ঢাকা, শুক্রবার ২৮ মার্চ ২০২৫
১৩ চৈত্র ১৪৩১, ২৭ রমজান ১৪৪৬

ঢাকা, শুক্রবার ২৮ মার্চ ২০২৫
১৩ চৈত্র ১৪৩১, ২৭ রমজান ১৪৪৬

সেনাবাহিনী নিয়ে হাসনাত-সারজিসের বক্তব্যে অনেকটা ‘কোণঠাসা’ এনসিপি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
সেনাবাহিনী নিয়ে হাসনাত-সারজিসের বক্তব্যে অনেকটা ‘কোণঠাসা’ এনসিপি
সংগৃহীত ছবি

রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর শীর্ষ কয়েকজন নেতার নানা মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডে বেশ অস্বস্তিতে পড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, সর্বশেষ সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে দলটির শীর্ষ দুই নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ছাত্রদের এই দলটি।

এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ নাগরিকদের অনেককে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের নেতিবাচক মন্তব্যও করতে দেখা গেছে।

এই দুই নেতার বাইরেও সম্প্রতি মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদেরও কিছু বক্তব্য নিয়েও দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বেশ অসন্তোষ রয়েছে।

দু’দিন আগে এসব বিষয় নিয়ে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বৈঠক হয়। সেখানে হাসনাত, সারজিসসহ কোনো কোনো নেতার কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে প্রশ্নও তোলেন কেউ কেউ।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির দুই শতাধিক নেতা নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ রয়েছে। সেখানে গত কয়েকদিনে শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে দলের মধ্যেই সমালোচনা চলছে বলে প্রথম সারির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন।

নাম গোপন রাখার শর্তে দলের শীর্ষ একজন নেতা বলেন, ‘হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের ব্যক্তিগত পরিচিতি ও ফেসবুকে ফ্যান, ফলোয়ার থাকার কারণে তারা নিজেদেরকে অনেকটা দলের ঊর্ধ্বে মনে করেন’।

জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কোনো নেতার আর্থিক অস্বচ্ছতা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে দলের মধ্যে।

গত সোমবার শতাধিক গাড়িবহর ও ব্যান্ড পার্টি নিয়ে নিজ জেলা পঞ্চগড়ে শোডাউন করেছেন উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম। এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানা সমালোচনা দেখা গেছে।

এই বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে সারজিস আলমকে উদ্দেশ্য করে একটি খোলা চিঠি লিখেন।

এতে সারজিসের এই আয়োজনে অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মিস জারা।

নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘জনমনে অস্বস্তি তৈরি হলে তাতে দলের ভেতরেও অস্বস্তি দেখা যায়। জনগণের প্রত্যাশা পূরণের ভবিষ্যতে যেন এসবের পুনরাবৃত্তি না হয়, সেই বিষয়ে গুরুত্ব দেব আমরা।’

সেনাবাহিনী নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা তৈরির পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত দুই দিনে ‘সেনা শাসন, জরুরি অবস্থা জারি’র মতো একের পর এক গুজবও ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড শুরুতেই জাতীয় নাগরিক পার্টিকে এক ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

‘ক্যান্টনমেন্টে বৈঠক নিয়ে যেসব প্রশ্ন’

গত বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ তার ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, ‘ক্যান্টনমেন্ট থেকে’ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সেখানে বিষয়টিকে তিনি ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে ‘নতুন একটি ষড়যন্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তার ওই স্ট্যাটাস ঘিরে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয় বাংলাদেশের রাজনীতিতে। ওই ফেসবুক পোস্টের পরদিনই কেউ কেউ হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষ নিয়ে রাস্তায় মিছিলেও নামেন।

দুই দিন পর গত রবিবার হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের ভাষা নিয়ে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করে ফেসবুকে পোস্ট দেন নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

তিনি লিখেন, ক্যান্টনমেন্টে সেনাপ্রধানের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছিল। তবে হাসনাত আব্দুল্লাহর পোস্টে লেখা কিছু বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত নন।

সেনাপ্রধানের সঙ্গে এই বৈঠকের বিষয়টি নিয়ে সারজিসের পোস্টের পরই এ নিয়ে নাগরিক পার্টির মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়।

দলের শীর্ষ একজন নেতা বলেন, ‘তারা সেনাপ্রধানের সঙ্গে কিংবা সেনাবাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নিয়ে আগে থেকে দলের মধ্যে আলোচনা করেননি’।

দলের শীর্ষ নেতারা এই বিষয়টি নিয়েও তাদের নিজস্ব আলোচনায় প্রশ্ন তুলেছেন বলেও জানিয়েছেন দলের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা।

