• ই-পেপার

‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডে সৃজনশীল অর্থনীতিতে গতি আনার উদ্যোগ

অলস ২৩ হাজার কোটির বিনিয়োগ

গ্যাসের অভাব, সংযোগ না পেয়ে সুদের বোঝায় বিপর্যস্ত উদ্যোক্তারা, ঝুঁকিতে কর্মসংস্থান

অনলাইন ডেস্ক
অলস ২৩ হাজার কোটির বিনিয়োগ

হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কারখানা নির্মাণ শেষ হলেও গ্যাসসংযোগ না পাওয়ায় দেশের শিল্প খাতে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, সরকারের আশ্বাসে বিনিয়োগ করলেও সময়মতো গ্যাস না পাওয়ায় একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ অলস পড়ে আছে, অন্যদিকে ঋণের সুদের চাপ বহন করতে গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়েছে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চলের দুটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। প্রায় ৭ হাজার ৩২০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত কাচ ও রড তৈরির দুটি কারখানার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে যথাক্রমে আড়াই বছর ও দেড় বছর আগে। তবে এখনো গ্যাসসংযোগ না পাওয়ায় উৎপাদনে যেতে পারেনি প্রতিষ্ঠান দুটি। এমজিআই সূত্র জানায়, সরকারের আশ্বাসের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্যাসলাইনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। কিন্তু এখনো গ্যাস না পাওয়ায় কারখানাগুলো চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, বিদেশি ঋণের অর্থে কারখানা দুটি নির্মাণ করা হয়েছে। মাসে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা সুদ দিতে হচ্ছে। বিদেশি ঋণ পুনঃতফসিল বা সুদ মওকুফের সুযোগ না থাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চলে মোট সাতটি কারখানায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গ্যাসের অভাবে পুরো প্রকল্প কার্যত স্থবির হয়ে আছে।

প্রতিশ্রুত সংযোগের অপেক্ষায় ৫৫০ প্রতিষ্ঠান : পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, তিতাস গ্যাসসহ দেশের ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কাছে শিল্প সংযোগের জন্য বর্তমানে ১ হাজার ৮০০টির বেশি আবেদন জমা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৫০টি প্রতিষ্ঠান সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংযোগ পাওয়ার অপেক্ষায়। এসব প্রতিষ্ঠান সংযোগ ফিও জমা দিয়েছে, কিন্তু গ্যাস পাচ্ছে না।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সম্প্রতি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিবকে দেওয়া এক চিঠিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গ্যাসসংযোগ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গ্যাসসংযোগ দিতে না পারলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় অবস্থিত এমজিআইয়ের ৩৬১ একর আয়তনের অর্থনৈতিক অঞ্চলে কাচ ও রড কারখানার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের পাইপলাইন স্থাপন করা হলেও এখনো সংযোগ দেওয়া হয়নি। কারখানার পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসন নির্মাণও শেষ হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রবেশের সড়কটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও জলাবদ্ধতার কারণে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এমজিআইয়ের মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) সুমন চন্দ্র ভৌমিক গণমাধ্যমকে বলেন, সড়ক উন্নয়নের জন্য প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হলেও তা এখনো অনুমোদন পায়নি। ফলে শিল্পকারখানা এবং সাধারণ মানুষ উভয়েই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

শুধু এমজিআই নয়, দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপও গ্যাস সংযোগ সংকটে বড় ধরনের আর্থিক চাপে রয়েছে। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় হোসেন্দি অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে স্থাপিত পাঁচটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান-সিমেন্ট, চিনি, কাগজ, জাহাজ ও এলপিজি কারখানা গ্যাসের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না।

সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকা সুদ গুনতে হচ্ছে। কবে গ্যাস পাওয়া যাবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। একইভাবে হা-মীম গ্রুপ, টি কে গ্রুপ, বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও বছরের পর বছর ধরে গ্যাসসংযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ব্যাটারি কারখানা স্থাপন করেছে। তবে গ্যাসসংযোগ না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদনে যেতে পারছে না।

