• ই-পেপার

মোহাম্মদপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধ

নানক-তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু আজ

বাকলিয়া‍য় শিশু ধর্ষণ মামলার রায় বুধবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
বাকলিয়া‍য় শিশু ধর্ষণ মামলার রায় বুধবার
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার রায়ের জন্য বুধবার (১৭ জুন) দিন ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৬ জুন) চট্টগ্রাম মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমার আদালত মামলার যুক্তিতর্ক শেষে এ আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ উল-আলম চৌধুরী মারুফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাকলিয়ায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলার যুক্তিতর্ক মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। বুধবার মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে। আগামীকাল মামলাটির অষ্টম কার্যদিবস পূর্ণ হবে। এই আট কার্যদিবসের মধ্যেই মামলার রায় হবে। মামলায় মোট ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা করছি।’

মঙ্গলবার আসামি মনির হোসেন (৩০) ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকার মিয়াখান নগরের বাসিন্দা।

আদালত সূত্র জানায়, গত ৯ জুন এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এর আগে ৪ জুন মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় আসামি মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। 

গত ২১ মে (বৃহস্পতিবার) বিকেলে চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এরপর পুলিশ মনিরকে আটক করে। ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে ঘটনার দিন গভীর রাতে মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মনির হোসেন ২২ মে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে ৪ জুন পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় আপিলের শুনানি ১ সেপ্টেম্বর

অনলাইন ডেস্ক
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় আপিলের শুনানি ১ সেপ্টেম্বর

সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

এর আগে ৯ জুন সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছিলেন আপিল বিভাগ। গত ২১ মে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ৭ এপ্রিল ১৮৫ পৃষ্ঠার হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) এবং শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির-সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের এমন বিধান বাতিল করেছেন হাইকোর্ট।

ফলে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হলো। একই সঙ্গে অধস্তন আদালতের জন্য ২০১৭ সালে প্রণীত শৃঙ্খলাবিধিও বাতিল করা হয়েছে।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যামিকাস কিউরি ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শরীফ ভূঁইয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবী রিটটি করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার-কর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) এবং শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি এ ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকেন।

রিটকারীদের আইনজীবীর মতে, ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) এবং শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

একই অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। কিন্তু বাস্তবে রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) এবং শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।

১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) এবং শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘সুপ্রিম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে’ শব্দগুলো সংযোজন করা হয়।

পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন, ২০১১-এর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান বিধানটি প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে এ বিধানই বিদ্যমান রয়েছে।

রামিসা হত্যা : আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের

অনলাইন ডেস্ক
রামিসা হত্যা : আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের পক্ষে শুনানির জন্য স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফৌজদারি বিশেষজ্ঞ একজন আইনজীবীকে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ দিতে আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর উইংকে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এই বিশেষ বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি শুনানির জন্য রয়েছে।

এদিকে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন ও আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য পেপার বুক প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন যেকোনো দিন হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শুরু হবে। সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসন থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, বিজি প্রেস থেকে পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে সুপ্রিম কোর্টে এসেছে। এখন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। 

মানবতাবিরোধী অপরাধ

নানক-তাপসের বিচার শুরু, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৪ জুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নানক-তাপসের বিচার শুরু, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৪ জুন
জাহাঙ্গীর কবির নানক ও শেখ ফজলে নূর তাপস। ছবি : সংগৃহীত।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে।

আজ সোমবার বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্যদিয়ে বিচার শুরু হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৪ জুন দিন ধার্য করেন। আদালতে সূচনা বক্তব্য দেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। অভিযোগ থেকে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে গত ১০ মে এ মামলার ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে গত ২৬ এপ্রিল মামলার অভিযোগ গঠনের ওপর প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষ হয়। এ মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে লড়ছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান। আর গ্রেপ্তার আসামিদের পক্ষে আছেন আইনজীবী সিফাত হাসান, গাজী ফয়সাল ও মো. আসাদুজ্জামান।

মামলার ২৮ আসামির মধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে। তারা হলেন ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। গতকাল কারাগার থেকে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

নানক-তাপস ছাড়া পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হন আরো অনেকে।