সম্প্রতি ‘আজান হলেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মসজিদে যান প্রতিবন্ধী জাবেদ ওমর’ শিরোনামে দৈনিক কালের কণ্ঠের অনলাইন ও ডিজিটাল সংস্করণে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদন দেখে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের দোশারীচোঁ গ্রামের প্রতিবন্ধী জাবেদ ওমরের বাড়িতে ঈদ উপহার নিয়ে যান লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিমাদ্রী খীসা।
তবে এ সময় প্রতিবন্ধী জাবেদ ওমর বাড়িতে ছিলেন না। তিনি দোশারীচোঁ উত্তরপাড়া জামে মসজিদের সামনে জোহরের আজানের অপেক্ষায় বসেছিলেন।
ইউএনও মসজিদের সামনে গিয়ে প্রতিবন্ধীর সঙ্গে দেখা করেন। তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়ে তাকে ঈদ উপহার দেন।
প্রতিবন্ধী জাবেদ ওমরের বাবা জাফর আহমেদ বলেন, ‘আমি একজন ক্ষুদ্র চা দোকানি। ৪ সন্তানের মধ্যে সবার বড় জাবেদ ওমর।
জন্ম থেকেই সে প্রতিবন্ধী। আমার ছেলে ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে পড়ে। আগে হামাগুড়ি দিয়ে চলত, এখন আস্তে আসতে হাঁটতেছে। ইউএনও স্যার ঈদ উপহার নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসেছেন। স্যারকে ধন্যবাদ। আশা করি, সরকারি উপহারের খাদ্যে এবার আমাদের ঈদ ভালো কাটবে।’
লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিমাদ্রী খীসা বলেন, ‘কালের কণ্ঠের অনলাইন ও ডিজিটাল সংস্করণের প্রতিবেদন দেখে প্রতিবন্ধী জাবেদ ওমরের নাম-ঠিকানা জানতে পেরেছি। প্রতিবন্ধী হয়েও মসজিদে গিয়ে নিয়মিত জামায়াতে নামাজ পড়ার খবরে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসিত হয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামান্য ঈদ উপহার নিয়ে তার বাড়িতে এসেছি।
আগামীতে সরকারি সব সুবিধা তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ছাড়াও আমি বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার পৌঁছে দিয়েছি। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ মেহেদী হাসান শুভর হাতে ঈদ উপহার হিসেবে নগদ অর্থ তুলে দিয়েছি।’