যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ছে—এমন খবরের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবার বেড়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দিনের শুরুতে দাম কমে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিল। তবে পরে মার্কিন ডলার ও তেলের দাম কমায় দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় স্বর্ণের বাজার। খবর রয়টার্স
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৮ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৭ ডলার ৫৯ সেন্টে উন্নীত হয়। এর আগে গত মার্চের পর এটিই ছিল স্বর্ণের সর্বনিম্ন দাম। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ফিউচার বা ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪৭৫ ডলার ৬০ সেন্টে দাঁড়ায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে একটি রূপরেখা চুক্তিতে পৌঁছেছে। চুক্তিটি এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এই খবরের পর বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের সূচক শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে যায়। ডলারের দাম কমায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের কাছে স্বর্ণ কেনা সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের দামও কিছুটা কমেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য প্রকাশিত অর্থনৈতিক উপাত্তে দেখা গেছে, দেশটিতে গত এপ্রিল পর্যন্ত ১২ মাসে ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, যা আগে থেকেই অনুমান করা হচ্ছিল। মার্চ মাসে এই সূচক শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বাড়লেও এপ্রিলে তা মাসভিত্তিক হিসাবে বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আর নাও বাড়াতে পারে—পিসিই উপাত্তে এমন আভাস পাওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা স্বস্তি পেয়েছেন।
স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই অং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, ‘আজ স্বর্ণের বাজারে যেন কোনো দৈবশক্তি ভর করেছে। প্রথমত, মার্কিন পিসিই সূচকের ইতিবাচক উপাত্ত এবং দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়ে একটি আসন্ন চুক্তির খবর—সব মিলিয়ে স্বর্ণের বাজারে একটি বড় স্বস্তি ফিরে এসেছে।’
টিডি সিকিউরিটিজের পণ্য কৌশল বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান বার্ট মেলেক মনে করেন, ফেডারেল রিজার্ভ এবার সুদের হার বাড়ানোর চেয়ে বর্তমান হার ধরে রাখার দিকেই বেশি মনোযোগ দেবে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম একধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। সাধারণত ভূ-রাজনৈতিক সংকটে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করা হলেও, সুদের হার বাড়লে এই মূল্যবান ধাতুর আকর্ষণ কমে যায়। কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা মুনাফা বা সুদ পাওয়া যায়—এমন বন্ড বা সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
সিটি ইনডেক্সের বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে মার্কিন ডলার ও ট্রেজারি ইল্ড (সরকারি বন্ডের মুনাফা) একসঙ্গে শক্তিশালী হচ্ছে, যা স্বর্ণের বাজারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও ওঠানামা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৪ দশমিক ৮ ডলারে উঠেছে। তবে প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯০২ দশমিক ৬৪ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৬৪ দশমিক ১০ ডলারে নেমেছে।






