• ই-পেপার

৪০ বছর ধরে কাবার ইমাম শায়খ সুদাইস

সিরিয়া নিয়ে যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন মহানবী (সা.)

ইসলামী জীবন ডেস্ক
সিরিয়া নিয়ে যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন মহানবী (সা.)
সংগৃহীত ছবি

‘মুলকে শাম’ বা শাম ভূখণ্ড নবী-রাসুলদের ভূখণ্ড। কোরআন-হাদিসের বিভিন্ন জায়গায় তার বরকত ও পবিত্রতার বর্ণনা রয়েছে। ইতিহাসের অগণিত ঘটনাপ্রবাহ তার সঙ্গে জড়িত। মক্কা-মদিনার পরই যার মর্যাদা স্বীকৃত। পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতা, সংস্কৃতির দেশ সিরিয়া ইসলামপূর্ব যুগ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এই ভূমিতে জন্মগ্রহণ করেছেন অংখ্য নবী ও রাসুল। তারা বসবাসও করেছেন এখানে। 

হজরত ইবরাহিম (আ.) নিজ সম্প্রদায়ের বিরোধিতার মুখে পড়ে আল্লাহর আদেশে সিরিয়া ভূমিতে হিজরত করেন। এখানে জন্ম গ্রহণ করেন ঈসা (আ.)। হজরত মুসা (আ.) হিজরত করে আগমন করেছিলেন এখানে। আগের মুলকে শাম বর্তমানে কয়েকটি রাষ্ট্রে বিস্তৃত রয়েছে। বর্তমানের সিরিয়া, জর্দান, লেবানন ও পূর্ণ ফিলিস্তিন ভূখণ্ড প্রাচীন মুলকে শামের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই শামের সঙ্গে ভবিষ্যতের ও কিয়ামতপূর্ব অনেক ঘটনাও জড়িত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) শামের ব্যাপারে বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।

মুসলিমদের দ্বিতীয় হিজরতভূমি

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, হিজরতের পর আরেকটি হিজরত শিগগিরই সংঘটিত হবে। তখন ভূপৃষ্ঠের সর্বোত্কৃষ্ট মানুষ হবে তারাই, যারা ইবরাহিম (আ.)-এর হিজরতভূমিতে (শাম দেশে) অবস্থান করবে।

আর গোটা পৃথিবীতে সর্বনিকৃষ্ট মানুষরাই বাকি থাকবে। তাদের ভূমিগুলো তাদের নিক্ষেপ করবে। আল্লাহ তাদের অপছন্দ করবেন। তাদের ফিতনার আগুন বানর ও শূকরের সঙ্গে মিলিয়ে রাখবে (তাদের দুশ্চরিত্রের কারণে তারা যেখানেই যাবে, সেখানেই ফিতনা লেগে থাকবে)।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২৪৮২)

শামের কল্যাণের সঙ্গে উম্মতের কল্যাণ সম্পৃক্ত

হজরত মুয়াবিয়া ইবনে কুররা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন শামভূমি ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে, তখন তোমাদের মধ্যেও কোনো কল্যাণ থাকবে না। আর আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে, তাদের যারা ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, তারা কিয়ামত পর্যন্ত তাদের ক্ষতি সাধন করতে পারবে না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২১৯২)

আল্লাহর ওলিদের বিশেষ দল শাম দেশে রয়েছেন

হজরত শুরাইহ ইবনে উবাইদ (রহ.) বলেন, হজরত আলী (রা.) ইরাকে অবস্থানরত অবস্থায় তাকে শামবাসীদের ব্যাপারে বলা হলো, আপনি তাদের ওপর অভিশাপ করুন! তখন তিনি বলেন, না, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে শাম ভূখণ্ডে আবদালরা (আল্লাহর ওলিদের বিশেষ দল) থাকেন, তারা ৪০ জন থাকেন, যখনই তাদের থেকে একজন মারা যান, আল্লাহ তার স্থানে অন্য একজনকে রাখেন, তাদের বরকতে বৃষ্টি হয় ও শত্রুর ওপর জয়লাভ হয়। ভবিষ্যতে তাদের অছিলায় শামবাসীদের থেকে আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৮৯৬)

মহাযুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সেনাছাউনি হবে শাম দেশে

হজরত আবুদ্দারদা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, মহাযুদ্ধের সময় মুসলিমদের ছাউনি হবে ‘গোতা’ শহরে, যা দামেস্ক শহরের পাশে অবস্থিত। এটি শামের উত্কৃষ্ট শহরগুলোর একটি। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪২৯৮)

