• ই-পেপার

রংপুর

জুনের মাঝামাঝি বাজারে আসবে হাঁড়িভাঙ্গা

  • চলছে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি
  • আশানুরূপ বাণিজ্যের আশা

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর অভিযানে ইউপিডিএফের ৩ সদস্য আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর অভিযানে ইউপিডিএফের ৩ সদস্য আটক

পার্বত্য চট্টগ্রামের গুইমারা রিজিয়নের বুদংছড়া এলাকায় সেনাবাহিনীর অভিযানে ইউপিডিএফ (মূল) দলের পোস্ট কালেক্টর রনেল চাকমাসহ তিন সন্ত্রাসী আটক হয়েছেন।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে একটি একে-২২ রাইফেল, গুলি ও চাঁদাবাজির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় গোলাগুলিতে সাথোয়াই মারমা নামের এক সন্ত্রাসী আহত হন।

শনিবার দিবাগত রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বেলা আনুমানিক ১২টায় পার্বত্য চট্টগ্রামের গুইমারা রিজিয়নের বুদংছড়া এলাকায় অবস্থান নেয় সেনাবাহিনীর একটি আভিযানিক দল। এসময় দুটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী ঘটনাস্থল পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেনাসদস্যরা তাদের থামার নির্দেশ (চ্যালেঞ্জ) দেন। 

তবে সন্ত্রাসীরা সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে আকস্মিক গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে সেনাসদস্যরাও তাৎক্ষণিক পাল্টা গুলি চালান। এই গোলাগুলিতে পাহাড়ি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল) দলের সদস্য সাথোয়াই মারমা (৩২) ঘাড়ে গুলিবিদ্ধ হন।

পরে ঘটনাস্থল থেকে ইউপিডিএফ (মূল) দলের পোস্ট কালেক্টর রনেল চাকমাসহ (২৮) সার্চিং মারমা ওরফে রাজু (২২) নামের অপর দুজনকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং চাঁদাবাজির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

আইএসপিআর আরো জানায়, অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ম্যাগাজিনসহ ১টি একে-২২ রাইফেল, ৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১টি ব্যবহৃত (ফায়ারকৃত) কার্তুজ এবং চাঁদাবাজির আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

গোলাগুলিতে আহত ইউপিডিএফ সদস্য সাথোয়াই মারমাকে ঘটনার পরপরই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পুলিশি হেফাজতে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

চিকিৎসকদের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর এমন কঠোর ও নিয়মতান্ত্রিক অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

‘জয় বাংলা স্লোগান’ লেখার জের

মবের শিকার ভাগ্নেকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ গেল খালার

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
মবের শিকার ভাগ্নেকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ গেল খালার

কক্সবাজারের উখিয়ায় ‘জয় বাংলা স্লোগান’ লেখার জের ধরে বিএনপি কর্মীদের সৃষ্ট মবের কবলে পড়ে ছাত্রলীগ কর্মী ভাগ্নে ইউনূস। এসময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে মবের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন তার খালা সৈয়দা খাতুন (৫০)। পুলিশ নিহত নারীকে ইউনূসের খালা বলে জানালেও উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরোওয়ার জাহান চৌধুরী জানিয়েছেন নিহত সৈয়দা খাতুন ইউনূসের প্রতিবেশী। মব সৃষ্টিকারীরা আহত স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মী ইউনূসকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার দিকে উখিয়া উপজেলার রাজা পালং ইউনিয়নের টাইপালং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে উখিয়ায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

আটক হওয়া ছাত্রলীগ কর্মী ইউনূস ও তার নিহত খালার স্বজনদের দাবি, তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে ইউনূসকে বিএনপি কর্মীরা মব সৃষ্টি করে মারধর করেছে। ইউনূসের কান্নাকাটি শুনে তার খালা সৈয়দা খাতুন ভাগ্নেকে মব সৃষ্টিকারী একই গ্রামের বিএনপি কর্মীদের নিকট ক্ষমা চেয়ে ছাড়িয়ে আনতে গেলে অতি উৎসাহী দলীয় কর্মীরা তাকে মারধর করে। এতে ওই নারী রাস্তায় ঢলে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘টাইপালং গ্রামে একজনকে স্থানীয়রা ধরে আটকে রাখার খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে স্থানীয়দের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও জটলা দেখতে পায় পুলিশ। এর আগে থেকেই সেখানে এরকম দলাদলির ঘটনা ঘটছিল।’

তিনি জানান, ইউনূসকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালেই পুলিশ ওই ঘটনায় আরেক আহত নারীকে দেখতে পান।

