• ই-পেপার

মিরসরাইয়ে ৮২ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১

এবার কোরবানির ঈদের আকর্ষণ দিনাজপুরের ‘সম্রাট’

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
এবার কোরবানির ঈদের আকর্ষণ দিনাজপুরের ‘সম্রাট’
ছবি: কালের কণ্ঠ

‘সম্রাট’ নামে ডাক দিলে ষাঁড়টি সাড়া দেয়, এমনকি ঘুরে তাকায়ও। শান্ত স্বভাবের শাহিওয়াল-ফ্রিজিয়ান ক্রস জাতের প্রায় ৩০ মণ ওজনের ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘সম্রাট’। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইতোমধ্যে এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এটি। কোরবানির জন্য সুঠাম দেহের ষাঁড়টিকে প্রস্তুত করা হয়েছে।

বিক্রেতা সম্রাটের দাম নির্ধারণ করেছেন ১২ লাখ টাকা। ধূসর রঙের ষাঁড়টির শরীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট, উচ্চতা ৫ ফুট এবং ওজন প্রায় ৩০ মণ।

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের কয়লাখনি এলাকার মধ্যদুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক পেশায় একজন ব্যবসায়ী। শুধু সম্রাট নয়, তিনি আরো ১০টি উন্নত জাতের গরু লালন-পালন করছেন। ব্যবসার পাশাপাশি শখের বসেই গরু পালন করছেন তিনি। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সহায়তায় এসব গরুর দেখাশোনা করা হয়।

রাজ্জাকের ছোট ভাই মাহাবুবসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা জানান, সন্তানের মতো করেই সম্রাটকে লালন-পালন করা হচ্ছে। পরিবারের সবাই মিলে যত্ন নিয়ে তাকে বড় করেছেন। তারা বলেন, ‘সম্রাট’ নামে ডাক দিলে ষাঁড়টি সাড়া দেয় এবং ঘুরে তাকায়। প্রাণীটির প্রতি পরিবারের সদস্যদের গভীর মায়া তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, সম্রাটকে দেখতে ইতোমধ্যে ভিড় করছেন ক্রেতা ও সাধারণ মানুষ। দেশীয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বাড়িতেই ষাঁড়টিকে লালন-পালন করা হয়েছে।

প্রায় দুই বছর আগে রাজ্জাকের খামারে একটি শাহিওয়াল জাতের গাভীর ঘরে সম্রাটের জন্ম হয়। ভালোবাসা থেকেই ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘দিনাজপুরের সম্রাট’।

বিশাল আকৃতির হওয়ায় হাটে আনা-নেওয়া করা কষ্টকর। তাই বাড়ি থেকেই সম্রাটকে বিক্রি করতে চান রাজ্জাক।

তিনি জানান, জন্মের পর থেকে সম্রাটকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার—খড়, ঘাস, ছোলা, মসুর ডাল, ভুষি, ভুট্টার আটা, চোপড়, খুদের ভাত, খৈল, ধানের গুঁড়া ও চিটাগুড় খাওয়ানো হচ্ছে। মাঝে মধ্যে কাঁচাকলা, গাজর, আপেল, কাঁঠাল, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলও দেওয়া হয়। এতে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা খরচ হয়।

সম্রাটের থাকার জায়গায় ২৪ ঘণ্টা ফ্যান চালু রাখা হয়। বিদ্যুৎ না থাকলে হাতপাখা দিয়েও বাতাস করা হয়। প্রতিদিন তিন থেকে চারবার গোসল করানো হয় তাকে।

রাজ্জাক বলেন, নিজের সন্তানের মতো যত্নে গরুটিকে বড় করেছি। সম্রাটকে ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চাই।

আরো পড়ুন

সিরাজগঞ্জে অটোরিকশার ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু

সিরাজগঞ্জে অটোরিকশার ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু

 

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৬টি গরু, ২৪৮টি মহিষ, ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৯০টি ছাগল, ১৩ হাজার ৭২৯টি ভেড়া এবং ১১টি দুম্বা। জেলার ৬২ হাজার ৪০৮ জন খামারি ও বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরা এসব পশু লালন-পালন করছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম বলেন, জেলায় চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। খামারিদের সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালনে উৎসাহিত করা হয়েছে।

