<p>নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারে ৭০ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পাচ্ছেন। এর বিপরীতে সাজা হচ্ছে মাত্র ৩ শতাংশ মামলার আসামির। নিষ্পত্তি হওয়া চার হাজার ৪০টি মামলার নথি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একটি গবেষণা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সাজা ও খালাসের এই ‘আকাশ-পাতাল’ পার্থক্যের কারণ হিসেবে বিলম্ব বিচারপ্রক্রিয়া, দুর্বল প্রমাণ, সাক্ষীর অনুপস্থিতি ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণাটি হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ৩২ জেলার ট্রাইব্যুনালের মামলা নিয়ে এই গবেষণা চালানো হয়।</p> <p>গতকাল শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত পরামর্শ সভায় গবেষণার পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করা হয়। গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক জেলা ও দায়রা জজ উম্মে কুলসুম তা উপস্থাপন করেন। ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা (সেলপ) কর্মসূচির উদ্যোগে এই পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়।</p> <p>গবেষণার পর্বেবেক্ষণ তুলে ধরে উম্মে কুলসুম বলেন, গবেষণায় ৩২টি জেলার ৪২টি ট্রাইব্যুনালে জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া চার হাজার ৪০টি মামলার সময়সীমা, মুলতবি সংখ্যা, সময় আবেদনের পুনরাবৃত্তি, মামলার ধরন, সাক্ষী ও অভিযুক্তের তথ্য, ফরেনসিক পরীক্ষা ও রায়ের ধরন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।</p> <p>গবেষণার তথ্য তুলে ধরে সাবেক এই বিচারক আরো বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন, ২০০০ অনুযায়ী, ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও বাস্তবে একটি মামলা শেষ হতে গড়ে তিন বছর সাত মাস অর্থাৎ এক হাজার ৩৭০ দিন সময় লাগছে। এ সময়ের মধ্যে প্রতিটি মামলায় গড়ে ২২ বার করে শুনানির তারিখ পড়ছে।</p> <p>চার হাজার ৪০টি মামলার ফল বিশ্লেষণের তথ্য তুলে ধরে উম্মে কুলসুম আরো বলেন, এসব মামলায় সাজার হার অত্যন্ত কম, মাত্র ৩ শতাংশ। বিপরীতে প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পাচ্ছেন। এ ছাড়া প্রায় ১০ শতাংশ মামলা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হচ্ছে, যা বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।</p> <p>অভিযোগকারী ও সাক্ষীর অনুপস্থিতি, তদন্তে বিলম্ব, দুর্বল প্রমাণ ব্যবস্থা, ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্ট পেতে দেরি হওয়া, সাক্ষীকে সুরক্ষা না দেওয়ার পাশাপাশি তদন্তের নিম্নমান, নিষিদ্ধ পদ্ধতির ব্যবহার (টু ফিঙ্গার টেস্ট), সামাজিক চাপের কারণে আপস বা মামলা থেকে সরে দাঁড়ানো, আইনি অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং আসামি বা অভিযুক্তদের প্রভাবও বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।</p> <p>ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা এবং জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব।</p> <p>বক্তব্যে শাশ্বতী বিপ্লব বলেন, বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা একটি বেদনাদায়ক বাস্তবতা। প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই অসংখ্য নির্যাতনের ঘটনা দেখা যায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সঙ্গীর দ্বারা সহিংসতার শিকার হন। সাম্প্রতিক ইউএনএফপিএ ও বিবিএসের যৌথ জরিপেও একই চিত্র উঠে এসেছে।</p> <p> </p>