• ই-পেপার

ওমরাহ করতে বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানাতে পারবে সৌদি নাগরিকরা

কাবার অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো

ইসলামী জীবন ডেস্ক
কাবার অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো
সংগৃহীত ছবি

পবিত্র কাবা শরিফ—মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দু, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য প্রতীক। পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলমান প্রতিদিন এই পবিত্র ঘরকে সামনে রেখে নামাজ আদায় করেন। কিন্তু কাবার বাহ্যিক অবয়ব সবার পরিচিত হলেও এর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ কেমন, ভেতরে কী কী রয়েছে এবং কীভাবে সাজানো আছে—তা নিয়ে মানুষের আগ্রহ ও কৌতূহলের শেষ নেই।

বিশ্বের অন্যতম পবিত্র এই স্থাপনার দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খোলা হয় না। বিশেষ ধৌতকরণ অনুষ্ঠান এবং সৌদি আরব সরকারের আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথিদের জন্য বছরে সীমিত সময়ে কাবার দরজা খোলা হয়। যারা ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন, তাদের বর্ণনায় উঠে এসেছে এক অনাড়ম্বর অথচ গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশের কথা, যেখানে জাঁকজমকের চেয়ে বেশি অনুভূত হয় পবিত্রতা ও প্রশান্তি।

কাবার ভেতরের কাঠামো
কাবা শরিফের উচ্চতা প্রায় ১২ থেকে ১৩ মিটার। এর অভ্যন্তরীণ অংশ অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও ঐতিহাসিক গুরুত্বে সমৃদ্ধ।

তিনটি শক্তিশালী স্তম্ভ
কাবার ছাদকে ধারণ করে আছে সারিবদ্ধভাবে স্থাপিত তিনটি মজবুত কাঠের স্তম্ভ। ইতিহাসবিদদের মতে, আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রা.)-এর সময় থেকে এ ধরনের স্তম্ভ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। উন্নতমানের টিক কাঠ দিয়ে নির্মিত এসব স্তম্ভ বর্তমানে নান্দনিক অলংকরণে সুসজ্জিত, যা কাবার অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যকে আরও বৃদ্ধি করেছে।

মার্বেলখচিত মেঝে ও দেয়াল
কাবার মেঝে এবং দেয়ালের নিচের অংশ সাদা ও ধূসর মার্বেল পাথরে আবৃত। দেয়ালের ওপরের অংশে রয়েছে সবুজ রঙের বিশেষ কাপড় বা প্যানেল, যেখানে স্বর্ণখচিত ক্যালিগ্রাফিতে পবিত্র কোরআনের আয়াত অঙ্কিত রয়েছে। সরলতা ও সৌন্দর্যের অপূর্ব সমন্বয় কাবার ভেতরের পরিবেশকে করে তুলেছে আরও মর্যাদাপূর্ণ।

দ্বিস্তরবিশিষ্ট ছাদ
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, প্রথমদিকে কাবা শরিফের কোনো ছাদ ছিল না। পরবর্তীতে কুরাইশরা পুনর্নির্মাণের সময় প্রথম ছাদ নির্মাণ করে। পরে কাঠামোকে আরও মজবুত ও নিরাপদ করতে অতিরিক্ত আরেকটি ছাদ সংযোজন করা হয়।

কাবার ভেতরের উল্লেখযোগ্য নিদর্শন : কাবার অভ্যন্তরে এমন কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে, যা ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে।

বাবুত তাওবা 
কাবার ভেতরে প্রবেশের পর ডান পাশে একটি ছোট সোনালি দরজা চোখে পড়ে। এটি ‘বাবুত তাওবা’ বা ‘তাওবার দরজা’ নামে পরিচিত। এই দরজার মাধ্যমে কাবার ছাদে ওঠার সিঁড়ির পথ রয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রদীপ ও ঝাড়বাতি
অভ্যন্তরের স্তম্ভগুলোর সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন যুগের ঐতিহাসিক প্রদীপ, মশাল ও অলংকৃত ঝাড়বাতি। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন শাসক, খলিফা ও বাদশাহরা বিভিন্ন সময়ে এগুলো উপহার হিসেবে প্রদান করেছিলেন। এসব নিদর্শন কাবার দীর্ঘ ইতিহাসের নীরব সাক্ষী।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামাজের স্মৃতিবিজড়িত স্থান
মক্কা বিজয়ের পর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কাবার ভেতরে প্রবেশ করে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি বিশেষভাবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। 

