• ই-পেপার

ক্ষমতা কমছে টাকার

  • ডলারের বিপরীতে দেড় বছরে ১১ শতাংশ অবনমন
  • রেকর্ড পরিমাণ পতন ঘটেছে চীনা মুদ্রা ইউয়ানের বিপরীতে
  • মান কমেছে ইউরো-পাউন্ডের বিপরীতেও
  • বাড়ছে আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি
  • শিল্পের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে

নজর ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল অর্থনীতিতে

অনলাইন ডেস্ক
নজর ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল অর্থনীতিতে

বাংলাদেশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মালয়েশিয়ায় ২৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে; বিপরীতে দেশটি থেকে আমদানি করেছে ২ হাজার ২৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পণ্য। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশের ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৯২২ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় যা রপ্তানি করে তার চেয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি পণ্য আমদানি করে। বিশাল এই বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে মালয়েশিয়ার হালাল অর্থনীতির অংশীদার হতে চাইছে বাংলাদেশ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুর রহিম খান (রপ্তানি) বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (আজ সোমবার) যখন মালয়েশীয় নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, তখন অন্যান্য আলোচনার মধ্যে গুরুত্ব পাবে হালাল অর্থনীতিতে অংশীদারত্বের বিষয়টি।

সূত্রগুলো জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সফরে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, সন্ত্রাসবাদ, গবেষণা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও নোট অব এক্সচেঞ্জ সই হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এসব ইস্যুর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক ইস্যুগুলোও সমহারে গুরুত্ব পাচ্ছে। যেসব বাণিজ্যিক ইস্যু আলোচনায় থাকছে : বর্তমানে বৈশ্বিক হালাল বাজারের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক মালয়েশিয়া। প্রতি বছর বিশ্বের বৃহত্তম হালাল পণ্যের প্রদর্শনী হয়ে থাকে কুয়ালালামপুরে।

বাংলাদেশ এই বিশাল আন্তর্জাতিক বাজারে নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে মালয়েশিয়ার ‘হালাল ইকোসিস্টেম’ ও সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়াকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে বিএসটিআই ও বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল পণ্যের সার্টিফিকেশন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব ইসলামিক ডেভেলপমেন্টের (জাকিম) প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা চাওয়া হবে। এ ছাড়া ঢাকার কাছাকাছি একটি ‘হালাল অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা এবং সেখানে যৌথ উদ্যোগে কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মাংস রপ্তানিশিল্প গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনার কথা রয়েছে।

হালাল পণ্য উৎপাদনে মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন প্রস্তাবিত ইকোনমিক জোনে সহজে কারখানা স্থাপন এবং উৎপাদন বাড়াতে পারে, সেজন্য বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সুযোগসুবিধা ও সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও দেশটিকে জানানো হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মালয়েশিয়ার বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থার (ম্যাটরেড) সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে বাংলাদেশের হালাল খাদ্য, ওষুধ ও প্রসাধনসামগ্রী বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে যুক্ত করার বিষয়টিও উঠে আসবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায়। হালাল পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, ল্যাবরেটরি টেস্টিং এবং এর বৈজ্ঞানিক দিকগুলো নিয়ে দুই দেশের গবেষকদের মধ্যে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ওষুধশিল্পের জন্য মালয়েশিয়ার বাজার উন্মুক্ত করা এবং বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে জোর আলোচনা হবে।

এ ছাড়া এলডিসি থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ হিসেবে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট আরসিইপিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হতে পারে। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সদ্য বিদায়ি সভাপতি সাব্বির আহমেদ খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির আকার বর্তমানে ৭ ট্রিলিয়ন বা ৭ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি। খাদ্য ও প্রক্রিয়াজাত পণ্যের পাশাপাশি ইসলামিক ফাইন্যান্স, হালাল পর্যটন, কসমেটিকস এবং ফ্যাশন খাতের মতো বহুমুখী শিল্পে হালাল পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ হচ্ছে। প্রায় ২০০ কোটি মুসলিম ভোক্তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও ক্রয়ক্ষমতার কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ১০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর দ্রুতবর্ধনশীল এই হালাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অংশীদারি নিশ্চিত করার জন্য মালয়েশিয়ার সহযোগিতা জরুরি।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

