<p>রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ দিনে এ হাসপাতালে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।</p> <p>রবিবার (৩ মে) দুপুরে হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আ ন ম তানভীর চৌধুরী (নোমান) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।</p> <p>এর আগে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন থাকা জাকির নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। </p> <p>শুক্রবার (১ মে) রাতে হাসপাতালের শিশু বিভাগের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২২ মাস বয়সি ওই শিশুর মৃত্যু হয়। জাকির কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুরের সবুজ মিয়ার ছেলে। ৩০ এপ্রিল রাতে হামের উপসর্গ থাকা এ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।</p> <p>১৭ এপ্রিল একই হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া সাত মাস বয়সি তানজিদ নামে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে হামের উপসর্গে অন্তত তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে।</p> <p>চিকিৎসক আ ন ম তানভীর চৌধুরী (নোমান) জানান, শিশুটির অবস্থা প্রথম দিকে স্থিতিশীল ছিল। তবে শনিবার রাতে খাওয়ানোর পর হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে সব চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।</p> <p>হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মারা যাওয়া শিশুটির বাড়ি লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের সাপ্টিবাড়ি এলাকায়। গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে হাসপাতালের ‘হাম কর্নার’-এ চিকিৎসাধীন ছিল সে।</p> <p>শিশুর বাবা রাকিব মিয়া জানান,পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর থেকে তার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে কয়েকবার ভর্তি করা হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেলে নেওয়া হয়।</p> <p>এদিকে হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১২ শিশু। বর্তমানে হাসপাতালের হাম কর্নারে ভর্তি রয়েছে ৩৪ শিশু।</p> <p>হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এ পর্যন্ত অন্তর্বিভাগে ১৭৬ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এদের বেশিরভাগ শিশু হলেও বর্তমানে হাসপাতালে দুই নারী ও এক পুরুষও ভর্তি রয়েছেন, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।</p> <p>রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ‘হাম একটি সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো চিকিৎসা ও টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে এটি প্রতিরোধযোগ্য। আমরা হাসপাতালে আলাদা কর্নার চালু রেখেছি এবং চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হয়েছে। অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি, বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করতে হবে।’<br />  </p>