ঢাকা, শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

যুক্তরাষ্ট্রে চূড়ান্ত লড়াই চলছে, ইতিহাস গড়ার পথে কমলা ও ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
যুক্তরাষ্ট্রে চূড়ান্ত লড়াই চলছে, ইতিহাস গড়ার পথে কমলা ও ট্রাম্প
৫ নভেম্বর ভোটাররা নিউ ইয়র্ক সিটির একটি ভোটকেন্দ্রে তাদের ব্যালট পূরণ করছেন। ছবি : এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। এ নির্বাচনে হয়তো কমলা হ্যারিস দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাস গড়বেন অথবা ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পাবেন, যা সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করবে।

ডেমোক্র্যাট দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস (৬০) ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প (৭৮) এই যুগের সবচেয়ে টানটান ও উত্তেজনাপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রায় সমান সমান অবস্থানে রয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনগুলোতে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী তাদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করতে এবং দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যের (সুইং স্টেট) ভোটারদের কাছে টানতে নিরন্তর প্রচার চালান।

এবারের প্রচারণা অনেক নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। যেমন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জুলাই মাসে সরে দাঁড়ানোয় কমলা হ্যারিসের আকস্মিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রবেশ এবং ট্রাম্পের ওপর দুবার হত্যার চেষ্টা ও একটি ফৌজদারি দণ্ড। কিন্তু এত কিছুর পরও মতামত জরিপে কোনো পক্ষ স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই।

আরো পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের ভোটযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ যত সংখ্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ভোটযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ যত সংখ্যা

 

এদিকে প্রায় সাড়ে আট কোটির বেশি ভোটার আগাম ভোট প্রদান করেছেন।

তবে মূল নির্বাচনের দিনেও লাখ লাখ আমেরিকান ভোট দিচ্ছেন।

দীর্ঘ লাইন
ভোটকেন্দ্রগুলোর বাইরে ভোর থেকেই লাইন দেখা গেছে, যেমন নর্থ ক্যারোলাইনার ব্ল্যাক মাউন্টেনে, যেখানে বন্যার কারণে একটি তাঁবুর নিচে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য পেনসিলভানিয়ার এরি শহরেও ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

হ্যারিসকে ভোট দেওয়ার পর মারশেল বেসন (৪৬) বলেন, এবার এখানে গতবারের চেয়ে অনেক, অনেক বেশি মানুষ এসেছে।

তিনি একটি প্রাথমিক স্কুলে ভোট দিয়ে ‘আই ভোটেড’ স্টিকার পরেন। তবে তিনি এ-ও বলেন, ‘আমরা এখন বিভক্ত এবং হ্যারিস শান্তির জন্য দাঁড়িয়েছেন। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বীর বক্তব্যগুলো সবই নেতিবাচক।’

আরো পড়ুন
মার্কিন নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া ‘রুশ’ ভিডিও, এফবিআইয়ের সতর্কতা

মার্কিন নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া ‘রুশ’ ভিডিও, এফবিআইয়ের সতর্কতা

 

একই স্কুলে ট্রাম্প সমর্থক ডারলিন টেইলর (৫৬) বলেন, তার প্রধান ইস্যু ‘সীমান্ত বন্ধ করা’। তিনি আরো চার বছর মুদ্রাস্ফীতি, গ্যাসের উচ্চমূল্য ও মিথ্যাচার চান না বলেও জানান।

তিনি এ সময় ট্রাম্পের সমর্থনে নিজের বানানো একটি টি-শার্ট পরেছিলেন।

এদিন মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের জন্যও ভোট হচ্ছে। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের ৪৩৫টি আসন ও সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৪টি আসন রয়েছে দখলের প্রতিযোগিতায়।

এই নির্বাচনের ফল যদি মতামত জরিপগুলোর মতোই ঘনিষ্ঠ থাকে, তবে কয়েক দিন ধরে চূড়ান্ত ফল জানা না-ও যেতে পারে, যা বিভক্ত জাতির মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্প যদি হারেন এবং ২০২০ সালের মতো ফল চ্যালেঞ্জ করেন, তবে সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য হোয়াইট হাউসের চারপাশে নিরাপত্তা বেড়া দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীদের খরচ কত, কিভাবে অর্থ আসে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীদের খরচ কত, কিভাবে অর্থ আসে