১১ মাসে রাজস্ব বোর্ডের রেকর্ড রাজস্ব আদায়, লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে ৮১ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ মাসে রাজস্ব বোর্ডের রেকর্ড রাজস্ব আদায়, লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে ৮১ হাজার কোটি টাকা
সংগৃহীত ছবি

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা, যা একই সময়ের মধ্যে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

রবিবার (২১ জুন) রাতে এনবিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আগের অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৩২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা বা ১০ দশমিক ২ শতাংশ।

তবে রেকর্ড আদায় হলেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এখনও বড় ঘাটতি রয়েছে। চলতি অর্থবছরে এনবিআরের সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। মে মাস পর্যন্ত আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা, অর্থাৎ ঘাটতি রয়েছে ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৮১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

খাতভিত্তিক হিসাবে প্রথম ১১ মাসে কাস্টমস বিভাগে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ, ভ্যাট বিভাগে ১০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং আয়কর বিভাগে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের প্রথম ২০ দিনেই আরও ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। ফলে ২০ জুন পর্যন্ত মোট আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। এটি আগের অর্থবছরের পুরো বছরের মোট আদায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকার চেয়েও বেশি।

রাজস্ব বোর্ডের আশা, জুনের শেষ ১০ দিনে আরও প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হবে। সে ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায় ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হবে। যদিও তখনও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থেকে যাবে। তবে আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় বাড়বে প্রায় ৪৩ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা।

রাজস্ব আদায় বাড়াতে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে পৃথক তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর। কর ফাঁকি শনাক্তকরণ, অডিট কার্যক্রম জোরদার, উৎসে কর ও ভ্যাট আদায়ের তদারকি, পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট এবং ঝুঁকিপূর্ণ করদাতাদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর মতো উদ্যোগের ফলে রাজস্ব আদায়ে গতি এসেছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর বলেছে, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সরকারি ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংগ্রহে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

ইইউতে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৬৪০ মিলিয়ন ডলার

অনলাইন ডেস্ক
ইইউতে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৬৪০ মিলিয়ন ডলার

চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৭ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৪০ মিলিয়ন ডলার কম।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে। মে মাসে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার হলেও মোটের ওপর হিসাব করলে এ বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইইউতে বাংলাদেশের রপ্তানি ভালো ছিল। ওই বছর রপ্তানি ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১৯ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই প্রবৃদ্ধি মূলত বেশি দামের কারণে হয়েছে, ক্রয়াদেশের পরিমাণ বাড়ার কারণে নয়। মে মাসের পুনরুদ্ধারেও সামগ্রিক ধীরগতি কাটেনি এপ্রিলের ১ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার থেকে মে মাসে রপ্তানি বেড়ে ১ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। এতে মাসভিত্তিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ। জানুয়ারির ১ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারের পর এটি চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক আয়।

তবে এ পুনরুদ্ধার সত্ত্বেও বছরের বড় অংশজুড়ে রপ্তানি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম ছিল। জুলাইয়ে ১ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার থেকে সেপ্টেম্বরে রপ্তানি কমে ১ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে নামে। পরে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে তা আবার কমে যথাক্রমে ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ও ১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘অর্থবছরের শুরুর মাসগুলোতে রপ্তানির পতন বেশি ছিল। তবে সাম্প্রতিক তথ্য ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইইউ বাজারে উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। চাহিদা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে অর্থবছরের বাকি সময়েও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করছি।’

এপ্রিলের ৩১৬ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার থেকে মে মাসে জার্মানিতে রপ্তানি বেড়ে ৪০৯ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে রপ্তানি এখনো জুলাইয়ের সর্বোচ্চ ৪৭১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে; এতে বোঝা যায়, চাহিদা এখনো আগের পর্যায়ে ফেরেনি।

মে মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশই গেছে জার্মানিতে। স্পেন দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। মে মাসে দেশটিতে ৩০০ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা এপ্রিলের ২৮৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় কিছুটা বেশি।

