কক্সবাজারের উখিয়ায় ‘জয় বাংলা স্লোগান’ লেখার জের ধরে বিএনপি কর্মীদের সৃষ্ট মবের কবলে পড়ে ছাত্রলীগ কর্মী ভাগ্নে ইউনূস। এসময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে মবের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন তার খালা সৈয়দা খাতুন (৫০)। পুলিশ নিহত নারীকে ইউনূসের খালা বলে জানালেও উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরোওয়ার জাহান চৌধুরী জানিয়েছেন নিহত সৈয়দা খাতুন ইউনূসের প্রতিবেশী। মব সৃষ্টিকারীরা আহত স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মী ইউনূসকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার দিকে উখিয়া উপজেলার রাজা পালং ইউনিয়নের টাইপালং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে উখিয়ায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আটক হওয়া ছাত্রলীগ কর্মী ইউনূস ও তার নিহত খালার স্বজনদের দাবি, তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে ইউনূসকে বিএনপি কর্মীরা মব সৃষ্টি করে মারধর করেছে। ইউনূসের কান্নাকাটি শুনে তার খালা সৈয়দা খাতুন ভাগ্নেকে মব সৃষ্টিকারী একই গ্রামের বিএনপি কর্মীদের নিকট ক্ষমা চেয়ে ছাড়িয়ে আনতে গেলে অতি উৎসাহী দলীয় কর্মীরা তাকে মারধর করে। এতে ওই নারী রাস্তায় ঢলে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘টাইপালং গ্রামে একজনকে স্থানীয়রা ধরে আটকে রাখার খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে স্থানীয়দের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও জটলা দেখতে পায় পুলিশ। এর আগে থেকেই সেখানে এরকম দলাদলির ঘটনা ঘটছিল।’
তিনি জানান, ইউনূসকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালেই পুলিশ ওই ঘটনায় আরেক আহত নারীকে দেখতে পান।
ঘটনার বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) অহিদুর রহমান রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি শুনেছি ঘটনাস্থলে উখিয়া থানা পুলিশ পৌঁছার আগেই বিএনপি কর্মীদের হাতে আটক ছাত্রলীগ কর্মী ইউনূসকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার খালা সম্ভবত মারধরের শিকার হয়েছেন। যেহেতু পাকা রাস্তায় ধাক্কাধাক্কি আর মারধরে বয়স্ক নারী রাস্তায় পড়ে গিয়েছিলেন, তাই মাথায় আঘাতের কারণে মারা যেতে পারেন।’ তিনি জানান, নিহত নারীর সুরতহাল করে এখন লাশ উখিয়া থানায় রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে আটক ছাত্রলীগ কর্মী ইউনূসকেও রাখা হয়েছে থানায়।
এ ব্যাপারে উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাস্তবে এত বড় কোনো ঘটনা নয়। বিষয়টি আমি দেখছি। তবে স্থানীয় টাইপালং মাদরাসার দেওয়ালে জয় বাংলা স্লোগান লেখা থেকে গত বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগ কর্মী ইউনূসের ফেসবুক আইডিতে কিছু লেখালেখি নিয়ে গত দুই দিন ধরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। এমনকি ছাত্রলীগ কর্মীরা শুক্রবার রাতে আমার উপজেলা বিএনপি অফিসের কেয়ারটেকার হোসেনকে মারধর করে। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে।’
পুলিশ বলেছে, এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




