জার্মানি-কুরাসাও (রাত ১১টা)
অস্ট্রেলিয়া-তুরস্ক (সকাল ১০টা)
জার্মানি-কুরাসাও (রাত ১১টা)
নেদারল্যান্ডস-জাপান (রাত ২টা)
আইভরি কোস্ট-ইকুয়েডর (কাল ভোর ৫টা)

জার্মানি-কুরাসাও (রাত ১১টা)
অস্ট্রেলিয়া-তুরস্ক (সকাল ১০টা)
জার্মানি-কুরাসাও (রাত ১১টা)
নেদারল্যান্ডস-জাপান (রাত ২টা)
আইভরি কোস্ট-ইকুয়েডর (কাল ভোর ৫টা)

অর্থনীতিতে সাম্য ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা এবং অলিগার্কদের ধ্বংস করা বিএনপি সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাতিলের তৃতীয় দিনেও পুরোপুরি খালি হয়নি রাজধানীর আদ-দ্বীন উইমেনস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ২৩৪ জন রোগী ভর্তি ছিল। সংকটাপন্ন নবজাতক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনেক স্বজন এখনই হাসপাতাল ছাড়তে রাজি নয়।
আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (কম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল কালের কণ্ঠকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার সময় সেখানে ৪১৬ জন রোগী ভর্তি ছিল। পরে দুই দিনে ১৭৩ জন রোগী হাসপাতাল ত্যাগ করে। শনিবার আরো ৯ জন ছাড়পত্র নিয়ে চলে যায়। এতে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালে ২৩৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন এনআইসিইউতে ভর্তি থাকা ৬০ নবজাতকের মধ্যে এখনো ৪৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ছাড়া আইসিইউতে ২০ জন এবং সিসিইউতে চারজন রোগীর সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ মোট রোগীর সংখ্যা কমলেও সংকটাপন্ন রোগীদের ইউনিটগুলোতে চাপ প্রায় একই রয়ে গেছে।
রোগীদের স্বজনরা বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নবজাতক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
রাজধানীর মধুবাগ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ জানান, চার দিন আগে তাঁর স্ত্রীর সিজারের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম হয়েছে। নবজাতক বর্তমানে এনআইসিইউতে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় বাচ্চাকে অন্য হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব নয়। সরকার যদি নিরাপদে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করে, তাহলে নিয়ে যাব। তবে হাসপাতাল বন্ধ করে দিলে অনেক রোগী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবে। প্রয়োজনে হাসপাতালের পুরো ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন করা হোক, কিন্তু চিকিৎসাসেবা বন্ধ করা উচিত নয়।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা সেলিনা বেগম জানান, তাঁর ছোট সন্তান গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন কিভাবে অন্য হাসপাতালে ভর্তি করাব? হাসপাতাল বন্ধ হলেও আমি এখনই যেতে চাই না।’
গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে আসা আসমা ইসলাম জানান, তাঁর সন্তানের হামসহ নানা শারীরিক জটিলতা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখানে চিকিৎসা ভালো পাচ্ছি। বাচ্চা সুস্থ হওয়ার আগে অন্য কোথাও যেতে চাই না।’
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালটিতে নতুন রোগী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ। বহির্বিভাগেও রোগীর উপস্থিতি নেই বললেই চলে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় হাসপাতালের পরিবেশ অনেকটাই ফাঁকা ও নীরব। সীমিত পরিসরে কিছু সেবা চালু থাকলেও আগের ব্যস্ততা আর নেই।
লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের পর রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, লাইসেন্স বাতিলের পর হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই রোগীদের দ্রুত অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে।
আদ-দ্বীন কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে
কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করেছি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, দেশব্যাপী সবার চিকিৎসাব্যবস্থাকে সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, সবাইকে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। আদ-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি।’ গতকাল দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিজ তহবিল থেকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকার দুর্নীতি করে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। আমরা একটি ব্যতিক্রমধর্মী সরকার চালাচ্ছি। দলমত-নির্বিশেষে সব মানুষের সেবা করতে চাই আমরা। সরকারি সুবিধা পেতে এখন আর কাউকে ঘুষ দিতে হয় না।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের অবস্থান কঠোর। তাঁর দাবি, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আসবে না। এই ঘটনার মাধ্যমে দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে একটি শক্ত বার্তা দেওয়া হয়েছে, রোগীর নিরাপত্তা ও সেবার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না।’
তিনি বলেন, তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট ইউনিটে পর্যাপ্ত তদারকি ও দায়িত্বশীল উপস্থিতির ঘাটতি ছিল। নবজাতকদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণ বিবেচনায় নিয়েই হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারকে গণভোটের রায় মেনে নিতে হবে। তা না হলে ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, জনদাবি ও গণরায় উপেক্ষা করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।
গতকাল শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায় বা জনদাবি স্বেচ্ছায় মেনে না নেয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত ১৯৯৬ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। সে সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করতে সরকারকে বাধ্য করা হয়েছিল। এবারও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি সরকারের প্রতি জনগণকে রাজপথে নামতে বাধ্য না করার আহবান জানান।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, সময় খুব সীমিত। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এ সময়ের মধ্যে পরিবর্তন না হলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এ সময় তিনি বিএনপি সরকারকে বেশিদিন সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন।
নেতাকর্মীদের জেল বা ফাঁসির ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না বলেও মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে তাঁরা বারবার কারাগারে যেতে এবং জীবন দিতেও প্রস্তুত। জেলের তালা বা চাবিওয়ালা কেউই স্থায়ী নয়, সময়ের সঙ্গে সবকিছু বদলে যায়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বর্তমান সরকারে একজন ‘সর্ববিষয়ে বিশারদ’ মন্ত্রী আছেন, যিনি প্রায় সব মন্ত্রণালয়ের কাজ পরিচালনা করেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও তাঁকে কথা বলতে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জেলায় গিয়ে ভুল তথ্য দিচ্ছেন। কক্সবাজারে গিয়ে বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে মিছিল করেছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা সত্য নয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও গণরায়ের প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকার যদি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণই তার জবাব দেবে।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় দলীয়করণ ও ভিন্নমত দমনের প্রবণতা বাড়ছে। সংসদে জনগণের সমস্যা, দ্রব্যমূল্য, দুর্নীতি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতেও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। অথচ সংসদ জনগণের কথা বলার জায়গা। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ তুলেছেন।
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিদেশি শক্তির কাছে ইজারা দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এসবের অবসান ঘটবে।
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের ঘোষিত বাজেট সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানিসংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। এসব সংকট মোকাবেলায় বাজেটে কার্যকর দিকনির্দেশনা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীরবিক্রম) বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও সামাজিক অস্থিরতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান তিনি। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহজাহান। এতে আরো বক্তব্য দেন আল্লামা মামুনুল হক, ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, শাহজাহান চৌধুরী এমপি, মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আব্দুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা আলী ওসমান, অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান প্রমুখ।