সুগন্ধির সংরক্ষণস্থল
কাবার ভেতরে একটি মার্বেল নির্মিত স্থান রয়েছে, যেখানে বিশেষ সুগন্ধি সংরক্ষণ করা হয়। উদ, কস্তুরি, অ্যাম্বার ও গোলাপজলের মতো মূল্যবান সুগন্ধি ব্যবহার করা হয় কাবার অভ্যন্তরকে সুবাসিত রাখতে।

সংস্কারকারীদের স্মারক ফলক
কাবার দেয়ালে বিভিন্ন যুগে সংস্কারকাজে অবদান রাখা খলিফা, সুলতান ও শাসকদের নামসংবলিত কয়েকটি মার্বেল ফলক সংরক্ষিত রয়েছে। এগুলো কাবার রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্নির্মাণের দীর্ঘ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।

আধ্যাত্মিকতার আবাসস্থল
কাবার ভেতরে প্রবেশের সৌভাগ্য খুব কম মানুষেরই হয়। তবে যারা এই সুযোগ পেয়েছেন, তারা প্রায় সবাই একমত—কাবার অভ্যন্তরে কোনো রাজকীয় চাকচিক্য নেই; আছে এক গভীর প্রশান্তি, বিনয় ও আল্লাহর মহিমার অনুভূতি। মার্বেলখচিত দেয়াল, ঐতিহাসিক নিদর্শন ও সুগন্ধিময় পরিবেশের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয় সেই পবিত্রতার আবেশ, যা যুগের পর যুগ মুসলিম হৃদয়কে এই ঘরের প্রতি আকৃষ্ট করে রেখেছে।

পবিত্র কাবা শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইবাদত ও আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণের চিরন্তন প্রতীক। এর অভ্যন্তরের প্রতিটি অংশ যেন ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারের এক জীবন্ত সাক্ষ্য।

পরিশ্রম যেভাবে সাফল্য বয়ে আনে

মাইমুনা আক্তার
পরিশ্রম যেভাবে সাফল্য বয়ে আনে
সংগৃহীত ছবি

মানুষের জীবনে সফলতা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘ সাধনা, অধ্যবসায় ও অবিরাম প্রচেষ্টার ফল। পৃথিবীর ইতিহাসে যাঁরা স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন, তাঁদের জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কেউই এক দিনে সাফল্যের শিখরে পৌঁছাননি।  অসংখ্য ব্যর্থতা, প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ধৈর্য ও পরিশ্রমের পথ অতিক্রম করেই তাঁরা গন্তব্যে পৌঁছেছেন। কারণ মহান আল্লাহ এই পৃথিবীকে কর্মের ক্ষেত্র হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। এখানে প্রাপ্তির সঙ্গে প্রচেষ্টা এবং সফলতার সঙ্গে সাধনার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

ইসলামও মানুষকে অলসতা বা ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে বসে থাকতে শেখায় না। বরং চেষ্টা, সংগ্রাম ও কর্মনিষ্ঠাকে সফলতার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে উপস্থাপন করে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর এই যে মানুষ তাই পায়, যা সে চেষ্টা করে।’ (সুরা : আন নাজম, আয়াত : ৩৯)

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরবিদরা বলেন, মানুষ তার কর্ম ও প্রচেষ্টার ফলই লাভ করে। চেষ্টা ও সাধনা ছাড়া কোনো অর্জন সম্ভব নয়। প্রত্যেক ব্যক্তি তার কর্মফলেরই মুখোমুখি হবে। (তাফসিরে কুরতুবী)

