<p style="text-align: justify;">ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সৌরভ নামের এক যুবক। নিখোঁজের পর অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও কোথাও সন্ধান মেলেনি। এক দিন পর তার খোঁজ পাওয়া যায়, তিনি টাঙ্গাইলে যমুনা সেতুর পাশে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে ছিলেন।</p> <p style="text-align: justify;">শুক্রবার রাতে অচেনা নাম্বার থেকে সৌরভের সন্ধান পায় তার পরিবার। ২৭ বছর বয়সী দর্প বর্মন সৌরভ  জেলার সদর উপজেলার গোবিন্দনগর এলাকার গোপাল চন্দ্রের ছেলে।  </p> <p style="text-align: justify;">সৌরভের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ের ইএসডিও নামক একটি এনজিও থেকে ২ লাখ টাকা লোনের আবেদন করে সৌরভ। ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই লোনের টাকা উত্তোলনের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের মার্কেন্টাইল ব্যাংকের উদ্দেশে যাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ হয় এই যুবক। এর পর থেকে তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও সন্ধান পাওয়া যায়নি।</p> <p style="text-align: justify;">সৌরভের মামা হরেশ বলেন, ‘সৌরভ নিখোঁজের পর থেকেই অনেক খুঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাচ্ছিলাম না। পরদিন দুপুরে এই ঘটনায় আমরা ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি জিডি করা হয়। পরে রাতের দিকে এক ট্রাকচালকের মাধ্যমে জানতে পারি আমাদের ছেলে যমুনা সেতুর পাশে পড়ে ছিল। এ সময় সৌরভ স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিল না। তার কাছে কোনো টাকা ছিল না এবং তার ব্যবহৃত মোবাইলটিও সঙ্গে ছিল না। পরে বিষয়টি আমি ঠাকুরগাঁও সদর থানায় জানালে ঠাকুরগাঁও পুলিশের সহায়তায় স্থানীয় পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেয়। </p> <p style="text-align: justify;">ট্রাকচালক মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি সেতু পার হয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলাম। এ সময় একটি ছেলে হেলেদুলে আমার গাড়ির সামনে আসে। সে সঠিকভাবে কথা বলতে পারছিল না। বেশ কিছুক্ষণ পর সে তার পিতার মোবাইল নাম্বার দিতে সক্ষম হয়। সেই নাম্বারে যোগাযোগ করে আমি এই যুবকের সন্ধান তার পরিবারের কাছে দিই।’ </p> <p style="text-align: justify;">ট্রাকচালকের মোবাইলের সহায়তায় সৌরভের সঙ্গে কথা হয়। সৌরভ জানায়, সে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর বের হচ্ছিল। এরপর তার আর কিছুই মনে নেই। </p> <p style="text-align: justify;">এই বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মনির হোসেন  বলেন, ‘নিখোঁজের পরিবারের কাছে আমরা এই বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি পেয়েছি। এর পর থেকেই আমরা সন্ধান করতে থাকি। পরে তাকে টাঙ্গাইলে যমুনা সেতুর পাশে সন্ধান পাওয়া গেলে স্থানীয় পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার পরিবার গিয়ে উদ্ধার করে আনবে। কোনো অজ্ঞান পার্টির বা খারাপ চক্রের খপ্পরে পড়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বিস্তারিত জানা যাবে।’</p>