দেড় দশকের গ্যাস সংকট : দেশে গ্যাসের ঘাটতি নতুন নয়। ২০০৯ সালে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে এবং ২০১০ সালে আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে সরকার। পরবর্তীতে সীমিত আকারে কিছু সংযোগ দেওয়া হলেও চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান ক্রমেই বেড়েছে। বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যেখানে মোট চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিশ্রুত শিল্প সংযোগগুলো দিতে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ উত্তোলনযোগ্য গ্যাস মজুত রয়েছে, তা বর্তমান হারে উৎপাদন অব্যাহত থাকলে মাত্র সাত থেকে আট বছর চলবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে সংকট নিরসনের সহজ কোনো পথ নেই। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, জ্বালানি খাতে সুশাসন নিশ্চিত এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হবে। পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতার পরিবর্তে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে জোর দিতে হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানকে আগে থেকেই গ্যাসসংযোগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তাদের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা উচিত। তবে নতুন করে শিল্পে গ্যাস সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। আগামী চার থেকে পাঁচ বছর গ্যাস সংকট অব্যাহত থাকতে পারে। তাই দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর এখনই জোর দেওয়া প্রয়োজন।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

যে পদক্ষেপে ঘুরে দাঁড়াবে আবাসন খাত

অনলাইন ডেস্ক
যে পদক্ষেপে ঘুরে দাঁড়াবে আবাসন খাত

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির গতি ফেরাতে আবাসন বা রিয়েল এস্টেট খাতের সংকট দূর করা জরুরি হয়ে পড়েছে। রড, সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রীর লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং চড়া নিবন্ধন ব্যয়ের কারণে বর্তমানে এ খাতে মারাত্মক স্থবিরতা বিরাজ করছে। আবাসন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতে আবাসন খাতের সঙ্গে দেশের ২৬৯টির বেশি ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বা সহযোগী শিল্প সরাসরি জড়িত। ফলে এ খাতের মন্দা পুরো দেশের শিল্পোৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অর্থনীতিতে আবাসন খাতের ইতিবাচক অবদান নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে বিশেষ কিছু নীতিগত ও আর্থিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি আবাসন খাতকে কেবল রাজস্ব আদায়ের যন্ত্র না বানিয়ে একে ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে বলেও মত দেন তাঁরা।

নগর বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী এবং আবাসন খাতের শীর্ষ সংগঠনগুলোর মতে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে চড়া নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন ব্যয়। বর্তমানে ফ্ল্যাট ও প্লট কেনাবেচার ক্ষেত্রে গেইন ট্যাক্স, স্ট্যাম্প ডিউটি, রেজিস্ট্রেশন ফি ও ভ্যাট মিলিয়ে ক্রেতাদের বিপুল অঙ্কের টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে। এ উচ্চ নিবন্ধন ফি সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। নিবন্ধন ব্যয় কমিয়ে একটি যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে আনা হলে বাজারে ফ্ল্যাট বিক্রি বাড়বে। এতে সাময়িকভাবে করের হার কমলেও বেচাকেনা বৃদ্ধির কারণে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের মোট রাজস্ব আদায় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি যৌথ বিনিয়োগ বা জয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট চুক্তির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত মূলধনি কর পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। জমির মালিক ও ডেভেলপারদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানোর ফলে নতুন নতুন আবাসন প্রকল্প গ্রহণ থমকে গেছে। এটি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহ করছে, যার প্রভাব পড়ছে রড, সিমেন্ট, ইট ও বালুর বাজারে।