পার্থিব জীবনের সাফল্যের মতো আখিরাতের সফলতাও চেষ্টা ও সাধনা ছাড়া অর্জিত হয় না। আল্লাহর সন্তুষ্টি, জান্নাতের সৌভাগ্য কিংবা আত্মিক উৎকর্ষ—কোনোটিই অলসতার মাধ্যমে লাভ করা যায় না। যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে আল্লাহর পথে চলতে চায় এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সংগ্রাম করে, আল্লাহ নিজেই তার জন্য হেদায়েতের পথ খুলে দেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা আমার উদ্দেশ্যে চেষ্টা-সংগ্রাম করবে, তাদের আমি আমার পথ দেখাব। আর আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মশীল লোকদের সঙ্গে রয়েছেন।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৬৯)

এই আয়াতের তাফসিরে ফুদাইল ইবনে আয়াদ বলেন, ‘যারা বিদ্যার্জনে ব্রতী হয়, আমি তাদের জন্য আমলও সহজ করে দিই।’ (বাগভী)

আসলে মানুষের আন্তরিক প্রচেষ্টা কখনোই আল্লাহর কাছে মূল্যহীন নয়। কোনো ব্যক্তি যদি নিষ্ঠার সঙ্গে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পরিশ্রম করে, আল্লাহ তাকে তার অবস্থার ওপর ছেড়ে দেন না; বরং ধীরে ধীরে তাকে সত্যের পথে পরিচালিত করেন, কল্যাণের দরজা উন্মুক্ত করে দেন এবং নেক কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে দেন।

মুমিনের জীবনের লক্ষ্য শুধু দুনিয়াবি সফলতা নয়; বরং আখিরাতের স্থায়ী মুক্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই একজন মুমিন ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে আদায়ের পাশাপাশি নফল আমল, দান-সদকা, কোরআন তিলাওয়াত, জ্ঞানার্জন ও মানবসেবার মাধ্যমে নিজের আমলের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করে। আল্লাহ তাআলা এমন প্রচেষ্টাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আর যারা মুমিন হয়ে আখিরাত কামনা করে এবং তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে। তাদের প্রচেষ্টা পুরস্কারযোগ্য। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১৯)

অতএব, সফলতার স্বপ্ন দেখাই যথেষ্ট নয়; সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন নিরলস চেষ্টা, ধৈর্য ও আত্মনিবেদন। দুনিয়ার কোনো ক্ষেত্রেই হোক কিংবা আখিরাতের কল্যাণ লাভের উদ্দেশ্যেই হোক, মহান আল্লাহ চেষ্টা ও সাধনাকেই সফলতার সোপান বানিয়েছেন। তাই মুমিনের কর্তব্য হলো হতাশ না হয়ে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং বিশ্বাস করা যে আন্তরিক প্রচেষ্টার কোনো প্রতিদান কখনোই আল্লাহর কাছে হারিয়ে যায় না। একদিন না একদিন তিনি তার শ্রম, ত্যাগ ও সাধনার উত্তম প্রতিদান অবশ্যই দান করবেন।

কোরআনের বর্ণনায় হজ কবুল হওয়ার ১০ আলামত

ইসলামী জীবন ডেস্ক
কোরআনের বর্ণনায় হজ কবুল হওয়ার ১০ আলামত
সংগৃহীত ছবি

হজ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম একটি মহান ইবাদত। এটি শুধু কিছু আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডের সমষ্টি নয়; বরং জীবনের এক আমূল পরিবর্তনের নাম। একজন মুসলিম যখন আল্লাহর ঘরের মেহমান হয়ে লাখো মানুষের সঙ্গে একই পোশাকে, একই স্থানে, একই রবের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের গুনাহের জন্য কান্নাকাটি করে, তখন তার অন্তরে এক নতুন জাগরণ সৃষ্টি হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একজন হাজি কিভাবে বুঝবেন যে তাঁর হজ আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছে?