 

এদিকে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ এই নির্বাচনের ফলের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যেটিকে ট্রাম্প ‘প্রতারণা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

হ্যারিস ও ট্রাম্প মূলত সাতটি সুইং স্টেটে প্রায় সমানে সমান অবস্থানে রয়েছেন। সোমবার হ্যারিস তার প্রচারণার মূল লক্ষ্যবস্তু পেনসিলভানিয়াতে শেষ সমাবেশ করেন। ফিলাডেলফিয়ার বিখ্যাত ‘রকি’ সিনেমার সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘গতি আমাদের পক্ষে।’ তবে তিনি এ-ও বলেন, ‘এটি হতে পারে ইতিহাসের অন্যতম কাছাকাছি প্রতিযোগিতা—প্রতিটি ভোটই গুরুত্বপূর্ণ।’

আরো পড়ুন
অর্থনীতি-অভিবাসনসহ নানা বিষয়ে ট্রাম্প-কমলার নীতিগত অবস্থান

অর্থনীতি-অভিবাসনসহ নানা বিষয়ে ট্রাম্প-কমলার নীতিগত অবস্থান

 

ইতিহাস গড়ার পথে
ট্রাম্প প্রথম দণ্ডিত অপরাধী ও সবচেয়ে প্রবীণ হিসেবে প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রতিযোগিতায় রয়েছেন। তিনি নিজেকে দেশকে সংকট থেকে বের করে আনার একমাত্র সমাধান হিসেবে তুলে ধরেছেন। মিশিগানের গ্র্যান্ড র‌্যাপিডসে তার শেষ সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার ভোটে আমরা আমাদের দেশের প্রতিটি সমস্যার সমাধান করতে পারব এবং আমেরিকাকে, এমনকি বিশ্বকে নতুন গৌরবের উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারব।’

অন্যদিকে ট্রাম্প সমর্থিত গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে হ্যারিস নারীদের অধিকার রক্ষায় জোর দিয়েছেন, যা ভোটারদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে তিনি ট্রাম্পের কথা উল্লেখ না করে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। যদিও আগের কয়েক সপ্তাহে তিনি সরাসরি গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন।

ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন হলে ইতিহাস সৃষ্টি হবে। ১৮৯৩ সালে গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের পর এটি হবে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে আসা। তবে ট্রাম্প ফের ক্ষমতায় এলে আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে। ইউরোপ ও ন্যাটোতে তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির জন্য উদ্বেগ বাড়ছে। এ ছাড়া বাণিজ্য অংশীদাররা তার ব্যাপক আমদানি শুল্ক আরোপের প্রতিশ্রুতি নিয়ে শঙ্কিত।

আরো পড়ুন
‘ট্রাম্প জিতলে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন পুনর্বিবেচনা করবে ইউরোপ’

‘ট্রাম্প জিতলে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন পুনর্বিবেচনা করবে ইউরোপ’

 

অন্যদিকে হ্যারিস জয়ী হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রেসিডেন্ট হবেন এবং প্রায় এক দশক ধরে মার্কিন রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকারী ট্রাম্প যুগের অবসান ঘটাবেন। ট্রাম্প ইতিমধ্যে বলেছেন, তিনি ২০২৮ সালে আর নির্বাচন করবেন না। তবে তিনি আবারও হারলে তা মেনে নেবেন না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি ভোট জালিয়াতির ভিত্তিহীন দাবি তুলে বলেছেন, তার ‘কখনোই হোয়াইট হাউস ছাড়ার কথা ছিল না।’

সূত্র : এএফপি

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

জনশূন্য পেঙ্গুইনের দ্বীপেও শুল্ক বসালেন ট্রাম্প!

