• ই-পেপার

বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো এডিসি সাকলায়েনকে

কারামুক্ত হলেন ড. আবুল বারাকাত

অনলাইন ডেস্ক
কারামুক্ত হলেন ড. আবুল বারাকাত

রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় দায়ের করা ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় জামিন মেলায় অর্থনীতিবিদ ও জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবুল বারাকাত কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। গতকাল শনিবার তিনি কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। 

পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, দীর্ঘ কারাবাসের কারণে ড. আবুল বারাকাতের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। বর্তমানে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে এবং উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে ড. আবুল বারাকাতের পক্ষে করা জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে জামিন দেন।

এর আগের দিন সোমবার (১৫ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত একই মামলায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন। পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আবেদন করা হলে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মঙ্গলবার তার জামিন মঞ্জুর করেন। আগের দিন রবিবার  ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালত আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় ড. বারাকাতকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
 

সুপ্রিম কোর্টের রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দিদার, সম্পাদক ডালিম

অনলাইন ডেস্ক
সুপ্রিম কোর্টের রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দিদার, সম্পাদক ডালিম
সংগৃহীত ছবি

সুপ্রিম কোর্ট বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের (এসআরএফ) ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক ইত্তেফাকের মো. দিদারুল আলম এবং দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ঢাকা পোস্টের বিশেষ প্রতিনিধি মেহেদী হাসান ডালিম।

শনিবার (২০ জুন) ঢাকা ক্লাবে এসআরএফের বার্ষিক সাধারণ সভায় নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন পরিচালনা উপকমিটির প্রধান মাজহারুল হক মান্না নতুন কমিটি ঘোষণা করেন।

নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কালবেলার হেড অব নিউজ কবির হোসেন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন বৈশাখী টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার এজাজুল হক মুকুল।

কোষাধ্যক্ষ পদে স্টার নিউজের ইমন মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে কালের কণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার পিয়াস তালুকদার, দপ্তর সম্পাদক পদে যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার মো. রাব্বি হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে বিডিনিউজের স্টাফ রিপোর্টার ইমরান নাফিজ এবং প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ সম্পাদক পদে ডেইলি স্টারের সিরাজুল ইসলাম রুবেল নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন— চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি মাজহারুল হক মান্না, চ্যানেল আগামীর সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী, দৈনিক সমাচারের সিনিয়র রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম মল্লিক, নাগরিক টিভির স্টাফ রিপোর্টার অলিউল ইসলাম রনি এবং সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার সৈয়দা সাবরিনা মজুমদার।

সভায় সভাপতিত্ব করেন এসআরএফের বিদায়ি সভাপতি মাসউদুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। আরো বক্তব্য দেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, সুপ্রিম কোর্ট বার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিশির মনির।

বিচারব্যবস্থায় কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই : অ্যাটর্নি জেনারেল

অনলাইন ডেস্ক
বিচারব্যবস্থায় কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই : অ্যাটর্নি জেনারেল
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কদ্দুছ কাজল। ছবি : সংগৃহীত

বর্তমানে বিচারব্যবস্থার ওপর কোনো রাজনৈতিক চাপ বা বল প্রয়োগ নেই। বিচারব্যবস্থা স্বাধীন থাকবে—এটি সরকারের প্রত্যাশা। অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কদ্দুছ কাজল এ কথা বলেছেন।

শনিবার (২০ জুন) সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের (এসআরএফ) বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, ‘প্রচলিত ব্যবস্থায় সব মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। কেননা দেশে অনেক বিচারকের অভাব রয়েছে। সরকার রামিসাসহ ধর্ষণ ও হত্যা মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে বিশেষভাবে উদ্যোগ নিয়েছে। মিডিয়ার মাধ্যমে বিচার না করে আদালতের মাধ্যমেই যেন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়, সেই বিষয়ে নজর রাখতে হবে।’

টিকটক করা আইনজীবীদের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিল থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে দাখিল হওয়া একটি অভিযোগও যাতে প্রতিহিংসামূলক ও ভুয়া না হয়, এ বিষয়ে প্রসিকিউশন কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। আমরা ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাড়াহুড়া করে বিচার করতে চাই না। তবে মামলার সংখ্যা বাড়ার ফলে দুটি ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রমে চাপ তৈরি হতে পারে।’

অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘রামিসা হত্যা মামলার বিচারের মাধ্যমে সরকার তার সক্ষমতার প্রমাণ করেছে। তাহলে অন্য মামলাগুলোর বিচারও কেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা যাবে না?’

মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলো নিষ্পত্তি করতে বিশেষ অ্যাডহক বিচারক নিয়োগের পরামর্শও দেন তিনি।

জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে থাকার স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হতো

নিজস্ব প্রতিবেদক
জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে থাকার স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হতো

‘আয়না ঘর’ নামে পরিচিতি পাওয়া প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)-এর জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম-নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের কর্মী তাজুল ইসলাম সুমন।

আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি সাক্ষ্য দেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া সাক্ষ্যে ভুক্তভোগী এই সাক্ষী বলেছেন, তিনি জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত এমন স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতন করা হতো।

নিজেকে হেফাজতে ইসলামের কর্মী উল্লেখ করে মামলার ষষ্ঠ সাক্ষী তাজুল ইসলাম সাক্ষ্যে দাবি করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জুলুম-নির্যাতনসহ হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে গণহত্যা নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করতেন। এ কারণে তাঁকে গুম করা হয়। এক সময় মানিকগঞ্জের একটি মাদরাসায় কর্মরত ছিলেন। সেই মাদরাসা থেকেই ২০১৫ সালের ৪ নভেম্বর রাতে তাঁকে গুম করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেখানে গুম করে রাখা হয়, সেখানকার একটি কক্ষে তাঁকে কোনো কোনো দিন দুই-তিনবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো। প্রথম চার মাসে তাঁকে ২০-২৫ দিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়। একবার জিজ্ঞাসাবাদে নিয়ে একটি চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে কয়েকজন মিলে লাঠি দিয়ে পেটান। জিজ্ঞাসাবাদে সব সময়ই নির্যাতন করা হতো। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁকে কয়েকজনের নাম সম্পর্কে জানতে চাইত। জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হতো।’

২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বরের বর্ণনায় তিনি বলেন, ওইদিন তাঁর সঙ্গে নাজিম উদ্দিন নামের আরেকজনকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ থানার কর্নেল হাট এলাকায় সানজিদা এন্টারপ্রাইজের সামনে। সেখানে গাড়ি থেকে নামিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের একটি নাটক সাজিয়ে আবার তাঁদের গাড়িতে তোলা হয়। গাড়িটি ১০-১৫ মিনিট চলার পর একটি নির্মাণাধীন বাড়ির সামনে গাড়িটি থামে। সেখানে গাড়ি থেকে নামিয়ে তাঁদের দোতলার একটি ঘরে আটকে রাখা হয়।

ওই ঘরে আরো কয়েকজনকে দেখতে পান জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, জঙ্গি নাটক মঞ্চস্থ করে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর ওই বাড়ি থেকে বের করে তাঁদের সাংবাদিকদের সামনে আনা হয়। পরে তাঁদের র‍্যাব-৭-এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ওই রাতেই তাঁদের আকবর শাহ থানায় সোপর্দ করা হয়।

তাঁদের নামে তিনটি মামলা দেওয়া হয় উল্লেখ করেন তাজুল ইসলাম বলেন, একটি মামলা সন্ত্রাস দমন আইনে। একটি বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে। অন্যটি অস্ত্র আইনে।

এর মধ্যে একটি মামলায় খালাস পেলেও অন্য মামলাগুলোর বিচার এখনো চলমান। ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি আট বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হন বলে সাক্ষ্যে ট্রাইব্যুনালকে জানান তাজুল ইসলাম।

গুম, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও কারাভোগের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জড়িত ছিলেন দাবি করার পাশাপাশি এই সাক্ষী সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টাসহ ডিজিএফআই’র তৎকালীন দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন ট্রাইব্যুনালের কাছে।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাঁকে এক প্রশ্নের জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। পরে সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২২ জুলাই বাকি জেরার দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। গতকাল সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

পলাতক ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজনই বিভিন্ন সময়ে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তারা হলেন- লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।

বাকি আসামিরা হলেন শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।

গুমের এ মামলায় গত বছরের ৮ অক্টোবর ১৩ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ১৮ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।