<p>বজ্রপাতে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় সাহেরা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর  মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। </p> <p>স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল এবং থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। এরই মধ্যে দুপুরের রান্নার প্রস্তুতি নিতে বাড়ির পাশ থেকে খড়ি (জ্বালানি কাঠ) সংগ্রহ করতে বের হন সাহেরা বেগম। হঠাৎ করে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করার আগেই তিনি মারা যান।</p> <p>নিহত সাহেরা বেগম কাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মজিবর হোসেনের স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী বলে জানা গেছে। আকস্মিক এ মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে এলাকাবাসীও শোকাহত হয়ে পড়েন।</p> <p>সয়ার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনছুর পাঠোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘দুপুরে বৃষ্টির সময় তিনি বাইরে যাওয়ায় বজ্রপাতের শিকার হন। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার চেষ্টা চলছে।’</p> <p>বজ্রপাতে বাড়ছে ঝুঁকি, বাড়ছে মৃত্যু: </p> <p>বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাত একটি বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, যেমন রংপুর অঞ্চলে বর্ষা ও প্রাক-বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঘটনা বেশি ঘটে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতার কারণে বজ্রপাতের তীব্রতা ও ঘনত্ব বেড়েছে।</p> <p>বিভিন্ন গবেষণা বলছে, প্রতি বছর দেশে শতাধিক মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারান, যার বড় একটি অংশ কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী। খোলা মাঠে কাজ করা, গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া বা বৃষ্টির সময় বাইরে থাকা-এসব কারণে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।</p> <p>করণীয়:</p> <p>সচেতনতাই পারে প্রাণ বাঁচাতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় কিছু সতর্কতা মেনে চললে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।</p> <p>যেমন-বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকা বড় গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকা,ঘরের ভেতরে অবস্থান করা এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা। মোবাইল ফোন বা ধাতব বস্তু খোলা জায়গায় ব্যবহার না করা। এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলে বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা (লাইটনিং অ্যারেস্টার) স্থাপন এবং ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।</p> <p>স্থানীয়রা বলছেন, বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি এবং সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে নিহত পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।</p> <p>তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।’</p>