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
জনশূন্য পেঙ্গুইনের দ্বীপেও শুল্ক বসালেন ট্রাম্প!
সংগৃহীত ছবি

অ্যান্টার্কটিকার কাছে বরফে ঢাকা, জনশূন্য আগ্নেয়গিরিময় দ্বীপপুঞ্জ। সেখানে শুধু পেঙ্গুইনদের বাস। তা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কারোপ থেকে রক্ষা পায়নি এসব দ্বীপ। এসব দ্বীপের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছেন তিনি।

খবর দ্য গার্ডিয়ান ও এএফপির।

অস্ট্রেলিয়ার দূরবর্তী ভূখণ্ড হার্ড দ্বীপ ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ পৃথিবীর অন্যতম প্রত্যন্ত অঞ্চল। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থ থেকে নৌকায় সেখানে পৌঁছাতে দুই সপ্তাহ লাগে। ধারণা করা হয়, একদম জনশূন্য এই দ্বীপে প্রায় এক দশক আগে শেষবার মানুষের পা পড়েছিল।

তবু যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস প্রকাশিত নতুন শুল্কের তালিকায় ‘দেশ’ হিসেবে জায়গা পেয়েছে হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ। এর পরিপ্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেছেন, ‘পৃথিবীর কোনো জায়গা নিরাপদ নয়।’

হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডের বাইরের আরো কিছু অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের তালিকায় আলাদা করে স্থান পেয়েছে, যেগুলোর ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে।

আরো পড়ুন
মাস্কের সরকারি পদ ছাড়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিল হোয়াইট হাউস

মাস্কের সরকারি পদ ছাড়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিল হোয়াইট হাউস

 

অস্ট্রেলিয়ার এসব দূরবর্তী ও বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সরাসরি স্বায়ত্তশাসিত নয়, তবে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বিশেষ প্রশাসনিক সম্পর্ক রয়েছে।

শুল্ক তালিকায় থাকা অন্য দ্বীপের মধ্যে কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জ, ক্রিসমাস দ্বীপ ও নরফোক দ্বীপও রয়েছে।

মন্তব্য

মাস্কের সরকারি পদ ছাড়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিল হোয়াইট হাউস

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
মাস্কের সরকারি পদ ছাড়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিল হোয়াইট হাউস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছিলেন যে ধনকুবের ইলন মাস্ক সরকারি দায়িত্ব থেকে শিগগির সরে দাঁড়াবেন। গত বুধবার পলিটিকো এবং সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি নিউজ এসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 

তবে হোয়াইট হাউস এই খবর নাকচ করে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এই 'বিশেষ' খবরকে আবর্জনা বলেন মন্তব্য করেছেন।

টেসলার প্রতিষ্ঠাতা মাস্ককে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি দক্ষতা বিভাগের (ডিওজিই) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

মূলত ফেডারেল সরকারের ব্যয় কমাতে বিভাগটি চালু করা হয়েছে। মাস্কের কার্যক্রম নিয়ে ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগীদের মতবিরোধ আছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে পলিটিকোর প্রতিবেদনকে ‘আবর্জনা’ আখ্যা দিয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেছেন, ইলন মাস্ক এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উভয়ই প্রকাশ্যে বলেছেন যে, ডিওজিইতে তার অবিশ্বাস্য কাজ শেষ হলে মাস্ক একজন বিশেষ সরকারি কর্মচারী হিসেবে সরকারি পরিষেবা থেকে প্রস্থান করবেন।

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, মাস্ক কোনো এক সময় তার কম্পানিতে ফিরে যাবেন।

আরো পড়ুন
নৈশভোজে এক টেবিলে ইউনূস-মোদি

নৈশভোজে এক টেবিলে ইউনূস-মোদি

 

তিনি বলেন, আমি মনে করি তিনি (মাস্ক) বিস্ময়কর। তবে একটি বড় কম্পানি পরিচালনার কাজ করতে হয় তাঁকে। কোনো এক সময় তিনি সেখানে ফিরে যাবেন।

’ সূত্র : ডয়চে ভেলে

মন্তব্য

পছন্দ না হওয়ায় ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে হবু বরকে হত্যাচেষ্টা তরুণীর

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
পছন্দ না হওয়ায় ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে হবু বরকে হত্যাচেষ্টা তরুণীর
প্রতীকী ছবি

