‘ইউরোপীয় সেনাবাহিনী’ গঠনের আহ্বান জেলেনস্কির

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
‘ইউরোপীয় সেনাবাহিনী’ গঠনের আহ্বান জেলেনস্কির
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি ১৫ ফেব্রুয়ারি ৬১তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন। ছবি : এএফপি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার জন্য একটি ‘ইউরোপীয় সেনাবাহিনী’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো আর ইউরোপকে সহায়তা করতে না-ও আসতে পারে।

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় জেলেনস্কি আরো বলেন, ইউক্রেন ‘কখনোই আমাদের পেছনে কোনো চুক্তি হলে তা মেনে নেবে না’।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে শান্তি আলোচনার সিদ্ধান্তের পরপরই তার এ মন্তব্য এলো।

অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স শুক্রবার দেওয়া এক ভাষণে ইউরোপীয় গণতন্ত্রের সমালোচনা করে বলেন, প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে ইউরোপকে ‘বড় ভূমিকা নিতে হবে’।

জেলেনস্কি আরো বলেন, ‘আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, সময় এসেছে—ইউরোপের সেনাবাহিনী গঠন করতে হবে।’

আরো পড়ুন
‘ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ছাড়া যুদ্ধ প্রকৃত অর্থে শেষ হবে না’

‘ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ছাড়া যুদ্ধ প্রকৃত অর্থে শেষ হবে না’

 

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘গতকাল মিউনিখে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেছেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো সম্পর্কের যুগ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন থেকে সব কিছু বদলে যাবে এবং ইউরোপকে এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।

এর আগে এই সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রায় হামলা ন্যাটোর জন্য এক ধরনের ‘ফ্যাক্টরি রিসেট’, যা প্রমাণ করে, জোটটিকে আরো ‘শক্তিশালী’, ‘বলিষ্ঠ’ ও ‘বাস্তবসম্মত’ হতে হবে।

জেলেনস্কি শনিবার বলেন, “চলুন, বাস্তবতা স্বীকার করি। এখন আমরা এ কথা উড়িয়ে দিতে পারি না যে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা কোনো ইস্যুতে ‘না’ বলে দিতে পারে। অনেক নেতা বহুবার বলেছেন, ইউরোপের নিজস্ব সামরিক বাহিনী প্রয়োজন।

একটি সেনাবাহিনী, ইউরোপের সেনাবাহিনী।”

ইউরোপীয় সেনাবাহিনীর ধারণাটি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁসহ আরো অনেক নেতা প্রস্তাব করেছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা তৈরির পক্ষে কথা বলে আসছেন।

আরো পড়ুন
মস্কো ও কিয়েভ আসলে কী চায়

মস্কো ও কিয়েভ আসলে কী চায়

 

জেলেনস্কি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাকে পুতিনের সঙ্গে তার কথোপকথনের কথা জানান। একবারও তিনি উল্লেখ করেননি, যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপকে আলোচনার টেবিলে প্রয়োজন—এটা অনেক কিছুই বলে দেয়। পুরনো সেই দিন শেষ, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে সমর্থন করত শুধু আগেও তাই করেছিল বলে।

যখন ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন তিন বছরে পড়তে যাচ্ছে, ট্রাম্প ও হেগসেথ—দুজনই বলেছেন, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো বলেছেন, ইউক্রেনের ২০১৪ সালের আগের সীমান্তে ফিরে যাওয়াও বাস্তবসম্মত নয়। অন্যদিকে জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্য পদ পাওয়ার বিষয়টি আলোচনার বাইরে রাখবেন না।

ট্রাম্প গত সপ্তাহে পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন, যেখানে তারা ইউক্রেন ইস্যুতে শান্তি আলোচনা নিয়ে আলোচনা করেন। তবে এতে গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের উপেক্ষা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের পাশাপাশি ইউরোপেরও আলোচনার টেবিলে থাকা উচিত, ‘যখন ইউরোপ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে’।

এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি ও পুতিন সৌদি আরবে সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা করছেন এবং তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, দুজনেই পরস্পরকে তাদের নিজ নিজ রাজধানীতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, পুতিন একক আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে বিচ্ছিন্ন করার ‘একটি খেলা’ খেলছেন।

জেলেনস্কি বলেন, ‘পরবর্তী ধাপে, পুতিন চেষ্টা করবেন যাতে ৯ মে এই বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট রেড স্কয়ারে দাঁড়িয়ে থাকেন—একজন সম্মানিত নেতা হিসেবে নয়, বরং তার নিজস্ব প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে।’