অন্য বর্ণনায় রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, অচিরেই তোমরা শাম বিজয় করতে পারবে, যখন তোমাদের সেখানে বসবাসের এখতিয়ার দেওয়া হবে, তোমরা দামেস্ক নগরীকে বাসস্থান বানাবে, কেননা তা যুদ্ধবর্তীকালীন মুসলিমদের আশ্রয়স্থল হবে, আর তাদের ছাউনি হবে সে দেশের একটি ভূমি, যাকে ‘গোতা’ বলা হয়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৭৪৭০)

কিয়ামতের আগে মাহদির খেলাফত গ্রহণ

হজরত উম্মে সালামা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মুসলমানদের একজন খলিফার ইন্তেকালের পর মতানৈক্য হবে। তখন মদিনাবাসীদের একজন ব্যক্তি (মতানৈক্য এড়িয়ে যাওয়ার জন্য) মক্কায় চলে আসবেন। অতঃপর মক্কাবাসী অনেক লোক তার কাছে আসবে এবং তাকে তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও ঘর থেকে বের করে এনে মাকামে ইবরাহিম ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে তার হাতে বাইয়াত হবে। (তিনিই হলেন ইমাম মাহদি) তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য শামবাসীদের থেকে একটি (বাতিল) দলকে পাঠানো হবে। 

তবে তারা মক্কা-মদিনার মধ্যবর্তী বাইদা নামক স্থানে পৌঁছলে ভূমিধসে আক্রান্ত হবে। যখন মানুষ তা দেখবে, তখন তার কাছে শামের আবদালরা ও ইরাকবাসী উত্কৃষ্ট মানুষের দল আসবে। অতঃপর তারা মাকামে ইবরাহিম ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে তার হাতে বাইয়াত হবে। অতঃপর কুরাইশ বংশের জনৈক ব্যক্তির উদ্ভব হবে, কালব গোত্র হবে তার মাতুল গোত্র। সে তাদের মোকাবেলায় একটি বাহিনী পাঠাবে। যুদ্ধে মাহদির অনুসারীরা কালব বাহিনীর ওপর বিজয়ী হবে। 

এ সময় যারা কালবের গণিমত নিতে উপস্থিত হবে না, তাদের জন্য আফসোস! মাহদি গনিমতের সম্পদ বণ্টন করবেন ও নবী করিম (সা.)-এর সুন্নাত অনুযায়ী মানুষের মধ্যে কার্য পরিচালনা করবেন, আর ইসলাম সারা পৃথিবীতে প্রসারিত হবে। অতঃপর তিনি সাত বছর অবস্থান করার পর মারা যাবেন। আর মুসলিমরা তার জানাজার সালাত পড়বে। ইমাম আবু দাউদ (রহ.) বলেন, কেউ কেউ হিশাম থেকে বর্ণনা করে বলেন, ৯ বছর অবস্থান।

ঈসা আ.-এর অবতরণ ও দাজ্জালকে হত্যা

হজরত নাউওয়াস ইবনে সামআন (রা.) সূত্রে বর্ণিত, একটি হাদিসে দাজ্জাল সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন- ‘দাজ্জাল ইরাক ও শামের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে বের হবে এবং ডানে-বাঁয়ে গোটা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করতে থাকবে। তাই হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ঈমানের ওপর অটল থাকবে।’ দীর্ঘ হাদিস বর্ণনার একপর্যায়ে নবী করিম (সা.) বলেন, দীর্ঘ ৪০ দিন ধরে দাজ্জালের অনিষ্ঠতার পর আল্লাহ ঈসা ইবনে মারিয়াম (আ.)-কে পাঠাবেন। তিনি দামেস্কের পূর্ববর্তী এলাকার শুভ্র মিনারের কাছে আসমান থেকে দুজন ফেরেশতার কাঁধে চড়ে অবতরণ করবেন। তখন তার শ্বাস-প্রশ্বাস যে কাফেরের গায়ে লাগবে, সে মারা যাবে, আর তার দৃষ্টিসীমার শেষ প্রান্তে গিয়ে তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস পড়বে। তিনি দাজ্জালকে তালাশ করবেন, অতঃপর শামের বাবে লুদ নামক স্থানে তাকে হত্যা করবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৯৩৭)

