ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫
২০ চৈত্র ১৪৩১, ০৩ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫
২০ চৈত্র ১৪৩১, ০৩ শাওয়াল ১৪৪৬
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা

সেচ সুবিধাবঞ্চিত ৬৫ লাখ একর জমি

  • * ৪৪ বছরেও গঙ্গাবাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি * দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মারাত্মক মরুকরণ শুরু হয়েছে
তারিকুল হক তারিক, কুষ্টিয়া
তারিকুল হক তারিক, কুষ্টিয়া
শেয়ার
সেচ সুবিধাবঞ্চিত ৬৫ লাখ একর জমি

কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, পদ্মার পানি সংরক্ষণ, খরা মৌসুমে সেচ সুবিধা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, লবণাক্ততা রোধ এবং ভূগর্ভস্থ পানি আয়ত্তে রাখার উদ্দেশ্যে কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে গঙ্গাবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গঙ্গাবাঁধ নির্মাণের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ৪৪ বছর পরও সরকারের আন্তরিকতার অভাবে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। এই অভিযোগ করেছেন গঙ্গাবাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির নেতারা।

ভেড়ামারার বাহিরচর গ্রামের পদ্মা নদীর পারে যে স্থানে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল সে স্থানটি এখন গোচারণভূমিতে পরিণত হয়েছে।

এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় প্রতিবছর ৬৫ লাখ একর জমি সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও এ অঞ্চলের কৃষকরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি খরাজনিত কারণেও নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ একর জমির ফসল। ১৯৮০ সালের ২৭ ডিসেম্বর গঙ্গাবাঁধ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও নির্মাণকাজ আর শুরু হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চাশের দশকে কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর এলাকায় ওই সময়েই প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি একজন বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছিল।

সেটিকে ক্রুক মিশনের মতামত বলা হয়ে থাকে। পরে ক্রুক মিশনের সুপারিশে ১৯৫৯ সালে ইস্ট পাকিস্তান পাওয়ার অ্যান্ড ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠন করা হয় এবং ১৯৬১ সালে সাবেক ওয়াপদা গঙ্গাবাঁধ বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেয়। এরপর ১৯৬৩ সালে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ঠ্যামস, ১৯৬৪ সালে আরেকটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান আইকো এবং ১৯৬৮ সালে স্থানীয় কারিগরি প্রতিষ্ঠান অ্যাসোসিয়েটেড কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্স গঙ্গাবাঁধ প্রকল্পের চূড়ান্ত কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন করে। পরে ১৯৬৯ সালের শেষের দিকে গঙ্গাবাঁধ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কিন্তু তখন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের জন্য তা স্থগিত হয়ে যায়।

জানা গেছে, বৃহত্তর কুষ্টিয়াসহ আশপাশের জেলাগুলোর মানুষের বছরে তিনটি ফসল উৎপাদনের নিশ্চয়তার লক্ষ্যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ৯ বছর পর ১৯৮০ সালে ওই প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করেন এবং ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর তৎকালীন বন্যা ও পানিসম্পদ মন্ত্রী কাজী আনোয়ারুল হক কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচরে পদ্মার তীরে গঙ্গাবাঁধ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর গঙ্গাবাঁধ প্রকল্পের কাজ আর অগ্রসর হয়নি; বরং ১৯৯৩ সালের ৫ এপ্রিল ১৯৮১ সালে কেনা বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী গোপন নিলামে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

কুষ্টিয়ার বিত্তিপাড়া গ্রামের কৃষক হায়দার আলী বলেন, পদ্মা নদীতে গঙ্গাবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় পানির অভাবে ঠিকমতো ফসল উৎপাদন হচ্ছে না। প্রতিবছর খরা মৌসুমে জিকে প্রকল্প পদ্মায় পানি অভাবে আমাদের সেচের পানি দিতে পারে না।

পাশাপাশি গোটা দক্ষিণাঞ্চলে মরুকরণসহ পরিবেশ বিপর্যয় হয়। ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর জন্যে অবিলম্বে গঙ্গাবাঁধ নির্মাণ করা জরুরি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, সমপূর্ণ পদ্মা নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প গঙ্গা কপোতাক্ষ (জিকে) প্রকল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে গঙ্গাবাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেই হবে। কুষ্টিয়াবাসীর প্রাণের দাবি এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সুবিধাবঞ্চিত এ অঞ্চলের ৬৫ লাখ একর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে এবং কৃষকের উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে লবণাক্ততা রোধ, ভূর্গস্থ পানি আয়ত্তে রেখে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদনের নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে।