ঘটনার বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) অহিদুর রহমান রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি শুনেছি ঘটনাস্থলে উখিয়া থানা পুলিশ পৌঁছার আগেই বিএনপি কর্মীদের হাতে আটক ছাত্রলীগ কর্মী ইউনূসকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার খালা সম্ভবত মারধরের শিকার হয়েছেন। যেহেতু পাকা রাস্তায় ধাক্কাধাক্কি আর মারধরে বয়স্ক নারী রাস্তায় পড়ে গিয়েছিলেন, তাই মাথায় আঘাতের কারণে মারা যেতে পারেন।’ তিনি জানান, নিহত নারীর সুরতহাল করে এখন লাশ উখিয়া থানায় রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে আটক ছাত্রলীগ কর্মী ইউনূসকেও রাখা হয়েছে থানায়।

এ ব্যাপারে উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাস্তবে এত বড় কোনো ঘটনা নয়। বিষয়টি আমি দেখছি। তবে স্থানীয় টাইপালং মাদরাসার দেওয়ালে জয় বাংলা স্লোগান লেখা থেকে গত বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগ কর্মী ইউনূসের ফেসবুক আইডিতে কিছু লেখালেখি নিয়ে গত দুই দিন ধরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। এমনকি ছাত্রলীগ কর্মীরা শুক্রবার রাতে আমার উপজেলা বিএনপি অফিসের কেয়ারটেকার হোসেনকে মারধর করে। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে।’   

পুলিশ বলেছে, এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বরশিতে ধরা পড়ল ১৫ কেজি ওজনের ডলফিন

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরশিতে ধরা পড়ল ১৫ কেজি ওজনের ডলফিন
ছবি: কালের কণ্ঠ

বরগুনার বেতাগী উপজেলার বিষখালী নদীতে একটি বড় আকৃতির ধূষর বর্ণের ডলফিন বরশিতে ধরা পড়ার ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যার পরে বেতাগী ফেরিঘাট সংলগ্ন বিষখালী নদীতে স্থানীয় এক জেলের বরশিতে প্রায় ১৫ কেজি ওজনের ডলফিনটি ধরা পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো কয়েকজন জেলে বিষখালী নদীতে মাছ ধরতে যান। এসময় নদীর মাঝামাঝি এলাকায় একটি বড় আকৃতির ডলফিন (শুশুক) বরশিতে আটকে যায়। পরে অনেক চেষ্টার পর সেটিকে নদী থেকে তীরে তুলে আনলে দেখা যায় সেটি একটি ডলফিন। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ ডলফিনটি দেখতে ভিড় জমায়।

জেলে জলিল মৃধা বলেন, ‘ডলফিনটি বরশিতে আটকে যাওয়ার পর অনেকক্ষণ পানিতে ছটফট করছিল। পরে সেটি দুর্বল হয়ে পড়লে তীরে আনা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, খাবারের সন্ধানে নদীর তীরবর্তী এলাকায় আসার সময় অসাবধানতাবশত ডলফিনটি বরশিতে আটকে যায়।

নারায়ণগঞ্জে সাবেক যুবদল নেতার ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে সাবেক যুবদল নেতার ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা
ছবি : কালের কণ্ঠ

‘সবার আগে বাংলাদেশ, হৃদয়ে নারায়ণগঞ্জ’ স্লোগানকে সামনে রেখে সাবেক যুবদল নেতা মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ শহরে বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এ সেবা আপাতত শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা গ্রহণ করতে পারবেন।

উদ্যোক্তারা জানান, এই অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে রোগীদের খানপুর হাসপাতাল, ভিক্টোরিয়া হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে নেওয়া হবে। এছাড়া বাসা বা হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আনা-নেয়া এবং মৃতদেহ বাসা থেকে কবরস্থান বা শ্মশানে পৌঁছে দেওয়ার কাজও বিনামূল্যে করা হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, ‘রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণ করা। অসুস্থ ও অসহায় মানুষ যেন দ্রুত চিকিৎসাসেবা পায় এবং জরুরি মুহূর্তে পরিবহন সংকটে না পড়ে, সে চিন্তা থেকেই আমাদের এই ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা হয়েছে। জনগণ উপকৃত হলে পর্যায়ক্রমে বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লাতেও আলাদা অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাই মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়াতে। ভবিষ্যতে এই সেবা ঢাকা পর্যন্ত বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। খুব দ্রুত আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে, তবে এখন থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে সাধারণ মানুষ এই সেবা নিতে পারবেন।’

প্রসঙ্গত, সেবা নিতে ০১৭০৬৮৩৩০৯৪ এবং ০১৩৫৭০৭৭৮১২ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।