‘ব্যবসায়ীদের এখন সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর না করে কৌশল বদলাতে হবে’

অনলাইন ডেস্ক
‘ব্যবসায়ীদের এখন সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর না করে কৌশল বদলাতে হবে’
সংগৃহীত ছবি

দেশের বাজেটের একটি বিশাল অংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর গ্যাস সরবরাহে ভর্তুকি দিতে চলে যায় উল্লেখ করে প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের এখন কৌশল বদলাতে হবে। বাংলাদেশে যদি আর সস্তা গ্যাস না থাকে, তবে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর না করেই কিভাবে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা যায়, সেই পথ খুঁজতে হবে।’

বনানীর হোটেল শেরাটনে সোমবার (১৫ জুন) বাজেট আলোচনার আয়োজন করে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। এই সভায় প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী। আলোচনায় তিনি আরো বলেন, ‘মোট বাজেটের শতকরা হিসাবে এবার কৃষি খাতে বরাদ্দ কমে গেছে। আমরা এখনো কৃষিতে একই ধরনের খরচ করে যাচ্ছি, যার একটা বড় অংশই চলে যায় সার ভর্তুকিতে। কিন্তু সরকারকে আমরা বারবার বলে আসছি যে, কৃষি মানেই শুধু সার বা বিদ্যুৎ ভর্তুকি নয়।’

তিনি প্রশ্ন তোলেন, নতুন বাজেট কি দেশে ব্যবসা করা সহজ করার কোনো উত্তর দিতে পেরেছে? উত্তর দিতে গিয়ে নিজেই বলেন, ‘আংশিকভাবে দিয়েছে, তবে পুরোপুরি নয়। ব্যবসায়ীরা এখনো আগের চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হচ্ছেন। বাংলাদেশে ব্যবসা করে অর্থ উপার্জনের প্রক্রিয়াকে আরো সহজ করতে হবে, যাতে বিদেশিরা এখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন।’

বাংলাদেশকে একটি বড় রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, চীন থেকে যে বিনিয়োগগুলো অন্য দেশে চলে যাচ্ছে, সেগুলো বাংলাদেশে নিয়ে আসার সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং বাজেটের মূল মনোযোগ সেখানেই হওয়া উচিত ছিল।

দক্ষতা উন্নয়নের ঘাটতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দেশ এখন ১৭ থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় পাচ্ছে। কিন্তু এই বাজেট কি উত্তর দিয়েছে যে, কিভাবে একজন বাংলাদেশি কর্মীকে দক্ষ করা যাবে? ফিলিপাইনের একজন কর্মী যে আয় করেন, আমাদের কর্মীরা কেন তার চেয়ে কম পাবেন? আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত রেমিট্যান্সকে ১৮ বিলিয়ন থেকে ৩৬ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া।’

গতবারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও এবার আরো বেশি কর আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করায় তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমাদের মতো মানুষদের হয়তো আরো বেশি কর দিতে হবে। তবে জ্বালানি ভর্তুকির ওপর নির্ভর না করে কিভাবে জিডিপির আকার বড় করা যায়, বাজেটে সেই উত্তর থাকা প্রয়োজন ছিল।’

বর্তমান সরকারের একটি ইতিবাচক দিকের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এই সরকার আগের তুলনায় মানুষের কথা বেশি শুনছে। বাজেট ঘোষণার আগে আমরা যেসব উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলাম, তার কিছু প্রতিফলন বাজেটে দেখা গেছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দেওয়া পরামর্শের গুরুত্বও এবার বেড়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রেরও একজন ব্যবসায়ীর মতো চিন্তা করা উচিত। আমাদের ব্যবসায়ীদের যখন বিক্রি কমে যায়, তখন আমরা খরচ কমাই, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাদ দিই। তখন আমরা আরো বেশি ঋণ নিতে ব্যাংকে যাই না, বা বিদেশ থেকেও ঋণ আনার চেষ্টা করি না।’ গত বছরের মূলধনী ব্যয় (ক্যাপেক্স) থেকে শিক্ষা নিয়ে কোথায় ভুল ছিল, বাজেট সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।