<p>দীর্ঘ ২ মাস কারাভোগ শেষে মুক্তি পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শামসুন্নাহার হল ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি। শুক্রবার (৮ মে) কালের কণ্ঠের পডকাস্টে এ ঘটনার পুরো বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।</p> <p>পডকাস্টের একপর্যায়ে ইমি বলেন, আমার মনে হয় না এতটা মূল্য দেওয়ার মতো কোনো কাজ আমি করেছিলাম। আমার মাস্টার্সটা হলো না, যে মাস্টার্সের জন্য আমার বিয়েটা পেছালো। আমার পরিবারের এই যে একটা চরম সংকট, আমার শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে পুত্রবধূ মনে করেন না, আমার শাশুড়ির একটা মেয়ে নাই, আমার শাশুড়ির মেয়ে আমি, আমার বাবা আমাকে ‘বেটি’ বলে ডাকেন, আমার বড় দুইজন ভাসুর কখনো আমাকে ভাইয়ের বউ হিসেবে ট্রিট করেননি, আমাকে বোনের জায়গাটা তারা দিয়েছেন। আমি জানি না ভবিষ্যতে আমার কী হবে বা আমি কতদিন বাঁচব। কিন্তু যতদিন বাঁচব এই যন্ত্রণা তো আমাকে বয়ে বেড়াতে হবে।</p> <p>তিনি বলেন, ৫ এপ্রিল আমার একটা শুনানি ছিল জামিনের। সবাই খুব আশা করেছিল। ওইদিন হয়ত আমাকে জামিন দেওয়া হতে পারে। আমার বাবা-মা এসেছিলেন খুলনা থেকে। যখন আমার জামিনটা নামঞ্জুর করে দেওয়া হলো, তখন আব্বু ওই শকটা নিতে পারেননি। তার একটু স্ট্রোক হয়ে যায়। ওদিন রাত্রে হাসপাতালে ভর্তি করা লেগেছিল। আমার সমস্যা হচ্ছে, আমার সাহসটা প্রচণ্ড বেশি। আমি তো কোনো কিছু কখনো ভয় পাইনি, পাইও না। নিজের উপর কোন কিছু আসলে আমার এত কষ্ট লাগতো না। আমার পরিবার যার মধ্য দিয়ে গেল, আমার বিয়ের পরে প্রথম ঈদ। আমার কারণে আমার শ্বশুরবাড়ি যারা, আমার বড় ভাইয়ের পোস্টিং আরেক জেলায়, উনারা ঈদেই তো বাবা-মার সঙ্গে ঈদটা কাটান। আমার সঙ্গে দেখা করতে আসতে হবে দেখে আমার পরিবারটা এক হতে পারেনি। বড় ভাই আলাদা ঈদ করেছেন। বাবা-মা মেয়েদের সঙ্গে ছিল। মেজো ভাই তো চলেই গেল।</p> <p>তিনি আরো বলেন, সবকিছু মিলিয়ে আসলে আমি জানি না যে আমার কষ্টটা কে কিভাবে দেখছে বা অনেকে হয়ত মনে করতেছে যে আমি অনেক কিছু বেশি হারায় ফেলছি। কিন্তু আমার চেয়ে অনেক বেশি অনেক বেশি ত্যাগ অনেক বেশি যন্ত্রণার গল্প মানুষের আছে এবং আমি একটা কথাই বলতে চাই যে আমি একটু অন্যায় করতে পারি, আমার শাস্তি হবে সেটা নিয়মতান্ত্রিকভাবে হোক। কিন্তু একটা মানুষকে যখন মিনিমাম মানুষ হিসেবে যে ডিগনিটি, সেইটুকুও যখন সে পায় না, যখন তাকে দিনের পর দিন আটকে রাখা হয় কোনো প্রপার ব্যাখ্যা থাকে না, সেটি আসলে অমানবিক আচরণ। যত বড় অপরাধী হোক না কেন, তার সঙ্গে কেউ এমনটা করা উচিত না।</p>