ভারতের মহারাষ্ট্রের পুণেতে পরিবারের পছন্দ করা পাত্রকে পছন্দ না হওয়ায় হওয়ায় ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে হবু বরকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ময়ূরী ডাংড়ে নামের এক তরুণীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত ওই তরুণী পলাতক রয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বুধবার (২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইয়াভাত থানা পুলিশের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, সম্প্রতি ভারতের পুণের অহল্যানগরের বাসিন্দা ময়ূরী ডাংড়ে নামের ওই তরুণীর সঙ্গে জলগাঁওয়ের বাসিন্দা সাগর জয় সিংহের পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক করা হয়। কিন্তু ওই তরুণী ওই বিয়েতে রাজি ছিলেন না। তাই তিনি সন্দীপ গাওড়ে নামের এক পেশাদার খুনিকে ভাড়া করেন হবু বরকে হত্যা করার জন্য। ওই পেশাদার খুনিকে অগ্রিম দুই লাখ ১৪ হাজার টাকাও দেন ওই তরুণী।

 

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী সাগর জলগাঁওয়ের একটি হোটেলে রান্নার কাজ করতেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নিজের কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় পুণে-শোলাপুর হাইওয়ের উপর দৌন্ড তালুকের পাশে হামলার শিকার হয় তিনি। এ সময় হামলাকারীরা লাঠি এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে। সাগর গুরুতর আহত হলে তাকে সেখান ফেলে চম্পট দেন দুষ্কৃতীরা।

পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্তে নামে পুলিশ। 

এ ব্যাপারে ইয়াভাত থানার সহকারী পরিদর্শক মহেশ মানে বলেন, ‘আমরা পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছি। ময়ূরী পলাতক রয়েছে।’

মন্তব্য

ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে নজরদারি করবে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে নজরদারি করবে যুক্তরাষ্ট্র
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ও অন্যান্য ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

মার্কিন ও ইসরায়েলি প্রশাসনের সমালোচকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকাতেই এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে ওয়াশিংটন। গত বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। গেল ২৫ মার্চ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো দীর্ঘ এক বার্তায় রুবিও এই নির্দেশনা দিয়েছেন বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, এই সিদ্ধান্ত আসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ সই করার ৯ সপ্তাহ পর। সেই আদেশের মাধ্যমে কিছু বিদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করার অভিযান শুরু হয়। এরমধ্যে ‘মার্কিন নাগরিক, সংস্কৃতি, সরকার, প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠার মূলনীতির প্রতি বৈরী মনোভাব’ থাকতে পারে- এমন ব্যক্তি রয়েছেন।

ট্রাম্প আরো একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যার মাধ্যমে তিনি ‘বিরোধী মনোভাবসম্পন্ন’ বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করতে বলেন, বিশেষ করে যারা গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধবিরোধী বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।

রুবিওর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কিছু শিক্ষার্থীর ভিসার আবেদন পাঠানো হয়েছে প্রতারণা প্রতিরোধ ইউনিটের কাছে। বিশেষ এই ইউনিট ওই শিক্ষার্থীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় তৎপরতা যাচাই করবে। যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ও ইহুদিবিরোধী মনোভাবের ইঙ্গিত মিললে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

প্রতারণা প্রতিরোধ ইউনিট সাধারণত দূতাবাস বা কনস্যুলেটের কনস্যুলার শাখার অংশ, যা ভিসা আবেদনকারীদের স্ক্রিনিং করতে সহায়তা করে।

বার্তায় কূটনীতিকদের ভিসা বাতিলের মানদণ্ড সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। সিবিএস নিউজে ১৬ মার্চ দেওয়া রুবিওর এক সাক্ষাৎকারের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘আমরা আমাদের দেশে এমন কাউকে চাই না, যারা অপরাধ করবে বা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। এটা খুবই সাধারণ বিষয়, বিশেষ করে যারা অতিথি হিসেবে আমাদের দেশে আসে, কারণ ভিসা হলো অতিথি হয়ে থাকার অনুমতি।’

বার্তায় আরো বলা হয়, যেসব আবেদনকারীর আচরণ বা কর্মকাণ্ড দেখাবে যে তারা ‘মার্কিন নাগরিক বা মার্কিন সংস্কৃতির (সরকার, প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠার মূলনীতি) প্রতি বৈরী মনোভাব পোষণ করে, তাদের ভিসা বাতিল করা হতে পারে।

বার্তায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিসাগুলোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নজরদারি করা হবে।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