ঈদের আমেজ শেষ হয়েছে। আপনি কি শুটিংয়ে ফিরেছেন?
হ্যাঁ। এম ডি ফয়জুল রথি ভাইয়ের একটি নাটকের শুটিং করলাম তিন দিন। বিক্রমপুরের বিভিন্ন লোকেশনে শুটিং হয়েছে। আরো দুই দিন শুটিং করলে শেষ হবে। তারপর অন্য নাটকের কাজ করব।
আপনার সব নাটকই রোমান্টিক। এটাও কি প্রেমের গল্প?
না। এটা পারিবারিক গল্পের। প্রথম দিকে আমার সব নাটক প্রেমের হলেও এখন কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন গল্প খুঁজে নিচ্ছি। আমার মধ্যে চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করার একটা ক্ষুধা আছে। বড় বড় অভিনেত্রী যেভাবে নিজেদের ভাঙেন, আমিও সেটা চাই। যদিও এখনো শেখার অনেক বাকি আছে। প্রতিনিয়তই শিখছি। যে বিষয়গুলোতে ঘাটতি আছে, সেগুলো পূরণ করার চেষ্টা করছি।
কোন কোন বিষয়ে ঘাটতি আছে, সেটা কি বুঝতে পেরেছেন?
আমার অভিনয়েই ঘাটতি আছে। নিজের নাটকগুলো দেখলে মনে হয়, আরো ভালো করা উচিত ছিল। নির্মাতারা কেন যে ‘ওকে’ বলেন শটের পর! আমাকে আরো কয়েকবার শট দেওয়ার সুযোগ দেন না কেন! প্রতিনিয়ত আমি সিনিয়রদের ফলো করি। বিশেষ করে মেহজাবীন আপু, সাবিলা নূর আপু, তাসনিয়া ফারিণ আপুদের অভিনয় আমার খুব ভালো লাগে। তাঁরা কী সুন্দর করে সাবলীল অভিনয়টা করে যান। বারবার মনে হয়, এমন অভিনয় করতে আমার কত দিন লাগবে! পাশের মানুষ সব সময় বলে, আমি ভালো করছি। তার পরও কেন যেন আমার মন ভরে না।
এবার ঈদে আপনার অভিনীত বেশ কয়েকটি নাটক এসেছে। কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
খুব ভালো। বিশেষ করে ‘চাচ্চু’ ও ‘প্রিয় ফুল’ নাটকের জন্য দারুণ সব মন্তব্য পাচ্ছি। ‘চাচ্চু’ নাটকটির গল্প ছোট্ট একটি মেয়েকে নিয়ে। আমার সঙ্গে আরশ খান ভাই। ‘প্রিয় ফুল’ নাটকটি স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা, কষ্ট, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নিয়ে। এমন চরিত্র আগে কখনো করিনি। পরিণত একটা নারীর চরিত্র বলতে পারেন। এই নাটকে সবাই আমার অভিনয়ের প্রশংসা করছেন। এ ছাড়া ‘প্রেম আমার ২’ ও ‘সে পিয়া রঙের বিকেল’ নাটকও ভালো ভিউ পেয়েছে।
‘আঁতকা’র পর আর কোনো ওটিটির কাজে আপনাকে দেখা গেল না...
কিভাবে দেখবেন! আমাকে কেউ ডাকেনি তো। কেন যে ডাকছে না তা-ও বুঝতে পারছি না। অপেক্ষায় আছি। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে আমার ভালো লাগে।
এমন কোনো নির্মাতা আছেন, যাঁর সঙ্গে কাজ করতে চান?
তালিকাটা লম্বা। তবে দুজনের কথা আলাদা করে না বললেই নয়—শিহাব শাহীন ও রায়হান রাফী ভাই। তাঁদের গল্প সিলেকশন দারুণ। বিশেষ করে রাফী ভাই বাস্তব গল্প নিয়ে কাজ করতে পটু। আমারও এই ধরনের গল্পে কাজ করার খুব ইচ্ছা।
পড়াশোনা কেমন চলছে?
আর বলবেন না, এটা নিয়ে প্যারায় আছি। চতুর্থ সেমিস্টার চলছে। শুটিং করতে গিয়ে মাঝে মাঝে ক্লাস ড্রপ দিই। সেটা নিয়ে পরিবারে তুলকালাম বেধে যায়। তাদের কথা, শুটিং করছ করো, পড়াশোনা বাদ দেওয়া যাবে না।