হাদিসের বাণী

যে আমলে পারস্পরিক ভালোবাসা-সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়

ইসলামী জীবন ডেস্ক
যে আমলে পারস্পরিক ভালোবাসা-সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়
সংগৃহীত ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু হুরাইরা (রা.)- থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন, তোমরা মুমিন না হওয়া অবধি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আর তোমরা পরস্পর ভালোবাসা ব্যতীত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না। আর আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলে দেব, যে আমল করলে তোমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা-সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে? (সেটা হলো-) তোমরা পরস্পরে সালামের প্রচার-প্রসার করো।  (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৯৭০৯)

শিক্ষা ও বিধান 
১. জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম শর্ত ঈমান। আর প্রকৃত ঈমান ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ সম্ভব নয়।

২. পূর্ণ ঈমানের আলামত হলো পারস্পরিক ভালোবাসা। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মুসলমানরা একে অপরকে ভালোবাসবে—এটাই ঈমানের পরিপূর্ণতার লক্ষণ।

৩. মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। কেননা হিংসা, বিদ্বেষ, শত্রুতা ও বিভেদ ঈমানকে দুর্বল করে।

৪. সালামের ব্যাপক প্রচলন ভালোবাসা বৃদ্ধি করে। কারো সঙ্গে দেখা হলে আন্তরিকতার সঙ্গে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলা উচিত।

৫. সালাম একটি ইবাদত এবং সওয়াবের কাজ। এটি শুধু সামাজিক রীতি নয়; বরং আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যম।

৬. মুসলিম সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার সহজ উপায় হলো সালামের প্রসার। সালামের মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি কমে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় হয়।

নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে যে দোয়া পড়বেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে যে দোয়া পড়বেন
সংগৃহীত ছবি

বিয়ে শুধু দুটি মানুষের একসঙ্গে বসবাসের সূচনা নয়; এটি দুটি হৃদয়, দুটি পরিবার এবং দুটি জীবনের পবিত্র বন্ধন। ইসলামের দৃষ্টিতে দাম্পত্য জীবন আল্লাহ তাআলার এক মহান নিয়ামত, যার ভিত্তি হলো ভালোবাসা, দয়া, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং তাকওয়া। তাই একজন মুসলমানের নতুন জীবনের শুরু হওয়া উচিত আল্লাহর রহমত, বরকত ও কল্যাণের দোয়ার মাধ্যমে। 

আমাদের সমাজে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানানোর নানা রকম বাক্য প্রচলিত আছে। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন একটি দোয়া শিখিয়েছেন, যা শুধু শুভ কামনাই নয়; বরং দাম্পত্য জীবনের স্থায়ী সুখ, বরকত ও কল্যাণের জন্য আল্লাহর দরবারে সর্বোত্তম প্রার্থনা। তাই বিয়ের প্রতিটি অনুষ্ঠানে তা পাঠ করার অভ্যাস গড়ে তোলা আমাদের সবার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। দোয়াটি হলো-

بَارَكَ اللَّهُ لَكَ، وَبَارَكَ عَلَيْكَ، وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ

উচ্চারণ : ‘বারকাল্লাহু লাকা, ওয়া বারকা আ’লাইকা, ওয়া জামাআ’ বাইনাকুমা ফি খাইরিন।’
অর্থ : ‘আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন, তোমার ওপর বরকত নাজিল করুন এবং তোমাদের উভয়কে কল্যাণের সঙ্গে একত্রে রাখুন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২১৩০)

যেসব অভ্যাস ইবাদতে বিঘ্নতা সৃষ্টি করে

মুফতি ওমর বিন নাছির
যেসব অভ্যাস ইবাদতে বিঘ্নতা সৃষ্টি করে
সংগৃহীত ছবি

রাত শুধু দিনের সমাপ্তি নয়; বরং আগামী দিনের সূচনাও বটে। তাই আপনার রাত যেভাবে কাটবে, আপনার সকালও অনেকাংশে তেমনই হবে। আর আপনার সকালগুলো যেমন হবে, ধীরে ধীরে আপনার জীবনও তেমন হয়ে উঠবে। তাই রাতকে গাফেলত, অলসতা ও গুনাহের সময় না বানিয়ে ইবাদত, আত্মসমালোচনা, জিকির, কোরআন তিলাওয়াত এবং আগামী দিনের প্রস্তুতির সময় বানানো জরুরি। মূলত রাতের যেসব অভ্যাস আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে সেগুলো হলো-