গঙ্গাবাঁধ বাস্তবায়ন কমিটির তৎকালীন সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য সোহরাব উদ্দিন বলেন, গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকল্প গঙ্গাবাঁধ বাস্তবায়ন না হলে গোটা দক্ষিণাঞ্চল মরুকরণ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অবিলম্বে প্রস্তাবিত গঙ্গাবাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো উপায় নেই।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা এবং পানির অভাবে পদ্মা ও গড়াই নদ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য যৌথভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ ওয়াটার পার্টনারশিপ এবং ফোকলোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট। ফোকলোরের সভাপতি ড. আনোয়ারুল করিম জানান, গঙ্গাবাঁধ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এ অঞ্চলের পাঁচ কোটি মানুষ ও পরিবেশ আজ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। পানির অভাবে নদ-নদীগুলো মৃত হয়ে পড়ায় মিঠা পানিতে লবণাক্ততা বাড়ছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল মারাত্মক মরুকরণ শুরু হয়েছে।

 

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে দুই বন্ধুর মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
শেয়ার
ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে দুই বন্ধুর মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় গতকাল বুধবার দুপুরে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে কাইয়ুম ও তারেক নামের দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন। মারাত্মক আহত হয়েছেন আরো তিনজন। কাইয়ুম কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার করিম মিয়ার ছেলে এবং তারেক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গুরুহিত গ্রামের নজরুল মিয়ার ছেলে। আহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আখাউড়ার গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করার পর মোগড়া রেলওয়ে ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ট্রেনের যাত্রীবাহী বগির ছাদে থাকা কয়েকজন যুবক উঠে দাঁড়ান। এ সময় রেললাইনের ওপর দিয়ে যাওয়া ডিশ লাইনের তার পেঁচিয়ে তাঁরা চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।
আরেকজন জেলা সদর হাসপাতালে মারা যান। আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন খন্দকার বলেন, রেললাইনের ওপর দিয়ে যাওয়া তার পেঁচিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যান কয়েকজন যুবক। তাঁদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

 

মন্তব্য

সাতক্ষীরায় বিষাক্ত মদপানে দুজনের মৃত্যু

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
শেয়ার
সাতক্ষীরায় বিষাক্ত মদপানে দুজনের মৃত্যু

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বিষাক্ত মদপান করে অসুস্থ হয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অসুস্থ আরো ৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে একজন এবং গতকাল বুধবার ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজনের মৃত্যু হয়। অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনকে খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বাকি চারজনকে বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

মৃতরা হলেন আশাশুনি উপজেলার শাহানগর গ্রামের বাসিন্দা ও কাদাকাটি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন টিটু (৪০) এবং একই উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের নাজমুল হোসেন (৩৫)। তাঁরা দুজনই মাদুর ব্যবসায়ী ছিলেন।

মন্তব্য

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় পর্যায়ে নেই : এনসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় পর্যায়ে নেই : এনসিপি

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় পর্যায়ে নেই বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ অবস্থায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঘোলাটে ও অস্থির করে তুলছেন বলেও অভিযোগ তাদের। গতকাল বুধবার এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তরে সংযুক্ত) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৩০ মার্চ লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে স্থানীয় ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সংঘর্ষে হামলার শিকার হন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম মাহিরের বাবা আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা।

এতে তাঁর হাত ভেঙে যায় এবং তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। ২৪ মার্চ নোয়াখালীর হাতিয়ায় পথসভা ও জনসংযোগের সময়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদের ওপর হামলা চালান। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা এনসিপির কর্মী-সংগঠকদের নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।

মন্তব্য

উখিয়ায় ক্রিস্টাল মেথসহ মাদক কারবারি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
উখিয়ায় ক্রিস্টাল মেথসহ মাদক কারবারি আটক

কক্সবাজারের উখিয়ায় ক্রিস্টাল মেথ ও অস্ত্রসহ মাদক কারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। গতকাল বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইএসপিআর জানায়, মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের শফির বিল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নৌবাহিনী। অভিযানে উখিয়ার চিহ্নিত মাদক কারবারি ইমাম হোসেনকে আটক করা হয়।

এ সময় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ক্রিস্টাল মেথ, গাঁজা, সাতটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও তিনটি মোবাইল জব্দ করা হয়। আটক ইমাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। অভিযানের পর উদ্ধার করা মাদক ও অস্ত্রসহ তাঁকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি মাদক ও অপরাধ দমনে নৌবাহিনী দায়িত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