সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের হাব হয়ে উঠছে এশিয়া

আনিকা জীনাত
আনিকা জীনাত
শেয়ার
সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের হাব হয়ে উঠছে এশিয়া

ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক পণ্যের ডিজাইন, চিপ ফ্যাব্রিকেশন, অ্যাসেম্বলিং, টেস্টিং ও প্যাকেজিংকেই প্রধানত সেমিকন্ডাক্টর খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শুধু মোবাইল বা ল্যাপটপ নয়, আধুনিক অবকাঠামোর সর্বত্র সেমিকন্ডাক্টরের প্রয়োজন হয়। সামরিক খাতে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক অস্ত্রে, টেলিকমিউনিকেশন খাতে নিরাপদে ও সহজে তথ্যের আদান-প্রদান করতে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যবহৃত পেসমেকার ও ইনসুলিন পাম্পে, অটোমোবাইল খাতে গাড়ি আনলক করতে বা রিয়ারভিউ ক্যামেরা ব্যবহারে সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য।

গত ৫০ বছরে সেমিকন্ডাক্টরের আকার ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয়েছে।

সেমিকন্ডাক্টরের ওপর ইলেকট্রনিক ডিভাইসের নির্ভরতাও বেড়েছে বহুগুণ। মূলত সেমিকন্ডাক্টরের কারণেই ডিভাইসের আকার ছোট, উন্নত ও গতিশীল হয়েছে। আজকের যুগের স্মার্টফোনই এর বড় প্রমাণ। সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন করলে পুরো দেশই লাভবান হয়।

দৃঢ় অর্থনৈতিক অবস্থান তৈরি, দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শক্ত অবস্থান তৈরিতে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে ঝুঁকছে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো।

বিভিন্ন দেশের কম্পানিগুলো সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন করে সেগুলো স্বল্প মূল্যে উৎপাদন করতে এশিয়ার দেশগুলোকে বেছে নিয়েছে। অবস্থানগত কারণ, দক্ষ জনশক্তি এবং এই খাত সম্প্রসারণে সরকারি নীতিমালা এ অঞ্চলের দেশগুলোকে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে সহায়তা করছে। ফাইভজি, এআই, ড্রোন, রোবটিকস, আইওটি, বিগ ডাটা বিশ্লেষণ ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের কারণে এই খাতের বাজার ভবিষ্যতে আরো বড় হবে।

সেমিকন্ডাক্টরকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ায় তৈরি হবে ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার।

প্রযুক্তি বাজার বিশ্লেষণকারী কম্পানি ওমডিয়া জানিয়েছে, গত বছর সেমিকন্ডাক্টর খাতে বৈশ্বিকভাবে আয় হয়েছে ৫৪ হাজার ৪৮০ কোটি ডলার। ২০৩০ সাল নাগাদ এটা ১.২ ট্রিলিয়ন বা এক লাখ ২০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে।

সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের কেন্দ্র হয়ে উঠছে এশিয়া

বিশ্বের ৮১ শতাংশ সেমিকন্ডাক্টরই এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন দেশে উৎপাদন করা হচ্ছে। এই দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, চীন, জাপান ও ভারত।

এর মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে তাইওয়ান। এই বাজারের ৬০ শতাংশ রয়েছে তাদের দখলে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা মেটাতে তাইওয়ানের ওপর নির্ভর করে। দেশটিতে আছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কম্পানি বা টিএসএমসি। অন্য কম্পানিগুলোর দেওয়া অর্ডার অনুযায়ী, সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করে টিএসএমসি। ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট, সিপিইউ ও জিপিইউসহ নানা পণ্য উৎপাদন করে তারা। বর্তমানে তাদের বাজার মূলধন ২১.২৯ ট্রিলিয়ন তাইওয়ান ডলার। কর্মী সংখ্যা ৫৪ হাজার ৯৭৪।

চীন সরকার সেমিকন্ডাক্টর খাতে সম্প্রতি ৩৪৪ বিলিয়ন ইউয়ান (৪৭ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির সেমিকন্ডাক্টর খাতকে শক্তিশালী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে এই অর্থ বিনিয়োগ করবে তারা। এর আগেও এই খাতে দুই দফায় বিনিয়োগ করেছে চীন। তৃতীয় দফার বিনিয়োগের পরিমাণ আগের দুই দফার চেয়ে বেশি। প্রথমবার ২০১৪ সালে বিনিয়োগ করা হয় ১৩৮.৭ বিলিয়ন ইউয়ান। দ্বিতীয় দফায় ২০১৯ সালে বিনিয়োগ করা হয় ২০৪ বিলিয়ন ইউয়ান।

আগামী পাঁচ বছরে চীনের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়বে ৪০ শতাংশ। ১৫ বছর আগেও চীনে উৎপন্ন সেমিকন্ডাক্টরগুলো বাইরের দেশগুলোতে বিক্রি করা হতো। এখনকার উৎপন্ন সেমিকন্ডাক্টরগুলোর বেশির ভাগ চীনের ভেতরেই ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের ফলে ভবিষ্যতে চীনের তৈরি ডিভাইসের দাম আরো কমতে পারে।