তারা বলছেন, নাগরিক পার্টির দায়িত্বে থাকার পর তারা যদি সেনাবাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করতে যান, সেটি দলকে জানিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু যেহেতু তারা সেটি করেননি, এ নিয়ে দলের নেতাদের মধ্যেও অসন্তোষ কাজ করছে।

কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ একজন নেতা বলেন, ‘গোপন বৈঠকের বিষয়টি গোপন না রেখে তারা যখন স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এনেছেন, এটি নিয়ে দলের মধ্যে ক্ষোভও তৈরি হয়েছে।’

বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে নানা প্রশ্ন

বর্তমান বাংলাদেশে সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট দেওয়া নিয়ে শুরুতেই দলের মধ্যে একটি পক্ষ বেশ অসন্তোষ জানায়।

ওই পোস্টের পর উত্তরের সংগঠক সারজিস আলম নতুন করে আরেকটি পোস্ট দেওয়ায় বিষয়টি পরিস্থিতি আরো জটিল করে তোলে।

দলের একজন যুগ্ম আহবায়ক বলেন, ‘হাসনাত আব্দুল্লাহর পোস্টের পর যাও কিছু মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল, পরে সারজিসের পোস্টে পুরো দলটিই তখন বিতর্কের মুখে পড়েছে’।

সারজিস আলমের পোস্টের নিচেই মন্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ দাবি করেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম, এই দুজনের মধ্যে একজন মিথ্যা বলছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী গত শুক্রবার নিজের ফেসবুক একাউন্টে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে একটি মন্তব্য করেন। এ বিষয়টিও দলের মধ্যে ব্যাপক সমালোচিত হয়।

সম্প্রতি পাঠ্যপুস্তক কমিটির সদস্য রাখাল রাহাকে নিয়ে সারজিস আলমের পোস্ট নিয়েও নানা বিতর্ক তৈরি হয়। পরে দলের মধ্যেই সমালোচনার মধ্যে পড়েন সারজিস আলম।

সেনাবাহিনী নিয়ে হাসনাত-সারজিসের পোস্টের প্রসঙ্গ টেনে দলের শীর্ষ এক নেতা বলেন, ‘এই ধরনের পোস্ট করা সাংগঠনিকভাবে ভুল হইছে। তাদেরকে এই কাজগুলো যেন আর না করে সেটা বলা হয়েছে’।

সাম্প্রতিক এমন বেশ কিছু ঘটনায় পর অলিখিতভাবে দলের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয় যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো পোস্ট দেওয়ার বিষয়ে যেন দলটির নেতারা সতর্ক থাকে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা যাতে সবাই এক সুরে, এক সঙ্গে পথ চলতে পারি সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে’।

রাজনৈতিক আস্থাহীনতা

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে নুরুল হক নুরের যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ।

সম্প্রতি দেশের এক বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে তিনি মন্তব্য করেন, গণঅধিকার পরিষদের ‘নুরুল হক নুর তার দল বিলুপ্ত করে নাগরিক পার্টির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন।’

তখন এই বিষয়টি নিয়েও বেশ সমালোচনা তৈরি হয়। অন্যদিকে, সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টিও প্রকাশ্যে আনার ঘটনাকে নাগরিক পার্টির অদূরদর্শিতা হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন অনেক আলোচনা হয়, যেগুলো পর্দার আড়ালে হয়। সেগুলোকে যখন প্রকাশ্যে আনা হয়, তখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনাস্থা ও অবিশ্বাস বাড়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাশেদা রওনক খান বলেন, ‘যেকোনো রাজনৈতিক নেগোসিয়েশনের বা বার্গেনিংয়ের বিষয়টা নিজেদের মধ্যে থাকতে হয়। এই ঘটনার আগ পর্যন্ত অনেক মিটিং হয়েছে কখনো তো সামনে আসে নাই’।

তিনি আরো বলেন, ‘এমন হলে ভবিষ্যতে আলোচনায় বসতে দ্বিতীয় বার চিন্তা করবে, বা খুব নির্ভয়ে খোলামনে আলোচনা করতে গিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হবে’। তবে রাজনীতিতে এই বিয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, রাজনীতিতে সামরিক বাহিনী ও এজেন্সির প্রভাব আছে, সেটা প্রমাণিত হলো। আগে বিষয়টি গোপন কিংবা অদৃশ্য আলোচনা ছিল, এখন এটার একটা স্বীকৃতি পেল।

আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ

গত সোমবার ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে সৈয়দপুর যান জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা সারজিস আলম। সেখান থেকে শতাধিক গাড়ি নিয়ে নিজ জেলা পঞ্চগড়ে শোডাউন ও অনুষ্ঠান করেন তিনি।

এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেককে সমালোচনা করতে দেখা গেছে।

মঙ্গলবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের দলের এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘যারা ১০০ গাড়ি নিয়ে ইলেকশন ক্যাম্পেইন করতে যায়, তারা কী করবে, সেটা আমরা ভালো বুঝি।’

একইভাবে হাসনাত আব্দুল্লাহকে নিজ এলাকায় এমন সভা সমাবেশ করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতেও দেখা গেছে। যদিও বিভিন্ন সময় তাদের টাকার উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমসহ কিছু নেতার অর্থের উৎস নিয়ে দলের মধ্যেও নানা প্রশ্ন রয়েছে।

বড় বড় অনুষ্ঠানের অর্থ কোথা থেকে আসে, সেই প্রশ্নের উত্তরও জানেন না দলের নেতাদের অনেকেই।

দলটির একজন শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, হাসনাত-সারজিসের ফ্যান ফলোয়ার ও শুভাকাঙ্ক্ষীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তারা ব্যক্তিগত পরিসরে এমন অনেক কাজ করেন, যা দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করে।

মঙ্গলবার সারজিস আলমকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে লেখা চিঠিতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা লিখেন, ‘তুমি কিছুদিন আগেই প্রকাশ্যে বলেছিলে, ‘আমার আসলে এই মুহূর্তে কোনো টাকা নাই। ধার করে চলতেছি’।

‘কিন্তু সেই প্রেক্ষাপটে এত বড় একটি আয়োজন কীভাবে সম্ভব হলো — এর অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনা কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন আসাটা স্বাভাবিক। আমাদের দল স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সে জায়গা থেকে এসব প্রশ্নের স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য উত্তর দেওয়া আমাদের সবারই দায়িত্ব’ যোগ করেন মিজ জারা।

যাদের কারণে দলের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না- সেই প্রশ্নও উঠেছে।

দলটির শীর্ষ নেতাদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দলের শীর্ষ দশটি পদকে বলা হয় সুপার টেন। এই সুপার টেনের চারজনের বিরুদ্ধে নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ বার বার আসছে। ১০ জনের মধ্যে যখন ৪ জনই এই কাজে জড়িয়ে পড়ে, তখন তার বিচার করা মুশকিল’।

এসব প্রেক্ষিতে সম্প্রতি দলের মধ্যে আর্থিক জবাবদিহিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দু’জন নেতা।

নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘ব্যক্তিগত পদক্ষেপে ভুল বুঝাবুঝি হয়। সেটাকে মিনিমাইজ করে এক সঙ্গে পথ চলার ব্যাপারে জোর দিচ্ছি’।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, দলটির কেউ কেউ নিজেকে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করেন, তারা তাদের মতো করে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। এতে দলের চেয়ে ব্যক্তি মানে ‘আমি’ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্লেষক রাশেদা রওনক খান বলেন, ‘নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণ বিভ্রান্ত হয় ও বিশ্বাসযোগ্যতার ঘাটতি তৈরি হয়। এতে যেকোনো দলের জন্যই তা একটু চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। জনসমর্থন পেতে এই বিষয়গুলোকে মোকাবেলা করতে হবে নতুন দলকে’। সূত্র : বিবিসি বাংলা

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

আশরাফুল আলম খোকনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

বাসস
বাসস
শেয়ার
আশরাফুল আলম খোকনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
আশরাফুল আলম খোকন। ফাইল ছবি

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপ-প্রেস সচিব মুহাম্মদ আশরাফুল আলম খোকন ও তার স্ত্রী রিজওয়ানা নুরের নামে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, মুহাম্মদ আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৩ কোটি ৩৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮২৭ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। আর তার তিনটি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭২ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ এনেছে দুদক।

মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে খোকন আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে বাড়ি ক্রয় করেছেন বলে জানায় দুদক। আসামির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৭ (১), ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় মামলায় খোকনের স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৮ লাখ ৮১ হাজার ৫৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার তিনটি ব্যাংক হিসাবে ৬ কোটি ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৭ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

শেখ হাসিনার উপ-প্রেস সচিব হিসেবে ২০১৩ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আশরাফুল আলম খোকন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আশরাফুল আলম খোকন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

মন্তব্য

রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা কমছে না, জনপ্রতি বরাদ্দ ১২ ডলার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা কমছে না, জনপ্রতি বরাদ্দ ১২ ডলার
ফাইল ছবি

বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে বাস করা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য খাদ্য সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি-ডব্লিউএফপি।

