স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণের বন্ধু হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনগণের বিশ্বাস অর্জন করেছে। সফলতার সঙ্গে জঙ্গি দমন করেছে। বাংলাদেশের পুলিশ মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতন।
মতবিনিময়সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মানবাধিকার সম্পর্কে পুলিশ সচেতন
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস প্রগ্রাম যৌথভাবে ওই মতবিনিময়সভার আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এতে অংশ নেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, স্বরাষ্ট্রসচিব (জননিরাপত্তা বিভাগ) মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, র্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ্ত মুখার্জী প্রমুখ।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মানবাধিকারবিষয়ক প্রশিক্ষণের জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন একটি প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল তৈরি করবে। সে উপলক্ষে ওই মতবিনিময়সভার আয়োজন করা হয়।
সম্পর্কিত খবর

থাইল্যান্ড ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা
অনলাইন ডেস্ক

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
শফিকুল আলম বলেন, বিমসটেক বে অব বেঙ্গলকে ঘিরে একটা রিজিয়নাল গ্রুপ। এই গ্রুপের যথেষ্ট পটেনশিয়ালিটি আছে।
‘তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার পর থেকেই বলেছেন যে, আমাদের আশপাশে যে সার্ক আছে, বিমসটেক আছে, সেগুলোকে যে কোনোভাবে হোক আরো সক্রিয় করতে হবে। যাতে করে বাংলাদেশ তার রিজনাল কোঅপারেশন ফ্রেমে তার কথাগুলো বলতে পারে।
প্রেসসচিব আরো বলেন, ‘ইউএসের পক্ষ থেকে বিগিনিং অব কনভেনশনে আমরা এটা যাচাই-বাছাই করছি, যার কারণে আমরা এমনভাবে মুভ নিচ্ছি। আমরা মনে করি, ইউএসের সঙ্গে সামনে সুসম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে।

যৌথ অভিযানে এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার ৩৪১ জন
বাসস

দেশের চলমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে দেশব্যাপী যৌথবাহিনীর অভিযানে গত এক সপ্তাহে ৩৪১ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের অধীনস্থ ইউনিটসমূহ কর্তৃক অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশকিছু যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ সকল যৌথ অভিযানে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, একাধিক মামলার আসামি, ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং সদস্য এবং মাদক ব্যবসায়ীসহ মোট ৩৪১ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১৫টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৩টি বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, মাদকদ্রব্য, সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার দেশীয় অস্ত্র, চোরাই মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, জাল নোট ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
আটকদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানায় আইএসপিআর।
এ ছাড়াও, ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনের টার্মিনাল ও স্টেশনসমূহে টহল, সচেতনতামূলক মাইকিং, কালোবাজারি রোধ ও টিকিটের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
পাশাপাশি, মহাসড়কে বিকল্প রুট, পার্কিং ব্যবস্থা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং রোড ব্লক প্রতিরোধে দিনরাত কাজ করেছে সেনা টহল দল, যা ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রাকে করেছে সহজ ও নিরাপদ।
শিল্পাঞ্চলে সম্ভাব্য অস্থিরতা রোধে মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সমঝোতার মাধ্যমে বেতন-বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করেছে সেনাবাহিনী। ফলে শ্রমিকদের ঈদ উদযাপন হয়েছে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন। এ ছাড়া, রোবাস্ট টহল, চেকপোস্ট, মাইকিং ও বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাস ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ জনগণকে যেকোন সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিষয়ে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে তথ্য প্রদান করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আশাশুনিতে রিং বাঁধ নির্মাণ ও ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনী
অনলাইন ডেস্ক

সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট গ্রামে রিং বাঁধ নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের সহায়তায় কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর একটি পদাতিক ইউনিটের সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিটের সদস্যরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সঙ্গে সমন্বয় করে বাঁধ মেরামতের কাজ বাস্তবায়ন করছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে স্থানীয় জনগণ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় দুই পাশ থেকে রিং বাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। বর্তমানে মোট পাঁচটি বাল্কহেড বাঁধ মেরামতের কাজ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, আজকের মধ্যে ৫০% নির্মাণকাজ সম্পন্ন হতে পারে। এ ছাড়াও, ত্রাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী আজ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের পানিবন্দী মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ৩১ মার্চ সকাল ১১টার দিকে উল্লেখিত বেড়িবাঁধটির একটি অংশ ভেঙে প্রায় ১৫০ ফুট জায়গা খোলপেটুয়া নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

ব্যাঙ্ককে খলিল-ডোভাল আলাপচারিতা
অনলাইন ডেস্ক

বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বহুখাতীয়, কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ—বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে এক টেবিলে অংশ নিয়েছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার উচ্চপ্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের নেতাদের জন্য বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এই নৈশভোজের আয়োজন করেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা।
সেখানে অজিত ডোভালের সঙ্গে আলাপ হয় প্রধান উপদেষ্টার উচ্চপ্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমানের। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, এ সময় অজিত ডোভাল ও ড. খলিলুর রহমান নিজেদের চিন্তা-ভাবনা ভাগাভাগি করেন।