ট্রাম্পের মস্কো সফরের কোনো তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। রাশিয়া ৯ মে ‘বিজয় দিবস’ উদযাপন করে, যেদিন তারা ১৯৪৫ সালে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে বিজয় অর্জনের স্মরণ করে।

ইউক্রেনের আলোচনায় অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ গত সপ্তাহে বলেন, ‘কিয়েভ অবশ্যই কোনো না কোনোভাবে আলোচনায় অংশ নেবে।’

এ ছাড়া জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ বলেন, তার দেশ কখনো চাপিয়ে দেওয়া শান্তি মেনে নেবে না। পাশাপাশি পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টুস্ক বলেন, ইউরোপের ইউক্রেন ইস্যুতে নিজেদের পরিকল্পনা থাকা দরকার, ‘অন্যথায় বিশ্বের অন্য শক্তিগুলো আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।’

সূত্র : বিবিসি

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

বাংলাদেশ ও ড. ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্পর্ক জোরদারের বার্তা ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
বাংলাদেশ ও ড. ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্পর্ক জোরদারের বার্তা ট্রাম্পের

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণ ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্টের শুভেচ্ছা বার্তাটি প্রকাশ করা হয়েছে। 

শুভেচ্ছা বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আমেরিকান জনগণের পক্ষ থেকে, আমি আপনাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এই পরিবর্তনের সময় বাংলাদেশের জনগণের জন্য গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বর্ধিত নিরাপত্তার জন্য সক্ষমতা তৈরির একটি সুযোগ এনে দিয়েছে।

 

ট্রাম্প বলেছেন, আসন্ন এই গুরুত্বপূর্ণ বছরে আমাদের অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উন্মুখ। আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমরা আমাদের সম্পর্ক জোরদার করার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে পারব এবং ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে পারব। স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আপনার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন।  
 

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাস মুখপাত্র কানৌয়া নিহত

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাস মুখপাত্র কানৌয়া নিহত
ছবিসূত্র : এএফপি

ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের মুখপাত্র আবদেল-লতিফ আল-কানৌয়া নিহত হয়েছেন। উত্তর গাজার জাবালিয়া আল-বালাদে তার তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলায় তিনি প্রাণ হারান। বৃহস্পতিবার ভোরে হামাস-অনুমোদিত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে এই তথ্য। ইসরায়েল গাজায় তাদের অভিযান পুনরায় শুরু করার পর থেকে তিনিই সর্বশেষ নিহত ব্যক্তি।

কুদস নিউজ নেটওয়ার্কও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রতিবেদন করেছে। মাটিতে আবৃত অবস্থায় আল-কাউয়ার মৃতদেহের একটি ছবি প্রকাশ করেছে তারা। হামাস-পরিচালিত আল-আকসা টেলিভিশন জানিয়েছে, জাবালিয়ায় আল-কানৌয়ার তাঁবু লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে তিনি নিহত হন। একই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, অন্যদিকে গাজা সিটিতে পৃথক হামলায় কমপক্ষে ছয়জন ও দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একজন নিহত হয়েছেন বলে মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে।

এই সপ্তাহের শুরুতে, ইসরায়েল হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সদস্য ইসমাইল বারহুম এবং আরেকজন জ্যেষ্ঠ নেতা সালাহ আল-বারহুমকে হত্যা করে। উভয়ই ২০ সদস্যের হামাসের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা ও রাজনৈতিক কার্যালয়ের সদস্য ছিলেন। হামাস সূত্র অনুসারে, ২০২৩ সালের শেষের দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যাদের মধ্যে ১১ জন নিহত হয়েছেন।

গত সপ্তাহে ইসরায়েল বোমা হামলা এবং স্থল অভিযান পুনরায় শুরু করলে দুই মাস ধরে চলা যুদ্ধবিরতি শেষ হয়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মার্চ গাজায় ইসরায়েলের বড় ধরনের সামরিক হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে ৮৩০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের অর্ধেকেরও বেশি শিশু ও নারী।

ইসরায়েল ও হামাস একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করেছে। জানুয়ারি থেকে এটি ব্যাপকভাবে অব্যাহত ছিল এবং গাজার ২.৩ মিলিয়ন বাসিন্দাকে যুদ্ধ থেকে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, যা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