সেমিকন্ডাক্টরের বাজার ধরতে ভারতও পিছিয়ে নেই। বহুজাতিক অ্যাকাউন্টিং কম্পানি প্রাইস উড কুপারস বা পিডাব্লিউসির দেওয়া তথ্য মতে, ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতের সেমিকন্ডাক্টরের বাজার পাঁচ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। সেমিকন্ডাক্টরের বাজার বড় করতে তাইওয়ানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে ভারত। দেশ দুটি মিলে গঠন করেছে ইন্ডিয়া-তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ফোরাম। উভয় দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোই এ ফোরামের মূল লক্ষ্য।

সম্প্রতি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে কারখানা স্থাপনে এক হাজার ৫২০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ভারত। এর আওতায় একটি সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব্রিকেশন, দুটি প্যাকেজিং ও একটি টেস্ট ফ্যাসিলিটি তৈরি করবে তারা।

১৯৮৮ সালে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারের ৫০.৩ শতাংশ ছিল জাপানের দখলে। নব্বইয়ের দশকে বাজারে তাদের আধিপত্য কমতে শুরু করে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে সেমিকন্ডাক্টর বাজারে আবারও শক্ত অবস্থান তৈরির পথে এগিয়ে যাচ্ছে জাপান। স্ট্যাটিস্টার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জাপানের সেমিকন্ডাক্টর বাজার হবে চার হাজার ৯৩০ কোটি ডলারের। ধারণা করা হচ্ছ, ২০৩২ সালে তাদের বাজার হবে ১০ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলারের। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়াও সেমিকন্ডাক্টর খাতে অন্তত ১০ হাজার ৭০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন করে বছরে পাঁচ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছে বাংলাদেশ। সম্ভাবনাময় এই খাত থেকে আয় বাড়াতে প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ, সহায়ক নীতি ও দক্ষ জনশক্তি।

আকারে ক্ষুদ্র হলেও সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন খুব জটিল প্রক্রিয়া। একটি সিলিকন প্লেটে কয়েক শ কোটি ট্রানজিস্টর থাকে। সিলিকন ওয়েফার উপাদানও সহজলভ্য নয়। সহজে বললে, সিলিকনের প্লেট, যা সিলিকন ওয়েফার নামে পরিচিত, তার ওপর সাজানো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইলেকট্রিক ট্রানজিস্টর, যা ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি) বা মাইক্রোচিপ নামে পরিচিত—এদের সম্মিলিতভাবে বলা হয় সেমিকন্ডাক্টর।

এ ছাড়া উৎপাদনের জন্য বিশাল কারখানা ও দামি মেশিনের প্রয়োজন হয়। উৎপাদনস্থল হতে হয় ধুলানিরোধী। সেমিকন্ডাক্টর তৈরির প্রক্রিয়া চলে তিন মাসের বেশি সময় ধরে। তাই বড় পরিসরে উৎপাদন করা কঠিন। উৎপাদনের পাশাপাশি এর সরবরাহচক্র ঠিক রাখাও বড় একটি চ্যালেঞ্জ।

সূত্র : বিবিসি, লেভেল আপ আইপিএস, গিকসফরগিকস

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কে দুশ্চিন্তায় তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কে দুশ্চিন্তায় তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক (রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ) আরোপ করেছে। ফলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্ক বসবে; এতদিন যা ছিল গড়ে ১৫ শতাংশ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। যে কারণে ট্রাম্পের নতুন এই সিদ্ধান্তে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা।

জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি করা মোট তৈরি পোশাকের ১৮ শতাংশ গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে পোশাক রপ্তানিকারক প্রায় সব দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক বসেছে। তবু, শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। শীর্ষ দশ পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে শুধু মেক্সিকোর ওপর নতুন এই শুল্ক আরোপ করেনি যুক্তরাষ্ট্র।

পোশাক রপ্তানিকারকরা বলছেন, শুল্ক আরোপের কারণে প্রভাব পড়বে। শুল্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে। পণ্যের চাহিদা কমবে। যত দ্রুত সম্ভব সরকারি পর্যায়ে পাল্টা শুল্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু করতে হবে।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৃতীয় শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ৭৩৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে।

আরো পড়ুন
শুল্কারোপের কষ্ট মূল্যবান হবে : ট্রাম্প

শুল্কারোপের কষ্ট মূল্যবান হবে : ট্রাম্প

 

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) তথ্যানুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকরা ৭ হাজার ৯২৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। এরমধ্যে শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হচ্ছে—চীন, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, মেক্সিকো, হন্ডুরাস, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান এবং দক্ষিণ কোরিয়া।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে দূঢ় আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। যেহেতু এটি আলোচনাযোগ্য, তাই আমরা আলোচনা করব এবং আমি নিশ্চিত যে আমরা সর্বোত্তম সমাধানে পৌঁছাতে পারব।’

মন্তব্য

ভারত থেকে এলো ১০ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন চাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
ভারত থেকে এলো ১০ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন চাল
সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় (প্যাকেজ-৮) ভারত  থেকে ১০ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এমভি এইচটি ইউনিটি নামের একটি জাহাজ।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায় খাদ্য মন্ত্রণালয়।