হজ কবুল হওয়ার প্রকৃত সংবাদ একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন। পৃথিবীর কোনো মানুষ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না যে তার বা অন্য কারো হজ কবুল হয়েছে কি না। তবে কোরআনে এমন কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়, যা একজন বান্দার হজ কবুল হওয়ার সুসংবাদ বহন করে।

আর হজের পর যদি মানুষের ঈমান, চরিত্র, আমল, চিন্তা-চেতনা ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, তবে তা কবুলিয়তের অন্যতম লক্ষণ হিসেবে গণ্য হয়। নিচে হজ কবুল হওয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত আলোচনা করা হলো—

১. ঈমান ও আমল বৃদ্ধি পাওয়া : হজ কবুল হওয়ার অন্যতম বড় আলামত হলো মানুষের ঈমান আরো শক্তিশালী হওয়া এবং ইবাদতের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়া। হজের আগে যে ব্যক্তি নামাজে অলসতা করত, কোরআন তিলাওয়াত থেকে দূরে থাকত কিংবা বিভিন্ন নেক আমলে অনাগ্রহী ছিল, হজের পর তার মধ্যে যদি ইবাদতের প্রতি গভীর ভালোবাসা সৃষ্টি হয়, তবে এটি কবুলিয়তের একটি মহা লক্ষণ। কেননা কবুল হজ মানুষকে আল্লাহর আরো নিকটবর্তী করে এবং তার হৃদয়ে তাকওয়ার আলো জ্বালিয়ে দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যারা সৎপথ অবলম্বন করেছে, আল্লাহ তাদের হেদায়েত আরো বৃদ্ধি করে দেন এবং তাদের তাকওয়া দান করেন।’ (সুরা : মুহাম্মাদ, আয়াত : ১৭)

২. দুনিয়ার মোহ কমে যাওয়া এবং আখিরাতমুখী হওয়া : হজের প্রতিটি অনুষঙ্গ মানুষকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ইহরামের সাদা কাপড় যেন কাফনের কথা মনে করিয়ে দেয়, আর আরাফাতের ময়দান যেন হাশরের মাঠের প্রতিচ্ছবি। তাই হজ কবুল হলে মানুষের হৃদয়ে দুনিয়ার চাকচিক্যের প্রতি আকর্ষণ কমে যায় এবং আখিরাতের সফলতার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। তার চিন্তা-চেতনা, পরিকল্পনা ও জীবনের লক্ষ্য ধীরে ধীরে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দিকে ধাবিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘দুনিয়ার জীবন তো প্রতারণার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৮৫)

৩. গুনাহ ও অন্যায় থেকে সম্পূর্ণরূপে ফিরে আসা : হজ কবুল হওয়ার সবচেয়ে স্পষ্ট আলামত হলো পাপমুক্ত জীবনযাপনের চেষ্টা করা। যে ব্যক্তি হজের আগে সুদ, ঘুষ, মিথ্যা, গিবত, অশ্লীলতা, হারাম উপার্জন বা অন্য কোনো গুনাহে জড়িত ছিল, হজের পর যদি সেসব থেকে আন্তরিকভাবে তাওবা করে দূরে সরে আসে, তবে এটি কবুলিয়তের শক্তিশালী নিদর্শন। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজ করল এবং অশ্লীলতা ও গুনাহ থেকে বিরত থাকল, সে এমন অবস্থায় ফিরে আসে যেমন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৫২১)

৪. নিজের আমলকে তুচ্ছ মনে করা : কবুল হজের একটি সূক্ষ্ম আলামত হলো মানুষ নিজের আমল নিয়ে অহংকার না করে বরং তা অপ্রতুল মনে করে। হজ থেকে ফিরে কেউ যদি বলতে শুরু করে, ‘আমি হজ করেছি’, তাহলে এটা হবে খুব জঘন্য বিষয়। কেননা আল্লাহ বলেন, ‘আর তারা যা কিছু দান করে (এবং নেক আমল করে), তা করে এমন অবস্থায় যে তাদের অন্তর ভীতসন্ত্রস্ত থাকে, কারণ তারা তাদের প্রতিপালকের নিকট ফিরে যাবে।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৬০)

৫. আমল কবুল না হওয়ার ভয় হওয়া : সালাফে সালেহিনরা নেক আমল করার চেয়ে আমল কবুল হওয়ার ব্যাপারে বেশি উদ্বিগ্ন থাকতেন। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা শুধু মুত্তাকিদের আমল কবুল করেন।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ২৭)