আবাসন খাত চাঙা করার আরেকটি অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো সহজ শর্তে ও সাশ্রয়ী মূল্যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা করা। মধ্যম ও স্বল্প আয়ের মানুষের গৃহায়নের স্বপ্ন পূরণ করতে একক ডিজিট বা সিঙ্গেল ডিজিট সুদে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ঋণ চালু করা আবশ্যক। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে একটি বিশেষ ‘পুনঃ অর্থায়ন তহবিল’ বা রি-ফাইন্যান্সিং ফান্ড গঠন করা যেতে পারে। এ তহবিল থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সাধারণ ক্রেতাদের কম সুদে ঋণ দিলে মধ্যবিত্তরা ফ্ল্যাট কিনতে উৎসাহিত হবে। আবাসন ঋণের কিস্তি সাধারণ মানুষের মাসিক আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে বাজারে তারল্যসংকট কাটবে এবং আবাসন খাত দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে। একই সঙ্গে লাগামহীন নির্মাণসামগ্রীর বাজার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সিন্ডিকেট দমনের পাশাপাশি রড ও সিমেন্ট উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কছাড় দিলে উৎপাদন ব্যয় ৩০% থেকে ৪০% পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব। কাঁচামালের দাম কমলে ফ্ল্যাটের দামও সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে চলে আসবে। সেই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্সের টাকা আবাসন খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ বন্ডসুবিধা বা করছাড় দিলে দেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আসবে। আবাসন খাতকে কেবল রাজস্ব আদায়ের উৎস না ভেবে একে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, ‘আবাসন খাত অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু সরকার কিছু ভুল পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে আবাসন খাত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়াতে এবং অর্থনীতির বিরাট ভূমিকা রাখতে এখন সরকারের উচিত রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো। সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে রেজিস্ট্রেশন ফি ৪-৫ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশে ১৫ শতাংশ। এ দেশে ৫-৭ শতাংশ নেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া সিঙ্গেল ডিজিটে লোনের ব্যবস্থা করা এবং দুই বছর মেয়াদি লোন দেওয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডেভেলপাররা ১৫% সাইনিং মানি দিয়ে কাজ শুরু করে। সরকার আবার ফ্ল্যাটের দামের ওপর ১৫% কর বসিয়েছে। যেটার প্রভাব আল্টিমেটলি গ্রাহকের ওপর পড়বে। এ ছাড়া লিংকেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য ইতোমধ্যে ৩১ শতাংশ বেড়েছে। বাজেটের কারণে ৪১ শতাংশ দাম বাড়বে। সুতরাং একজন ডেভেলপারের খরচ ৪৬ শতাংশ বাড়বে। একই সঙ্গে অর্ধকোটি মানুষ আবাসনের সঙ্গে জড়িত। জিডিপিতে ১৬% ভূমিকা রাখছে। কিন্তু এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারের কর এবং বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স কমে যাবে; যার প্রভাব পড়বে সরকারের ওপর। পাশাপাশি অর্থনীতির ওপর।’ জানতে চাইলে বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলডিএ) মহাসচিব মোস্তফা কামাল মহিউদ্দিন বলেন, ‘আবাসন খাতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ আবাসন খাত জিডিপিতে প্রায় ২০ শতাংশ অবদান রাখছে। একই সঙ্গে ৫০ লাখ মানুষ এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে এবং দেড় কোটি মানুষ পরোক্ষভাবে জড়িত। এ খাতে ৪ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। একই সঙ্গে ১২ হাজার শিল্পকারখানার এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বলা যায়, এ সেক্টর অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখছে। আবাসন ক্ষতিগ্রস্ত হলে অর্থনীতি বিরাট ধাক্কা খাবে। এজন্য আবাসন খাতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন করে ফ্ল্যাটের ওপর ১৫% কর আরোপ করা হয়েছে। ফলে ফ্ল্যাটের দাম অনেক বেড়ে যাবে। এতে ফ্ল্যাট মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে না। সরকারের কর সহনশীল পর্যায়ে না এলে এ খাতের বিনিয়োগ অন্য দেশে চলে যাবে। সরকারের ভুল নীতির কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিনিয়োগ ও বৈদাশিক রেমিট্যান্স কমে যাবে। সরকার যদি আবাসন খাত ঠিক না করে তাহলে অর্থনীতির জন্য এটা সুইসাইডাল কেস হবে।’

জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ‘আবাসন মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। কিন্তু সরকার আবাসন খাত নিয়ে কোনো পলিসি নির্ধারণ করেনি। সরকার নিজেও নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য আবাসন করছে না। আবার প্রাইভেট সেক্টরে যারা আবাসন করছে তাদেরও ট্যাক্সসহ বিভিন্ন আইনের মধ্যে আটকে দিচ্ছে। সরকারের উচিত আবাসন খাতসংশ্লিষ্ট সব পণ্যের ওপর কর কমানো; যাতে সব মানুষই আবাসনের আওতায় আসতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার এবার নতুন করে রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ফ্লাটের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপ করেছে। এটা আবাসন খাতকে বিপর্যস্ত করবে। এটা সরকারের প্রয়োজন ছিল না। সরকারের উচিত ছিল নতুন কর না বসিয়ে রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো। তাহলে আবাসন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসত। কিন্তু সরকার তা না করে উল্টো বাধা তৈরি করছে। সুতরাং সরকারের উচিত আবাসন খাতে মনোযোগ দেওয়া।’ জানতে চাইলে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে আবাসন খাতের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু কাঁচামাল বা র-মেটেরিয়ালসের ওপর উচ্চ কর, মাত্রাতিরিক্ত নিবন্ধন ফি ও গেইন ট্যাক্সের কারণে এই সম্ভাবনাময় খাতটি এখন কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। এবারের বাজেটেও আবাসন খাতের জন্য তেমন কোনো ব্যবসাবান্ধব সিদ্ধান্ত দেখা যায়নি। এ খাত পুনরুজ্জীবিত করতে হলে মূলত তিনটি বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি। এজন্য র-মেটেরিয়ালসের ওপর কর সহনীয় পর্যায়ে আনা। ক্রেতাদের জন্য সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি লোনের ব্যবস্থা করা এবং ফ্ল্যাট বা প্লট নিবন্ধনের জটিল প্রক্রিয়া এবং অতিরিক্ত পেপারওয়ার্ক সহজ করা। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য আবাসন প্রক্রিয়া যত সহজ ও সাশ্রয়ী হবে, এ শিল্প তত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে।’