আরো পড়ুন
পাবনায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুন

পাবনায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুন

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাহাজে রক্ষিত চালের নমুনা পরীক্ষা শেষ হয়েছে। চাল খালাসের  কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে।

এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

এতে আরো বলা হয়, উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোট পাঁচ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি প্যাকেজে মোট চার লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে। ইতিমধ্যে চুক্তি মোতাবেক তিন লাখ ছয় হাজার ৭৬৯ মেট্রিক টন চাল দেশে পৌঁছেছে।

 
 

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

তিন মাসে ১৪ বার বেড়েছে সোনার দাম

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
তিন মাসে ১৪ বার বেড়েছে সোনার দাম

বিশ্ব বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে বাড়ছে সোনার দাম। গত তিন মাসে এই অলঙ্কারটির দাম বেড়েছে ১৪ বার। কমেছে মাত্র ৩ বার। এক বছর আগে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ১ লাখ ১১ হাজার টাকা।

এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪৭ হাজার টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দেড় লাখ টাকার বেশি। 

আরো পড়ুন
যেসব দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প

যেসব দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প

 

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি বা বাজুস নিয়মিতই সোনার হালনাগাদ দাম প্রকাশ করে থাকে। বাজুস চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ) মোট ১৭ বার সোনার দাম পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে।

এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ১৪ বার আর দাম কমানো হয়েছে মাত্র ৩ বার।

চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি সোনার দাম বাড়ানো হয়। তখন ভরিপ্রতি (২২ ক্যারেট) দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৩ টাকা। সর্বশেষ গত ২৮ মার্চ দাম আরো বাড়িয়ে ভরিপ্রতি (২২ ক্যারেট) ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

দেশের বাজারে এটিই এখন পর্যন্ত সোনার সর্বোচ্চ বা রেকর্ড দাম। 

আরো পড়ুন
ফ্রিজে খাবার সতেজ রাখার সহজ উপায়

ফ্রিজে খাবার সতেজ রাখার সহজ উপায়

 

বর্তমানে ২১ ক্যারেট মানের সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের সোনা ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৭ টাকায় ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬ হাজার ৫৩৯ টাকা।

এদিকে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বিভিন্ন দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির চাপ ও তার জেরে শুল্ক যুদ্ধের আশঙ্কা। ফলে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে অনেকে সোনার দিকে ঝুঁকছেন।

শেয়ারবাজার থেকে পুঁজি প্রত্যাহার করেও অনেকে সোনা কিনছেন।
 

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন, যাকে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে অনেক দেশ। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। এতদিন দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল।

বাংলাদেশের প্রধান দুই রপ্তানি বাজারের একটি যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের একটি বড় অংশ রপ্তানি হয় দেশটিতে। যুক্তরাষ্ট্রে বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি হয় প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলার, যা প্রধানত তৈরি পোশাক। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (৭৩৪ কোটি) ডলারে।

নতুন করে উচ্চ মাত্রায় এই শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা।

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ২টা) হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্ক ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে উপস্থিত সাংবাদিকসহ সমবেতদের উদ্দেশে বক্তব্যের শুরুতেই ট্রাম্প বলেন, ‘আজ খুব ভালো খবর’ থাকবে। এ সময় দর্শক সারি থেকে করতালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়।

এই দিনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ অভিহিত করেন ট্রাম্প।

নতুন শুল্ক আরোপকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, এই দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষা করছে।

বাংলাদেশি পণ্য

ট্রাম্পের পাল্টা এই শুল্ক আরোপে ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ।

এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে।

অন্যান্য যেসব দেশের পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ এবং মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

পাল্টা এই শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে থাকা ট্রাম্প বলেছেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কখনো কখনো ‘বন্ধু শত্রুর চেয়ে খারাপ হয়’। যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের বিদেশি গাড়ি আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় যেসব গাড়ি উৎপাদন করা হয় তার ৮০ শতাংশের বেশি সেদেশে বিক্রি হয়। আর জাপানে যেসব গাড়ি বিক্রি হয় সেগুলোর ৯০ শতাংশের বেশি সেদেশে তৈরি হয়। এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি বিক্রি হয় খুব সামান্য।

মার্কিন কম্পানি ফোর্ড অন্যান্য দেশে খুব কম গাড়ি বিক্রি করে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, অন্য যে কোনো দেশে তৈরি মোটরযানের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে এবং এটা আজ মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হবে।

শুল্ক আরোপের ঘোষণাকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রতিফলন উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আজকের দিনকে আমেরিকান শিল্পের ‘পুনর্জন্ম’ এবং আমেরিকাকে ‘আবার সম্পদশালী’ করার দিন হিসেবে স্মরণ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বাধার মুখে রয়েছে।

অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা আরও খারাপ অবস্থা তৈরি করেছে। বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মেধাসত্ত চুরিসহ অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ করেছেন তিনি। সূত্র : রয়টার্স

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