এবারে কক্সবাজারের উপকূলে বিভিন্ন ক্যাম্পের বাসিন্দাদের জনপ্রতি মাসিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ১২ ডলার করে, যা আগে ছিল সাড়ে ১২ ডলার।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘ডব্লিউএফপি এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে আগামী ১ এপ্রিল থেকে।

ভাসানচরে যেসব রোহিঙ্গা বসবাস করছেন তারা পাবেন জনপ্রতি ১৩ ডলার করে। কক্সবাজারে যারা বসবাস করছেন তাদের চেয়ে এক ডলার বেশি।

গত ৫ মার্চ বাংলাদেশের শরণার্থী কমিশনের কাছে খাদ্য সহায়তা কমানো সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়েছিল ডব্লিউএফপি।

ডব্লিউএফপি তহবিল সংকটের কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য এপ্রিল থেকে মাসিক খাবারের বরাদ্দ সাড়ে ১২ ডলার থেকে কমিয়ে জনপ্রতি ৬ ডলার করার কথা বলা হয় ওই চিঠিতে।

এরপর ১৪ মার্চ জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেন। এ সময় তার কাছে তুলে ধরা হয় ৬ ডলারে রোহিঙ্গারা আসলে কী পরিমাণ খাবার পাবেন। এর পরই এমন সিদ্ধান্ত জানাল জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি-ডব্লিউএফপি।

মন্তব্য

মসজিদে মসজিদে শবেকদরের নামাজ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
মসজিদে মসজিদে শবেকদরের নামাজ
সংগৃহীত ছবি

বিশেষ ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে মুসলমানদের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ রাত শবেকদর। এই রাত উপলক্ষে রাজধানীর মসজিদে মসজিদে খতমে তারাবির নামাজ শেষে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ঘুরে দেখা যায়, এশার আজানের পর থেকেই অন্যান্য দিনের তুলনায় মসজিদে মুসল্লিদের ভিড় বেশি। অনেক এলাকায় মসজিদে জায়গা না পেয়ে রাস্তায় জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে উপচে পড়া ভিড় ছিল মুসল্লিদের। অনেকে দূর দূরান্ত থেকে নামাজ পড়তে এসেছেন এখানে। এমনই একজন নারিন্দার বাসিন্দা আউয়াল হোসেন বলেন, প্রতি কদরেই বায়তুল মোকাররমে এসে পড়েন তিনি। একা না, এলাকার পরিচিত প্রতিবেশী এবং আশপাশের আত্মীয় স্বজন সবাই মাগরিবের নামাজ শেষ করেই কদরের রাতের নামাজের জন্য এখানে আসেন।

আরেক মুসল্লি শরিফ আহমেদ বলেন, ‘এই রাত মুসলমানদের জন্য বিশেষ রাত। রোজার মাস থেকে শুরু করে পুরো জীবনের সব ভুল ত্রুটির জন্য মাফ চাইতে এই রাতকেই বেছে নেন মুসলমানরা।’

শবেকদর শব্দটি মূলত বাংলা ভাষায় এসেছে ফারসি থেকে। আরবি শব্দ লাইলাতুল কদরের নানা মহিমা কোরআন এবং হাদিসে বর্ণিত আছে।

শব বলতে মূলত রাত আর কদর বলতে ভাবমর্যাদাপূর্ণ বা সম্মানিত বোঝানো হয়। সে হিসাবে শবেকদর মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে ভাবমর্যাদাপূর্ণ রাত হিসেবে পালিত হয়।