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এপেক্স সেরা কেবিন পরিষেবা পুরস্কার পেল সৌদিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপেক্স সেরা কেবিন পরিষেবা পুরস্কার পেল সৌদিয়া
সংগৃহীত ছবি

আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ‘এপেক্স পুরস্কার ২০২৬’ অনুষ্ঠানে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রেষ্ঠ কেবিন সেবা পুরস্কার অর্জন করেছে সৌদি আরবের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা ‘সৌদিয়া’। বিমান চলাচল শিল্পে উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ যাত্রী অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ভবিষ্যৎ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা (FTE) EMEA’-এর অংশ হিসেবে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের বাজারে সৌদিয়ার বিশ্বমানের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ও যাত্রীদের সৌদি আতিথেয়তা প্রদানের অঙ্গীকারকে আরো শক্তিশালী করল।

বাংলাদেশকে সৌদিয়ার অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক বাজার উল্লেখ করে বিমান সংস্থাটির প্রধান অতিথি অভিজ্ঞতা কর্মকর্তা রোসেন দিমিত্রভ বলেন, ‘এই পুরস্কারটি আমাদের কেবিন ক্রুদের পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা এবং সূক্ষ্ম মনোযোগেরই ফল। বৈশ্বিক নেটওয়ার্কজুড়ে সৌদি আতিথেয়তাকে তুলে ধরতে আমরা যাত্রী অভিজ্ঞতায় বিনিয়োগ অব্যাহত রাখছি।’

এই অর্জন সৌদিয়ার বৃহত্তর যাত্রীসেবা রূপান্তর কর্মসূচির অংশ। এর আওতায় তারা ‘নিউ সৌদিয়া এক্সপেরিয়েন্স’ এবং ফ্রন্টলাইন কর্মীদের জন্য ‘সৌদিয়া বিয়ন্ড’ নামের সেবা উৎকর্ষতা কর্মসূচি চালু করেছে। যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে সৌদিয়া মূলত ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’ এবং দেশটির বিমান ও পর্যটন খাতের লক্ষ্য অর্জনে অবদান রেখে চলেছে।

১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সৌদিয়া বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ এয়ারলাইন। বর্তমানে তাদের বহরে ১৪৯টি আধুনিক বিমান রয়েছে, যা দিয়ে সংস্থাটি চারটি মহাদেশের প্রায় ১০০টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

একের পর এক কারখানা বন্ধে হাজারো শ্রমিক বেকার, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

অনলাইন ডেস্ক
একের পর এক কারখানা বন্ধে হাজারো শ্রমিক বেকার, বাড়ছে অনিশ্চয়তা
সংগৃহীত ছবি

দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে সংকট এখনো কাটেনি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও খাতটিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি। বরং একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। 

সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুর ও সাভারসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কয়েকটি বড় কারখানা বন্ধ হয়ে কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আর্থিক সংকট, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, উচ্চ সুদের ঋণ, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং নীতি সহায়তার ঘাটতির কারণে অনেক কারখানা টিকে থাকার লড়াই করছে।

খাত-সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামী মাসগুলোতে আরো কারখানা বন্ধ হতে পারে এবং কর্মসংস্থানের ওপর এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ঈদের পর বাড়তে থাকে ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের ঘটনা

কোরবানির ঈদের পর থেকেই পোশাক শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাভারের আল-মুসলিম গ্রুপের তিনটি কারখানা থেকে প্রায় ১ হাজার ৮৬৮ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। ঈদের ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে এসে শ্রমিকরা জানতে পারেন, তাদের চাকরি আর নেই।

শ্রমিকদের অভিযোগ, যথাযথ পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে। অনেকেই বছরের পর বছর একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও হঠাৎ চাকরি হারিয়ে এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

অন্যদিকে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় অবস্থিত ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক ও কর্মচারী একসঙ্গে কর্মহীন হয়েছেন।

দুই প্রতিষ্ঠানের ঘটনাই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—পোশাক খাতের সংকট কি আরো গভীর হচ্ছে?

