য। সব শিক্ষার্থী বিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা অর্জন করলে তার বৈজ্ঞানিক সাক্ষরতা অর্জন, কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসা, দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে বৈজ্ঞানিক পন্থা অনুসরণের পাশাপাশি সৃজনশীল মানুষ হওয়ার পথ তৈরি হয়। কিন্তু বাংলাদেশে নবম শ্রেণি থেকে বিশেষায়িত বিভাগ বিভাজন শিক্ষায় ও সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করছে।’
‘বৈষম্যদূরীকরণে শিক্ষায় নিরবচ্ছিন্ন রূপান্তর : প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শীর্ষক পলিসি ব্রিফে (নীতি-সংক্ষেপ) এ মতামত তুলে ধরেছে গণস্বাক্ষরতা অভিযান।
আজ বুধবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এ নিয়ে ব্রিফ করা হয়। গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধূরী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
আরো পড়ুন
দেশে ফিরেছেন মিজানুর রহমান আজহারী
পলিসি ব্রিফে শিক্ষার পাঁচটি স্তরে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি। স্তরগুলো হলো প্রাক-প্রাথমিক বা শৈশবকালীন শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা এবং শিক্ষা প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ।
একই সঙ্গে শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়ের বদলে একক মন্ত্রণালয় জরুরি বলে সুপারিশ করা হয়েছে।
পলিসি ব্রিফে বলা হয়, শিক্ষায় রূপান্তর এখন শুধু একটি শিক্ষাক্রম বা নতুন পাঠ্যবই ছাপানোর কার্যক্রম নয়। শিখন-শেখানো পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপকরণ প্রস্তুত, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া প্রণয়ন ও শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এ রূপান্তর হতে হবে নিরবচ্ছিন্ন ও সব স্তরে সামগ্রিকভাবে।
আরো পড়ুন
দেশে প্রতিটি বিনিয়োগই হবে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত : নৌপরিবহন উপদেষ্টা
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিরেটাস অধ্যাপক ও প্রাথমিক শিক্ষার পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক ড. মনজুর আহমদ বলেন, ‘প্রাথমিকের জন্য একটা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন সামগ্রিক শিক্ষার জন্য একটি উদ্যোগ দরকার। একটা শিক্ষা কমিশন করার দরকার। দীর্ঘ সময়ের জন্য সংস্কারের প্রস্তাব সেই কমিশন করবে।’
তিনি বলেন, ‘দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিভাজন থাকবে না, সেটা শুরু হয়েছিল।
কারণ এত অল্প বয়সে বিভাগ অন্য দেশও তুলে দিয়েছে। কিন্তু আমরা শুধু আগের জায়গায় চলে যাব, সেটাই মূল কথা। নতুন যে কী হলো সেটা কোনো বিষয় নয়। এ জন্যই আমরা দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য কমিশনের কথা বলছি।’
পলিসি ব্রিফে দুই বছরের জন্য প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করে একটি স্বতন্ত্র কাঠামো হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তা বাস্তবায়ন জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়। আর প্রাথমিকের ক্ষেত্রে বলা হয়, হাই-স্টেক পাবলিক পরীক্ষা বা বৃত্তি পরীক্ষার মতো বৈষম্য সৃষ্টিকারী পরীক্ষা চালু করা সংগত হবে না। কন্টেন্ট মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের হয়ে সমস্যা-সমাধাননির্ভর শিখন-শেখানো প্রক্রিয়া এবং গাঠনিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্যতার পরিমাপ করতে হবে।
আরো পড়ুন
শনিবার থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত করা এবং জীবিকানির্ভর দক্ষতার উন্নয়ন ঘটিয়ে কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সন্নিবেশ করতে হবে। এ জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা বহুপথ সৃষ্টিকারী একটি ব্যবস্থা হওয়া দরকার, যেন এ শিক্ষা গ্রহণের পর যেকোনো শিক্ষার্থী তার ইচ্ছা ও প্রবণতা অনুযায়ী বিভিন্ন দিকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ পায়।
উচ্চশিক্ষার সংস্কারে ইউজিসিকে ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দিয়েছে গণসাক্ষরতা অভিযান। তাদের মতে, ইউজিসি যেন মনিটরিং, রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং বাজারনির্ভর ডিগ্রি ও কোর্স প্রণয়ন করতে পারে, সেদিকে খেয়াল রেখে তাদের কাজের এখতিয়ার দিতে হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজসমূহে শিক্ষার মান ও শ্রমবাজারের দাবি অনুযায়ী শিক্ষার সংস্থান জরুরি হয়ে পড়েছে।
আর শিক্ষা প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, দেশে শিক্ষাসংক্রান্ত দুটি মন্ত্রণালয় বিদ্যমান, যা শিক্ষার উন্নয়নে পৃথক হয়নি। বরং শিক্ষার ধারাবাহিক সংস্কারে একক মন্ত্রণালয় থাকা ভালো। পাশাপাশি শিক্ষায় রূপান্তর নিশ্চিত ও টেকসই করতে জিডিপির কমপক্ষে ৪ শতাংশ বিনিয়োগের বা বরাদ্দ রাখারও দাবি জানানো হয়।
আরো পড়ুন
ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ধাওয়া খেয়ে পালালেন আ. লীগ নেতার আত্মীয়
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাবির আইইআরের অধ্যাপক ড. সৈয়দ শাহাদৎ হোসেন, ডিইউআইআইডির নির্বাহী পরিচালক ড. ইরাম মরিয়ম, নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা জ্যোতি এফ গমেজ, লালমাটিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আকমল হোসেন, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শাহিনুর আল আমিন, এডুকেশন ওয়াচের আহ্বায়ক ড. আহমদ মোশতাক রাজা চৌধুরী প্রমুখ।