৭ অক্টোবর ২০২৩ সালের হামলায় আটক ২৫০ জন জিম্মির মধ্যে ৫৯ জনকে এখনও আটক রেখেছে হামাস। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের জন্য মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করার অভিযোগ করেছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবি, হামাস যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তিনি হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার তিনি বারবার হুমকি দিয়েছেন, হামাস যদি তাদের দখলে থাকা বাকি জিম্মিদের মুক্তি দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে গাজার অঞ্চল দখল করা হবে।

গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৮৩০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১৮০০ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের বর্বর এই হামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দিয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স

মন্তব্য

গাজায় হামাসবিরোধী সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ, ক্ষমতা ছাড়তে আহ্বান

বিবিসি
বিবিসি
শেয়ার
গাজায় হামাসবিরোধী সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ, ক্ষমতা ছাড়তে আহ্বান
গাজার বেইত লাহিয়া এলাকায় ২৫ মার্চ যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে একটি সমাবেশে অংশগ্রহণ নেয় ফিলিস্তিনিরা। ছবি : এএফপি

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বড় হামাসবিরোধী বিক্ষোভে শত শত মানুষ অংশ নিয়েছে। তারা গাজায় হামাসের ক্ষমতাচ্যুতি দাবি করে রাস্তায় নেমে এসেছে। কিন্তু মুখাবয়ব ঢাকা হামাসের যোদ্ধারা, কেউ বন্দুক নিয়ে ও অন্যরা লাঠি নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর আক্রমণ করে তাদের তাড়িয়ে দেয় এবং কয়েকজনকে আক্রমণ করে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামাসের প্রতি সমালোচনাপূর্ণ ভিডিওগুলোতে একদল তরুণ পুরুষকে গাজার উত্তরাঞ্চলে বেইত লাহিয়া এলাকায় রাস্তায় হাঁটতে দেখা যায়, তারা ‘হামাস তুমি চলে যাও, হামাস তুমি চলে যাও’ স্লোগান দিচ্ছিল।

হামাস সরাসরি এই বিক্ষোভের বিষয়ে মন্তব্য করেনি। তবে বুধবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার জন্য দায়ী করেছে। অন্যদিকে হামাসের সমর্থকরা বিক্ষোভের গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়ে অংশগ্রহণকারীদের দেশদ্রোহী বলে অভিযোগ করেছেন।

ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধারা ইসরায়েলে রকেট হামলা চালানোর এক দিন পর উত্তর গাজায় এ বিক্ষোভ হয়।

ওই হামলার ফলে বেইত লাহিয়ার বিশাল অংশ খালি করার সিদ্ধান্ত নেয় ইসরায়েল, যা এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়।

ইসরায়েল দীর্ঘ দুই মাসের যুদ্ধবিরতির পর গাজায় সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করেছে, হামাসের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন প্রস্তাবের সমর্থন না দেওয়ার কারণে। অন্যদিকে জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত মূল চুক্তি বাতিল করার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে হামাস। ১৮ মার্চ ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকে শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছে।

বেইত লাহিয়ার বাসিন্দা ও বিক্ষোভকারী মোহাম্মদ ডিয়াবের বাড়ি যুদ্ধের মধ্যে ধ্বংস হয়েছে এবং গত বছর ইসরায়েলি বিমান হামলায় তার ভাই নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কারো জন্য, কোনো দলের এজেন্ডার জন্য বা বিদেশি রাষ্ট্রের স্বার্থে মরতে চাই না। হামাসকে পদত্যাগ করতে হবে এবং শোকাহতদের কণ্ঠস্বর শোনার জন্য প্রস্তুত হতে হবে, যা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উঠে আসে, সেটাই সবচেয়ে সত্যবাদী কণ্ঠস্বর।’

এ ছাড়া শহরটির একটি ফুটেজে বিক্ষোভকারীদের ‘হামাস শাসনের বিরুদ্ধে, মুসলিম ব্রাদারহুড শাসনের বিরুদ্ধে’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। ২০০৭ সাল থেকে হামাস গাজার একমাত্র শাসক, যখন তারা এক বছরের পুরনো ফিলিস্তিনি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সহিংসভাবে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিতাড়িত করে।