শ্রমিকদের জীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা

কারখানা বন্ধ বা ছাঁটাইয়ের সবচেয়ে বড় ধাক্কা পড়ছে শ্রমিকদের জীবনে। মাসিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার পরিবার হঠাৎ করেই জীবিকার সংকটে পড়েছে।

গাজীপুরের ইউনিক ডিজাইনার্সে কর্মরত বিল্লাল সোহাগের মতো অনেক শ্রমিক জানেন না— আগামী মাসে সংসার কীভাবে চলবে। সন্তানদের পড়াশোনা, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন।

সাভারের ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন কাজ করার পরও তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। কেউ কেউ বলছেন, অভিজ্ঞ শ্রমিকদের তুলনামূলক বেশি বেতন দিতে হয় বলে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যয় কমানোর কৌশল হিসেবে পুরোনো শ্রমিকদের বাদ দিয়ে নতুন শ্রমিক নিয়োগের পথ বেছে নিচ্ছে।

কেন বন্ধ হচ্ছে কারখানা?

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, পোশাক শিল্পের বর্তমান সংকটের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে।

প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশের প্রবৃদ্ধি আগের মতো নেই। ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের রপ্তানিতে।

দ্বিতীয়ত, উৎপাদন ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয়, ডলার সংকট এবং ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তৃতীয়ত, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ফলে শ্রম ব্যয়ও বেড়েছে। যদিও শ্রমিকদের জন্য এটি ইতিবাচক, তবে উৎপাদনশীলতা না বাড়লে অনেক দুর্বল কারখানা অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে পারছে না।

চতুর্থত, দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাংকঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে কার্যক্রম সংকুচিত করছে কিংবা পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে।

তিন বছরে বন্ধ প্রায় ৪০০ কারখানা

চলতি বছরের এপ্রিলে বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছিলেন, গত তিন বছরে দেশে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরো বহু কারখানা আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনেক কারখানা বর্তমানে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। ফলে স্থায়ী ব্যয়ের চাপ বেড়ে যাচ্ছে। উৎপাদন কমলেও ব্যাংকঋণের কিস্তি, বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল, ভাড়া এবং প্রশাসনিক ব্যয় বহন করতে হচ্ছে নিয়মিত। ফলে ছোট ও মাঝারি অনেক কারখানা টিকে থাকার লড়াইয়ে হেরে যাচ্ছে।

৬০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা এখন বাস্তবায়ন হয়নি

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল মনে করেন, আর্থিক সংকটই বর্তমানে কারখানা বন্ধ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ। তিনি বলেন, ‘রুগ্ন ও বন্ধপ্রায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার যে সহায়তা তহবিল ঘোষণা করেছে, তা এখনও বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে সংকটে থাকা কারখানাগুলো কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে না।’

তার মতে, যেসব কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, অথবা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, সেগুলোকে দ্রুত শনাক্ত করে বিশেষ সহায়তা দিতে হবে। অন্যথায় কর্মসংস্থান সংকট আরো প্রকট হতে পারে।

শ্রমিক নেতাদের ক্ষোভ

কারখানা বন্ধ ও ছাঁটাইয়ের ঘটনাগুলো নিয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। শ্রমিক নেতারা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সব সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। বিশেষ করে দীর্ঘদিন কর্মরত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও চাকরি-পরবর্তী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তাদের অভিযোগ, ব্যবসায়িক মন্দাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যয় কমানোর জন্য শ্রমিক ছাঁটাই করছে। ফলে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই খাতে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু শ্রমিক নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিও চাপের মুখে পড়বে।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কর্মসংস্থান ধরে রাখা এবং ঝুঁকিতে থাকা কারখানাগুলোকে টিকিয়ে রাখা। এজন্য দ্রুত আর্থিক সহায়তা, ব্যাংকঋণে বিশেষ সুবিধা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ প্রয়োজন।

অন্যথায় একের পর এক কারখানা বন্ধ হওয়ার ধারা অব্যাহত থাকলে বড় মূল্য দিতে হবে শ্রমিকদেরই। যারা বছরের পর বছর দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে কাজ করেছেন, তারাই আজ চাকরি হারিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন