<p data-end="489" data-start="208" style="text-align: justify;">কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে রংপুর নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শনিবার (২ মে) সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ তুলনামূলক মাঝারি বৃষ্টিতেই নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। এতে নগরবাসীর ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।</p> <p data-end="811" data-start="491" style="text-align: justify;">সরেজমিন দেখা গেছে, বাবুখা, মাস্টারপাড়া, আবহাওয়া অফিস এলাকা, চারতলা মোড় কলোনি, লালবাগ, পার্কের মোড়, মেডিকেল ক্যাম্পাস, নীলকণ্ঠ সোটাপীর ও শান্তিবাগসহ অন্তত ১০টি এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। কোথাও কোথাও ড্রেন উপচে ময়লা পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। কয়েক ঘণ্টা পর পানি নেমে গেলেও ভোগান্তি থেকে যায়।</p> <p data-end="970" data-start="813" style="text-align: justify;">নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে। কোথাও বিছানাপত্র পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়। কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষেও পানি প্রবেশ করায় পাঠদান ব্যাহত হয়।</p> <p style="text-align:center"><img alt="তততত" height="600" src="https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/00 Muhaimin/Moon/BeFunky-collage - 2026-05-02T160543.695.jpg" width="1000" /></p> <p data-end="1201" data-start="972" style="text-align: justify;">নগরবাসীর অভিযোগ, রংপুর সিটি করপোরেশন সড়ক নির্মাণ করলেও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি। অনেক স্থানে ড্রেন নেই, আবার কোথাও ড্রেন থাকলেও তা নিয়মিত পরিষ্কার বা সংস্কার করা হয় না। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।</p> <p data-end="1366" data-start="1203" style="text-align: justify;">মাস্টারপাড়ার দারুল ইসলাম হাফেজিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, এই এলাকায় কোনো কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাদরাসায় পানি ঢুকে যায়। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের থাকার কক্ষ পানিতে ডুবে যায়। বাধ্য হয়ে তাদের মসজিদের ভেতরে রাখতে হচ্ছে। এটি বহুদিনের সমস্যা, কিন্তু কোনো সমাধান নেই।</p> <p data-end="1455" data-start="1368" style="text-align: justify;">৯০ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা সামাদ আলী বলেন, এলাকায় বড় বড় ভবন হয়েছে, রাস্তা হয়েছে, কিন্তু ড্রেনেজ ব্যবস্থা হয়নি। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা ডুবে যায়, ময়লা ভেসে বেড়ায়। আমাদের এই কষ্টের যেন কোনো শেষ নেই।</p> <p data-end="1455" data-start="1368" style="text-align: justify;">চারতলা মোড় কলোনির বাসিন্দা মহসিন আলী বলেন, দশকের পর দশক ধরে এখানে বসবাস করছি। প্রতি বর্ষায় একই সমস্যা। সিটি করপোরেশন শুধু আশ্বাস দেয়, কিন্তু বাস্তবে কোনো উন্নতি হয় না। আমাদের দুর্ভোগ কেউ দেখে না।</p> <p style="text-align:center"><img alt="দদদ" height="600" src="https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/00 Muhaimin/BeFunky-collage - 2026-05-02T160530.139.jpg" width="1000" /></p> <p data-end="1566" data-start="1457" style="text-align: justify;">বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই এ সমস্যার মূল কারণ।</p> <p data-end="1783" data-start="1568" style="text-align: justify;">রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (দায়িত্বরত) রাকিব হাসান বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য একটি সমন্বিত মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।</p> <p data-end="1871" data-start="1785" style="text-align: justify;">তিনি জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।</p> <p data-end="2042" data-start="1873" style="text-align: justify;">রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে ৬৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৪ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এরপর আকাশ ধীরে ধীরে পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।</p>