যুদ্ধের শুরু থেকেই গাজায় হামাসের প্রতি সরাসরি সমালোচনা বেড়েছে, রাস্তায় ও অনলাইনে। তবে এখনো যারা হামাসের প্রতি তীব্র আনুগত্য দেখায় তাদের সংখ্যা কম নয় এবং এটি সঠিকভাবে বলা কঠিন যে হামাসের প্রতি সমর্থন কতটুকু পরিবর্তিত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগেই হামাসের বিরুদ্ধে বিরোধিতা ছিল। তবে বেশির ভাগ সময় তা প্রতিশোধের ভয়ে গোপন ছিল।

গাজার মোহাম্মদ আল-নাজ্জার তার ফেসবুকে পোস্ট করেন, ‘মাফ করবেন, কিন্তু হামাস আসলে কী বাজি ধরছে? তারা আমাদের রক্তে বাজি ধরছে, সেই রক্ত, যা সারা বিশ্ব শুধু সংখ্যার মতো দেখে। হামাসও আমাদের শুধু সংখ্যা হিসেবেই গণ্য করে। পদত্যাগ করুন এবং আমাদের ক্ষত সারানোর সুযোগ দিন।’

গাজায় যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার মাধ্যমে, যাতে প্রাথমিকভাবে এক হাজার ২০০ জন নিহত হয়, যার বেশির ভাগই বেসামরিক। এরপর ইসরায়েল গাজায় হামাসকে ধ্বংস করতে সামরিক অভিযান শুরু করে। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, যুদ্ধে ৫০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়। এ ছাড়া গাজার ২১ লাখ জনসংখ্যার বেশির ভাগই গৃহহীন হয়ে পড়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই একাধিকবার গৃহহীন হয়েছে। আনুমানিক ৭০ শতাংশ ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, গাজায় স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং খাবার, জ্বালানি, ওষুধ ও আশ্রয়ের অভাব রয়েছে।

মন্তব্য

হিমশীতল হ্রদে বিধ্বস্ত বিমানের ডানা থেকে পাইলট ও শিশুদের উদ্ধার

এএফপি
এএফপি
শেয়ার
হিমশীতল হ্রদে বিধ্বস্ত বিমানের ডানা থেকে পাইলট ও শিশুদের উদ্ধার
বিমানটি প্রায় সম্পূর্ণ ডুবে গিয়েছিল, কেবল ডানা ও রাডারের ওপরের অংশ দেখা যাচ্ছিল। ছবি : ডেল আইশার/ইন্ডিপেনডেন্ট

একজন পাইলট ও দুই শিশুকে একটি ছোট বিমান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের একটি বরফাচ্ছন্ন হ্রদে বিধ্বস্ত হয়েছিল। রাতভর অনুসন্ধানের পর তাদের উদ্ধার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এএফপির বুধবারের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

পাইপার পিএ-১২ সুপার ক্রুজার নামের প্রপেলারচালিত বিমানটি তুস্তুমেনা হ্রদ ও কেনাই পর্বতমালা এলাকায় নিখোঁজ হয় বলে স্থানীয় সময় রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জানানো হয়।

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ফিরে না আসায় বিমানটির খোঁজ শুরু হয়।

প্রথমে একজন স্বেচ্ছাসেবী পাইলট বরফাচ্ছন্ন হ্রদের ওপর বিমানটি দেখতে পান, যা নিখোঁজ ঘোষণার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর যাত্রীদের উদ্ধারের পথ তৈরি করে। পরে অঙ্গরাজ্যের পুলিশ বিভাগ আলাস্কা স্টেট ট্রুপার সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, আজ সকালে একজন স্বেচ্ছাসেবী পাইলট তুস্তুমেনা হ্রদের পূর্ব পাশে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ দেখতে পান।

এ ছাড়া স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবিতে আংশিকভাবে ডুবে থাকা বিমানের ডানার ওপর তিনজনকে বসে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয় আবহাওয়ার রেকর্ড অনুযায়ী, রাতভর তুষারশীতল আবহাওয়ার মধ্যে উদ্ধারকারী দল তাদের খুঁজে বের করতে চেষ্টা চালিয়ে যায়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি ও শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তবে তাদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো আঘাত নেই।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া স্থানীয় পাইলটদের একজন ডেল আইশার। তিনি জানান, তারা বেঁচে ফিরেছেন, এটি সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।

স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল কেটিইউইউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইশার আরো বলেন, ‘আমি আশা করিনি যে আমরা তাদের খুঁজে পাব, আর জীবিত অবস্থায় পাব, সেটাও ভাবিনি। আমি কিছু উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছি, কিন্তু সব সময় এমন ভালো ফল আসে না।’

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