kalerkantho


বাংলাদেশে ইফতারের সংস্কৃতি

মাওলানা কাসেম শরীফ   

২৯ মে, ২০১৮ ১৬:৩০



বাংলাদেশে ইফতারের সংস্কৃতি

মহানবী (সা.) খেজুর ও কয়েক ঢোক পানি দিয়েই ইফতার শুরু করতেন। সময়ের পরিবর্তনে তাতে যোগ হয়েছে হরেক রকম খাবার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইফতারে রয়েছে বৈচিত্র্য। বাংলাদেশের ইফতারে থাকে খেজুর, পেঁয়াজু, বেগুনি, হালিম, আলুর চপ, জিলাপি, মুড়ি ও ছোলা। একটু ব্যতিক্রমী হলে থাকে ফিশ কাবাব, মাংসের কিমা ও মসলা দিয়ে তৈরি কাবাবের সঙ্গে পরোটা, মিষ্টি ও ফল। শরবতসহ এসব খাবার এ দেশের ইফতার টেবিলকে দেয় পরিপূর্ণ রূপ। কিছু অঞ্চলে ইফতারের আসরে খিচুড়ি, চিঁড়া ইত্যাদিও শোভা পায়। আবার গ্রামের অনেক নারী ভাত-তরকারি দিয়েই ইফতার করেন।

রমজান মাসে সিনেমা হল ও রেস্তোরাঁগুলো থাকে প্রায় জনশূন্য। পুরান ঢাকায় এখনো এ রীতি অবশিষ্ট আছে। সাদা পাঞ্জাবি, মাথায় টুপি ও আতরের সুবাস মেখে ইফতার করার প্রস্তুতি নেন অনেক পুরুষ।

সাংস্কৃতিক জায়গা থেকে বিচার করলে দেখা যায়, সংস্কৃতিতে ইফতারের বিশেষ প্রভাব আছে। বহু অমুসলিম ইফতারের আয়োজন করে থাকেন। অনেক অমুসলিম ব্যবসার তাগিদে ইফতার সামগ্রী তৈরি করে থাকেন। হাট-বাজারে, অফিস-আদালতে ও সংঘবদ্ধ কোনো কোনো স্থানে অনেক অমুসলিম মুসলিমদের সঙ্গে ইফতারিতে অংশগ্রহণ করেন। এটি আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি। এর সঙ্গে ইসলামের বিরোধ বা সংঘাত নেই।

বাংলাদেশে এটি কমন হয়ে গেছে, ইফতারে পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, মুড়ি ও ছোলা না থাকলে যেন ইফতার হয় না, যদিও চিকিৎসকরা বলে আসছেন এটি স্বাস্থ্যসম্মত নয়। তা সত্ত্বেও এটি এখন বাংলাদেশের সংস্কৃতি। কিন্তু ইসলাম এর প্রতি কাউকে উদ্বুদ্ধ করে না। আবার এসব দিয়ে ইফতার করলে ইসলাম কাউকে বারণও করে না। এখানেই ইসলামের স্বাতন্ত্র্য। স্থানীয় ও দেশীয় সংস্কৃতি যদি ইসলামের কোনো নির্দেশনাবিরোধী না হয়, তাহলে তা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে ইসলাম কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় সংস্কৃতি গ্রহণ মুসলমানদের অস্তিত্বের স্বার্থেই প্রয়োজনীয়। এ ব্যাপারে ইসলাম পর্যাপ্ত অবকাশ রেখেছে।

লেখক : সাংবাদিক ও তাফসিরকারক


মন্তব্য