• ই-পেপার

দেশের মাথাপিছু আয় ও জিডিপি কমেছে!

বিশ্ববাজারে বাড়ল সোনা-রুপার দাম

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে বাড়ল সোনা-রুপার দাম
সোনার গয়না। ছবি : রয়টার্স

তেলের দাম কিছুটা কমে আসায় বিশ্ববাজারে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সোনার দাম। শুরুর ধাক্কা সামলে শুক্রবার (২৪ জুলাই) লেনদেনের একপর্যায়ে মূল্যবান এই ধাতুর দাম সামান্য বেড়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার জেরে তৈরি হওয়া জ্বালানিভিত্তিক মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। খবর রয়টার্স

বাজারের তথ্যে দেখা যায়, শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক সরবরাহ করা সোনার দাম (স্পট গোল্ড) ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬১.৩৬ ডলারে। এর আগে দিনের শুরুতে সোনার দাম প্রায় ০.৬ শতাংশ কমে গিয়েছিল। অন্যদিকে আগামী আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন সোনার দাম (গোল্ড ফিউচার্স) ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স বিকোচ্ছে ৪ হাজার ৬৩.৬০ ডলারে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক ইউবিএস’র বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনোভো বলেন, ‘দিনের শুরুতে সোনার বাজারে যে দরপতন দেখা গিয়েছিল, তেলের দাম কমে আসায় তা ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। তেলের বাজার কিছুটা শান্ত হওয়ায় মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের ওপর এখনই সুদের হার বাড়ানোর চাপ কমবে।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমাদের ধারণা, ফেড নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখবে। আর এটি আগামী মাসগুলোতে সোনার দাম ধরে রাখতে মূল সমর্থন হিসেবে কাজ করবে।’

এর আগে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেল ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি করার পর গত বৃহস্পতিবার অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফে ৭ শতাংশের বেশি বাড়ে। তাতে গত মে মাসের পর প্রথমবারের মতো তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে শুক্রবার কিছুটা দরপতনের পর তেলের দাম আবার সেই মাইলফলকের নিচে নেমে আসে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় তেলের উচ্চমূল্য সোনার বাজারের ওপর চাপ তৈরি করছিল। কারণ জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেয়, যা সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার উচ্চপর্যায়ে রাখতে হয়। আর সুদের হার বেশি থাকলে সুদমুক্ত বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে সোনার আকর্ষণ কমে যায়।’

বিশ্বের বৃহত্তম সোনা ব্যবহারকারী দেশ চীনে সোনার চাহিদা সামান্য বাড়লেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে ভারতে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম চড়ে যাওয়ায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা আমদানিকারক দেশ ভারতে কেনাকাটা বেশ ঝিমিয়ে পড়েছে। চাহিদা কমায় সেখানে ছাড়ের (ডিসকাউন্ট) পরিমাণ গত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সোনার পাশাপাশি অন্যান্য ধাতুগুলোর দামেও সামান্য উর্ধ্বগতি দেখা গেছে। এর মধ্যে রুপার দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৮.৪৩ ডলারে উঠেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬০২.৭৪ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৬.৯৫ ডলারে।

বন্যার প্রভাব বাজারে, সবজির বাড়তি দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যার প্রভাব বাজারে, সবজির বাড়তি দাম
ফাইল ছবি

টানা বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। দেশি পেঁয়াজের দাম একলাফে ৬০ টাকা কেজি হয়েছে। কয়েক দিন আগেও এই নিত্যপণ্য খুচরায় ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে কাঁচা মরিচ, ডিম, মুরগি ও বেশির ভাগ সবজির দাম। আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে মাছ ও মাংস।

কয়েক দিন আগেও এই নিত্যপণ্য খুচরায় ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে কাঁচা মরিচ, ডিম, মুরগি ও বেশির ভাগ সবজির দাম। আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে মাছ ও মাংস।

রাজধানীর জোয়ারসাহারা, বাড্ডা ও রামপুরাসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভালো মানের পেঁয়াজ খুচরা বাজারে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের পেঁয়াজের দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

পাইকারি বাজারে পাঁচ কেজির এক পাল্লা ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহেও ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বিভিন্ন এলাকায় পেঁয়াজের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। মোকাম থেকে ঢাকায় পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি অনেক এলাকায় গুদামে পানি ঢুকে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।

রামপুরা বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, পাবনা, ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আসে। কিন্তু কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে মোকামেই দাম বেড়ে গেছে। ফলে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনে এনে খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর খুচরা বাজারে দুই সপ্তাহ আগেও ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে যেসব সবজি বিক্রি হয়েছে, এর বেশির ভাগের দাম এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

ঢেঁড়স ও পটোলের মতো সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরবটি ১০০ টাকা, বেগুন জাতভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ও কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। দেশি শসা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি, হাইব্রিড শসা ১০০ থেকে ১২০ টাকা। টমেটোর কেজি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। আকারভেদে লম্বা লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা।
সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। দুই সপ্তাহ আগেও ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ এখন মানভেদে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা।

সবজি বিক্রেতাদের ভাষ্য, বৃষ্টি ও বন্যায় বিভিন্ন এলাকার সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আড়তে সরবরাহ কমেছে। এ কারণে পাইকারি বাজারে দামও বেড়েছে। সরবরাহ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আগামী কয়েক দিনে দাম আরো বাড়তে পারে।

মাছের বাজারেও দাম ঊর্ধ্বমুখী। পাঙ্গাশ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৬০ টাকা, রুই ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং চাষের কই মাছ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি। আকারভেদে চিংড়ির দাম ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি। বিক্রেতাদের দাবি, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে।

মুরগি ও ডিমের বাজারেও একই চিত্র। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি এবং সোনালি মুরগির দাম বেড়ে ৩৩০ থেকে ৩৬০ টাকা। ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে এখন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। তবে আলু ও রসুনের দামে তেমন পরিবর্তন নেই। ডায়মন্ড জাতের আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা ও দেশি রসুন আকার ভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি।

সোনার দামে বড় পতন, ভরি কত?

অনলাইন ডেস্ক
সোনার দামে বড় পতন, ভরি কত?

টানা দুই দফা বাড়ার পর দেশের বাজারে সোনার দাম কমেছে। এবার ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালংকার ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলংকার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

গত ২২ জুলাই সকালে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

সোনার দাম কমানোর সঙ্গে দেশের বাজারে কমানো হয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ১৭৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশের বাজারে আজ সোনার দাম কত?

অনলাইন ডেস্ক
দেশের বাজারে আজ সোনার দাম কত?

দেশের বাজারে গত বুধবার সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এরপর আর সোনার দামে সমন্বয় না হওয়ায় আজ শুক্রবারও ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়।

নতুন দাম অনুযায়ী দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য।

দেশের মাথাপিছু আয় ও জিডিপি কমেছে! | কালের কণ্ঠ