৬. কবুল হওয়ার আশা নিয়ে বেশি বেশি দোয়া করা : ভয়ের পাশাপাশি মুমিনের অন্তরে আশা থাকাও জরুরি। কারণ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া মুমিনের কাজ নয়। কাবা শরিফ নির্মাণের মতো মহান কাজ সম্পন্ন করার পরও ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাঈল (আ.) দোয়া করেছিলেন, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের পক্ষ থেকে (আমাদের আমলগুলো) কবুল করে নিন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১২৭)

৭. বেশি পরিমাণে ইস্তিগফার করা : ইবাদত শেষ হওয়ার পর ইস্তিগফার করা নবী-রাসুলদের সুন্নাহ। কেননা কবুল হজ মানুষকে আরো বেশি বিনয়ী করে এবং সে উপলব্ধি করে যে তার ইবাদতে নিশ্চয়ই বহু ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়ে গেছে। তাই সে বেশি বেশি তাওবা ও ইস্তিগফারে মনোযোগী হয়। আল্লাহ তাআলা হজের আমল বর্ণনার শেষে বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৯৯)

৮. নেক আমলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা : একটি নেক আমল কবুল হওয়ার অন্যতম আলামত হলো তার মাধ্যমে আরেকটি নেক আমলের পথ খুলে যাওয়া। হজের পর যদি কেউ নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, দ্বিনি শিক্ষা অর্জন, দাওয়াত ও খিদমতের কাজে আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে যায়, তবে এটি তার হজের ইতিবাচক প্রভাব এবং কবুলিয়তের সুসংবাদ বহন করে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাকে নেক আমলের তাওফিক দান করেন।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘কিভাবে?’ তিনি বললেন, ‘মৃত্যুর আগে তাকে একটি সৎ কাজ করার তাওফিক দেন, তারপর সেই অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটান।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ১৭৭৭৮)

৯. মানুষের হক আদায়ে সচেতন হওয়া : হজ কবুল হওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত হলো মানুষের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে যত্নবান হয়ে ওঠা। সে কারো টাকা-পয়সা, সম্পদ, সম্মান বা অধিকার নষ্ট করে না; বরং অতীতের অন্যায়ের জন্য ক্ষমা চায় এবং মানুষের হক ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কারণ আল্লাহর হক তাওবার মাধ্যমে মাফ হতে পারে, কিন্তু বান্দার হক আদায় বা ক্ষমা না নেওয়া পর্যন্ত মুক্তি পাওয়া কঠিন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন যে তোমরা আমানতসমূহ তাদের প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দাও।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৫৮)

১০. উত্তম চরিত্র ও নম্রতা অবলম্বন করা : কবুল হজ মানুষের আচার-আচরণে সৌন্দর্য নিয়ে আসে। সে ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করে, মানুষের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করে, অহংকার ত্যাগ করে এবং নম্রতা ও বিনয়ের পরিচয় দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর রহমানের বান্দা তারা, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং যখন অজ্ঞ লোকেরা তাদের সম্বোধন করে, তখন তারা শান্তিপূর্ণ কথা বলে।’(সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬৩)

অতএব, হজের প্রকৃত সফলতা ‘হাজি’ উপাধি লাভে নয়; বরং হজের মাধ্যমে অন্তরের পরিবর্তনে। যে হজ মানুষের জীবনকে আল্লাহমুখী করে, গুনাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, নেক আমলের প্রতি আগ্রহী করে, বিনয়ী ও আখিরাতমুখী বানায়—সেই হজই মাকবুল হজ হওয়ার আশা করা যায়। তাই হজ সম্পন্ন করার পর একজন মুমিনের সর্ববৃহৎ চিন্তা হওয়া উচিত ‘আমি হজ করেছি’ এ কথা প্রচার করা নয়; বরং ‘আমার হজ কি আল্লাহর কাছে কবুল হয়েছে?’ এই ভাবনায় নিজেকে সংশোধন করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবার হজ, ওমরাহ ও নেক আমল কবুল করুন। আমিন।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ৬ জুন ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ৬ জুন ২০২৬

আজ শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১৯ জিলহজ ১৪৪৭।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ০১ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৩৬ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৪৭ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ১৩ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৪৬ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪২ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১১ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

ওমরাহ করতে বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানাতে পারবে সৌদি নাগরিকরা | কালের কণ্ঠ