ইরান সমর্থিত ইয়েমের হুতি গোষ্ঠী বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনা এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর কিছুক্ষণ আগেই ইসরায়েল জানায়, তারা ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
হুতির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, তারা বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরকে ‘একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে’ এবং তেল আবিবের দক্ষিণে ‘একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে। এর আগে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানায়, ইয়েমেন থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে, ‘যেগুলো ইসরায়েলি ভূখণ্ডে প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়’।
এর ফলে জেরুজালেমসহ বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়।
সারি আরো বলেন, বিদ্রোহীরা ‘লোহিত সাগরে শত্রু যুদ্ধজাহাজগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে, যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি (ইউএসএস হ্যারি এস) ট্রুম্যান।’
হুতি মুখপাত্র জানান, ’আমাদের দেশের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন আগ্রাসনের প্রতিশোধ’ হিসেবে এ চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ১৫ মার্চ হুতির বিরুদ্ধে ব্যাপক আকারের সামরিক অভিযান চালায়, যা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ‘বৃহৎ পরিসরের অভিযান’ বলে উল্লেখ করে।
পাশাপাশি ওয়াশিংটন হুঁশিয়ারি দেয়, যতক্ষণ না হুতি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুটে হামলা বন্ধ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নিতে থাকবে। এর আগে হুতি গাজার যুদ্ধের কারণে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর হুমকি দেয়। তখন থেকেই হুতি প্রায় প্রতিদিনই মার্কিন বিমান হামলার শিকার হওয়ার দাবি করছে।
২ জন নিহত
এর আগে হতি বৃহস্পতিবার জানায়, বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানার কাছে রাতভর চালানো বিমান হামলায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
তারা এ হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দোষ চাপিয়েছে।
হুতি মালিকানাধীন আল-মাসিরাহ টিভি চ্যানেল জানায়, সানা প্রদেশের উত্তর ও দক্ষিণ অংশে প্রায় ২০টি হামলা চালানো হয়েছে। এক্সে হুতি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি বলেন, ‘মার্কিন আগ্রাসনে দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছে।’
আল-মাসিরাহ আরো জানায়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে সাদা শহরে নতুন করে বিমান হামলা চালানো হয়, যা হুতির উত্তরাঞ্চলীয় শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এর আগের দিন হুতি গণমাধ্যম জানায়, সেখানে ১৭ বার হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সব সময় এই ধরনের হামলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় না। তবে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা রবিবার এএফপিকে বলেন, মার্কিন বাহিনী ‘প্রতিদিন ও প্রতি রাতেই ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতির বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে’।
আরো পড়ুন
সিগন্যাল চ্যাট ফাঁস : সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের
চ্যাট গ্রুপ কেলেঙ্কারি
এদিকে হুতির দাবি করা সর্বশেষ হামলাগুলোর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র একটি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছে, যা ১৫ মার্চের হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিন তাদের হাতে আসা এমন তথ্য প্রকাশ করেছে, যেখানে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি সিগন্যাল চ্যাট গ্রুপে ভুলবশত শেয়ার করা বার্তার বিবরণ রয়েছে।
হোয়াইট হাউস অবশ্য বৃহস্পতিবার এই কেলেঙ্কারির প্রতিক্রিয়ায় জানিয়ে বলেছে, এতে কোনো গোপনীয় তথ্য ফাঁস হয়নি। এরপর দ্য আটলান্টিক ১৫ মার্চের হামলার বিস্তারিত প্রকাশ করে। মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইয়েমেনের উপকূলে বিমানবাহী রণতরী গ্রুপ ট্রুম্যানের ওপর একাধিক হামলা ও ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দায় স্বীকার করে হুতি।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির অংশ হিসেবে তারা এসব চালায় বলে দাবি করে। তবে জানুয়ারিতে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে তারা এসব হামলা বন্ধ করে। পরে চলতি মাসের শুরুতে গোষ্ঠীটি ঘোষণা দেয়, ইসরায়েলের মানবিক সহায়তা অবরোধের প্রতিবাদে তারা আবারও হামলা শুরু করবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালায়, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলের পর প্রথমবার ঘটে।