যদিও কোরআন এবং হাদিসে শবে কদরকে নির্দিষ্ট কোনো তারিখে বেধে দেওয়া হয়নি। বলা হয়েছে, রমজানের শেষ দশ দিন যেকোনো বেজোড় রাতই হতে পারে শবে কদর। তবে উপমহাদেশের অনেক আলেমের মতে, ২৬ রমজান দিবাগত রাতকে কদরের রাত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে আলাদা মর্যাদায় পালন করা হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশে যেসব মসজিদে খতমে তারাবির পড়ানো হয়, সেখানে কদরের রাতকে উদ্দেশ্য করেই সারা মাসে নামাজে পড়া কিরাআতের মাধ্যমে কোরআন তেলাওয়াতের খতম দেওয়া হয় কদরের রাতে। এতে করে একদিকে কোরআন খতম অন্যদিকে কদরের রাত-দুই মর্যাদাই মুসলমানরা লাভ করতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে উত্তর বাড্ডা জামে মসজিদের ইমাম মুফতি মাওলানা আজহারউদ্দীন বলেন, ‘শহরের মানুষের আলাদা করে কোরআন পড়া কিংবা শোনার সময় হয় না। এজন্য অনেকেই কোরআন খতমের বড় একটি মাধ্যম হিসেবে খতমে তারাবিকে বেছে নেন। কদরের রাতে কোরআন খতমের পাশাপাশি যারা কোরআন পড়িয়েছেন সেইসব হাফেজদেরকেও আলাদা করে হাদিয়া দেওয়া হয়। মূলত গোটা রমজানের পূর্ণতা আসে এই কদরের রাতকে কেন্দ্র করেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘এশা এবং তারাবির পর কদরের রাতের জন্য আলাদা করে কোনো নামাজ না থাকলেও মুসল্লিরা সারারাত নফল নামাজ এবং জিকির-আজকারের মাধ্যমে ইবাদত করেন। কেননা রমজানে নফল ইবাদতের সওয়াব ফরজের সমান। এ ছাড়া কোরআন তেলাওয়াত এবং দান-খয়রাতের মাধ্যমে কাটে এই রাত। শেষ রাতে মসজিদে মসজিদে আয়োজন করা হয় বিশেষ মোনাজাতের। আল্লাহর কাছে নিজেদের ভুল-ভ্রান্তি এবং পাপের ক্ষমাপ্রার্থনার পাশাপাশি দেশ-জাতি এবং সামস্ত মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা হয়।’

কদরের রাতকে কেন্দ্র করে মসজিদের সামনে অসহায় এবং ভিক্ষুকদের লাইন থাকে চোখে পড়ার মতো। অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন কয়েকগুণ বেশি আয় হয় বলে জানান তারা। দক্ষিণ বাড্ডা কুয়েত-বাংলাদেশ জামে মসজিদের সামনে ভিক্ষারত এক নারী সালমা বলেন, ‘এদিন কয়েক হাজার টাকা আয় হয়। ঈদে পরিবারকে নিয়ে খাওয়া দাওয়া, বাচ্চাদের সামান্য শখ আহ্লাদ পূরণের টাকা আসে এই কদরের রাতেই।’

আরেক ভিক্ষুক মনির বলেন, সারারাত মসজিদের সামনে ভিক্ষা করেন তিনি। অনেক মুসল্লি এশার নামাজের পর মসজিদে যান এবং সেহরির আগে আগে বের হোন। এসময় তারা হাত খুলে দান খয়রাত করেন বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া কদরের রাতকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় সামগ্রী বিক্রিও অনেক বেড়ে যায় বলে জানান বিক্রেতারা। বিশেষ করে আতর, টুপি, তসবিহ, মেসওয়াক এবং সুরমার মতো সুন্নতি সামগ্রীতে ক্রেতাদের আলাদা আগ্রহ থাকে।

বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটের সামনে এসব পণ্য বিক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সারা বছর আতর-টুপি বিক্রি হলেও কদরের রাতে বিকাল থেকেই মেসওয়াক, সুরমা, তসবিহ বিক্রি বেড়ে যায়। অনেকে আবার নতুন জায়নামাজ কেনেন।’ মহামান্বিত এ রাতে তারা নতুন করে ধর্মীয় আচার-আচরণ পালন শুরু করতে উদ্যোমী হন বলে জানান তিনি।

এদিকে কদরের রাতে মসজিদের পাশাপাশি বাসা-বাড়িতেও চলে ইবাদাত। নারীরা নামাজ এবং কোরআন তেলওয়াতের মধ্য দিয়ে পার করেন এ রাত।

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকার গৃহিণী জেসমিন আক্তার লিপি বলেন, ‘সন্ধ্যার পর থেকেই চলে কদরের রাতে ইবাদতের প্রস্তুতি। এশার আগে সব কাজ গুছিয়ে বাসার নারী এবং শিশুরা ইবাদতে শামিল হোন। রাতের খাবার শেষে অনেকেই সেহরি পর্যন্ত ধাপে ধাপে নফল নামাজ পড়েন এবং কোরআন তেলাওয়াত করেন।’

মুসলমানদের জীবনে কদরের রাত আসে ক্ষমার বার্তা নিয়ে। ‘আল্লাহুম্মা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফুআন্নি’ এই দোয়ার মাধ্যমে মুসলমানরা তাদের কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। সব মিলিয়ে এই রাত রমজানকে করে তোলে আরো মহামান্বিত। পাশাপাশি এই রাতের শিক্ষা থেকে একজন মুসমান নতুন করে ভালো মানুষ হবার যাত্রা শুরু করতে পারে বলে মনে করেন আলেম-ওলামারা।

মন্তব্য

আলোচিত-১০ (২৭ মার্চ)

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার

সর্বশেষ সংবাদ