জ্ঞান মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ। সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা খ্যাতি মানুষকে সাময়িক মর্যাদা দিতে পারে, কিন্তু প্রকৃত জ্ঞান ও আল্লাহভীতি মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় জগতেই সম্মানিত করে। ইসলামে ইলম অর্জনকে ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা প্রথম যে ওহি নাজিল করেছেন, তার সূচনাই ছিল—‘পড়ো’। এটি প্রমাণ করে যে ইসলাম জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও চিন্তাশীলতার ধর্ম।
তবে জ্ঞান অর্জনের জন্য শুধু প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন আল্লাহর বিশেষ সাহায্য, তাওফিক ও বরকত। তাই কোরআন ও হাদিসে এমন কিছু দোয়া শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যেগুলো নিয়মিত পাঠ করলে উপকারী জ্ঞান, সঠিক বুঝ এবং প্রজ্ঞা লাভ হয়। দোয়াগুলো হলো-
১. ইবরাহিম (আ.)-এর প্রজ্ঞা লাভের দোয়া
رَبِّ هَبۡ لِي حُكۡمًا وَأَلۡحِقۡنِي بِالصَّالِحِينَ
উচ্চারণ : রাব্বি হাবলি হুকমান ওয়া আলহিকনি বিস সালিহিন।
অর্থ : ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন এবং আমাকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করুন।’ (সুরা : শুআরা, আয়াত : ৮৩)
এই দোয়ায় হজরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর কাছে শুধু জ্ঞান নয়, বরং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রজ্ঞা এবং নেককারদের সঙ্গ লাভের আবেদন করেছেন। কারণ প্রকৃত জ্ঞান তখনই মূল্যবান হয়, যখন তা মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করে।
২. উপকারী জ্ঞান বৃদ্ধির দোয়া
اللَّهُمَّ انْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي، وَعَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي، وَزِدْنِي عِلْمًا، وَأَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ حَالِ أَهْلِ النَّارِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মানফাতানি বিমা আল্লামতানি, ওয়া আল্লিমনি মা ইয়ানফাউনি, ওয়া জিদনি ইলমা, ওয়া আউজু বিল্লাহি মিন হালি আহলিন নার।
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যা শিখিয়েছেন, তা দ্বারা আমাকে উপকৃত করুন। আমার জন্য যা উপকারী, তা আমাকে শিক্ষা দিন। আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন এবং আমি জাহান্নামিদের অবস্থা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৯৯)
এটি এমন একটি পরিপূর্ণ দোয়া, যেখানে উপকারী জ্ঞান, নতুন জ্ঞান অর্জন, জ্ঞান বৃদ্ধি এবং আখিরাতের মুক্তি—সবকিছুরই আবেদন রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও এই দোয়া নিয়মিত করতেন।
৩. দ্বীনের গভীর জ্ঞান লাভের দোয়া
اللَّهُمَّ فَقِّهْنِي فِي الدِّينِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ফাক্কিহনি ফিদ দ্বীন।
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করুন।’
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ছোটবেলায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খেদমত করতেন। একদিন তিনি নবীজি (সা.)-এর অজুর জন্য পানি প্রস্তুত করে রাখলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জন্য এই দোয়া করেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৪৩)
এই দোয়ার বরকতেই ইবনে আব্বাস (রা.) পরবর্তীকালে ‘হিবরুল উম্মাহ’ (উম্মতের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত) ও ‘তারজুমানুল কোরআন নামে খ্যাত হন।
আমাদের করণীয়
শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক, আলেম কিংবা সাধারণ মুসলিম—সবারই উচিত প্রতিদিন এই দোয়াগুলো পাঠ করা। বিশেষ করে পড়াশোনা শুরু করার আগে, পরীক্ষার পূর্বে, কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কিংবা নতুন কিছু শেখার সূচনায় এসব দোয়া নিয়মিত পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। মনে রাখতে হবে, জ্ঞান তখনই কল্যাণকর হয়, যখন তা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, সত্যকে জানা এবং মানুষের উপকারে ব্যবহৃত হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে উপকারী জ্ঞান, বিশুদ্ধ প্রজ্ঞা এবং সেই অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।