১. অকারণে রাত জাগা
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সাধারণ সমস্যাগুলোর একটি হলো অপ্রয়োজনীয় রাত জাগা। মোবাইল ফোন, ফেসবুক, ইউটিউব, গেমস বা বন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘ আড্ডার কারণে অনেকেই রাত গভীর পর্যন্ত জেগে থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এশার পর অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা অপছন্দ করতেন। অতিরিক্ত রাত জাগার ফলে যেসব ক্ষতি হয়—

১. ফজরের সালাত ছুটে যায়।
২. শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।
৩. মনোযোগ কমে যায়।
৪. কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়।
৫. ইবাদতে অলসতা আসে।

২. মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি
অনেক মানুষ ঘুমানোর আগ পর্যন্ত মোবাইল স্ক্রল করতে থাকে। এক ভিডিও থেকে আরেক ভিডিও, এক পোস্ট থেকে আরেক পোস্ট—এভাবেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে যায়। এটি শুধু সময় নষ্ট করে না; বরং মনকে অস্থির করে, চিন্তাশক্তি কমিয়ে দেয় এবং ধীরে ধীরে মানুষকে বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৩৬)

৩. ঘুমানোর আগে গুনাহে লিপ্ত হওয়া
অনেকেই রাতকে গোপন পাপের সময় বানিয়ে ফেলে। অশ্লীলতা দেখা, হারাম চ্যাটিং, গীবত, গান-বাজনা বা অন্যান্য গুনাহে রাত কাটায়। সমস্যা হলো, মানুষ যে অবস্থায় ঘুমায়, অনেক সময় তার হৃদয় সেই অবস্থাতেই অভ্যস্ত হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যে অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, কিয়ামতের দিন তাকে সে অবস্থাতেই উঠানো হবে।’ (সহিহ মুসলিম)

৪. আত্মসমালোচনা না করা
নেককারদের অন্যতম অভ্যাস ছিল দিনের শেষে নিজের হিসাব নেওয়া। ওমর (রা.) বলতেন— ‘নিজেদের হিসাব নাও, তোমাদের হিসাব নেওয়ার আগেই।’ দিন শেষে যদি আমরা চিন্তা করি—

১. আজ কী ভালো কাজ করেছি?
২. কী ভুল করেছি?
৩. কার হক নষ্ট করেছি?
৪. কীভাবে আগামীকাল আরও ভালো হব?
তাহলে আমাদের জীবন অনেক বেশি সুন্দর ও সফল হবে। ইনশাআল্লাহ। 

৫. ঘুমানোর আগে জিকির ও দোয়া ত্যাগ করা
রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘুমানোর আগে বিভিন্ন দোয়া ও জিকির পাঠ করতেন। যেমন—

১. আয়াতুল কুরসি পাঠ করা 
২. সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস করা
৩. ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার বলা

৬. তাহাজ্জুদের গুরুত্বকে অবহেলা করা
তাহাজ্জুদ হলো মুমিনের অন্যতম শক্তি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রাতের নামাজ আদায় কর; কারণ এটি তোমাদের পূর্ববর্তী নেককারদের অভ্যাস ছিল।’ (তিরমিজি)
তাহাজ্জুদ হৃদয়কে জীবিত করে, গুনাহ মাফের কারণ হয় এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।

৭. ফজরের প্রস্তুতি ছাড়া ঘুমানো
অনেক মানুষ ঘুমানোর সময় ফজরের জন্য কোনো প্রস্তুতি নেয় না। ফলে ফজর কাজা হয়ে যায়। অথচ একজন সচেতন মুমিন—
১. সময়মতো ঘুমায়,
২. অ্যালার্ম সেট করে,
৩. পরিবারকে জাগানোর ব্যবস্থা করে,
৪. ফজরের নিয়ত নিয়ে ঘুমায়।

মনে রাখবেন, হয়তো আজকের রাতই আমাদের জীবনের শেষ রাত। তাই ঘুমানোর আগে অন্তত একবার নিজের হৃদয়কে জিজ্ঞেস করুন, ‘যদি আজই আল্লাহর সামনে উপস্থিত হতে হয়, তাহলে আমি কি প্রস্তুত?’ আল্লাহ তাআলা আমাদের বুঝার তাওফিক দান করুক। আমিন।

৪০ বছর ধরে কাবার ইমাম শায়খ সুদাইস | কালের কণ্ঠ