পিরোজপুর

জমতে শুরু করেছে দীঘিরজান বাজার

এবার ছোট গরুর চাহিদা বেশি দাম ৪০ হাজার থেকে ২ লাখ

পিরোজপুর প্রতিনিধি
জমতে শুরু করেছে দীঘিরজান বাজার

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পিরোজপুরে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। জেলার বিভিন্ন হাটে এখন বাড়ছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভিড়।

জেলার নাজিরপুর উপজেলার দীঘিরজান বাজারে সকাল থেকেই দেখা মিলছে গরু ও ছাগল নিয়ে আসা খামারি ও ব্যবসায়ীদের। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাট হয়ে উঠছে মুখর।

হাট ঘুরে দেখা গেছে, এখনো পুরোপুরি কেনাবেচা শুরু না হলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। অনেকে পরিবার নিয়ে হাটে এসে পশু দেখে দরদাম যাচাই করছেন। বিক্রেতারাও পশু সাজিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

দীঘিরজান বাজারে এবার বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। হাটে বর্তমানে ৪০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত দামের গরু উঠছে। এছাড়া ছাগলের দাম আকার ও জাতভেদে ১০ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। 

গরুর হাটে আসা ক্রেতা নাজিরপুরের কৃষক মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘এখনই কিনছি না। কয়েকটা হাট দেখে দাম যাচাই করছি। তবে এবার ছোট গরুর দাম তুলনামূলক একটু বেশি মনে হচ্ছে।’

দীঘিরজান বাজারের গরু বিক্রেতা মো. জয়নাল মিয়া বলেন, এবার গরুর খাবারের দাম বেড়েছে। খামার মালিকরা তাই গরুর দামও কিছুটা বেশি দাবি করছে। তবে ভারতীয় গরু কম এলে আমরা ভালো দাম পাব।

হাটে আসা কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী জানান, কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বাড়বে বেচাকেনা। ক্রেতারা শেষ সময়ের আগে ভালো পশু কিনতে চান। তাই তারা এখন হাট ঘুরে যাচাই করছেন। অন্যদিকে বিক্রেতাদের আশা, এবার স্থানীয় খামারিদের পশুর চাহিদা ভালো থাকবে। 

পিরোজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরুন কুমার সিকদার বলেন, এ বছর জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ২৪টি পশুর হাট বসবে। এসব হাট ঘিরে ইতোমধ্যে জেলার খামারিদের মধ্যেও উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, কোরবানির গরুর হাট নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করেতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে। সেই সঙ্গে হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

হেফাজত আমিরের সঙ্গে মামুনুল হকের বৈঠক

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
হেফাজত আমিরের সঙ্গে মামুনুল হকের বৈঠক
ছবি : কালের কণ্ঠ

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে দূরত্ব ও ভুল-বোঝাবুঝির অবসানে বৈঠক করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক।

রবিবার (১৭ মে) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িস্থ জামিয়া বাবুনগর মাদরাসায় আমিরের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে মামুনুল হকের দল অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন হেফাজত আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। ইতোপূর্বে সংগঠনের একাধিক নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে তিনি জামায়াতের সঙ্গে এই জোটের বিষয়ে প্রকাশ্যে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি জামায়াতের সঙ্গে জোটভুক্ত হওয়া হেফাজতের সঙ্গে থাকা দলগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সম্প্রতি একটি উপকমিটিও গঠন করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে আমিরের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে বৈঠকে মিলিত হন মামুনুল হক।

আরো পড়ুন
ভোটের আগে সবাই মাজারে যায়, হামলা হলে কেউ আসে না

ভোটের আগে সবাই মাজারে যায়, হামলা হলে কেউ আসে না

 

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মামুনুল বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামে কোনো প্লাস-মাইনাস নেই, এসব কথা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র। আকিদার প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটের ব্যাখ্যা দিয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘খেলাফত মজলিস একটি রাজনৈতিক দল, আর হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক আকিদাভিত্তিক সংগঠন। রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে আমরা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ১১ দলীয় জোট করেছি। সেটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ঐকমত্য। কিন্তু আকিদার জায়গায় হেফাজত এক ও অভিন্ন। এখানে কোনো আপস নেই।’

হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীও সংগঠনের অভ্যন্তরে বিভেদের গুঞ্জন নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ‘হেফাজতে কোনো বিভেদ নেই। ইসলাম রক্ষার প্রশ্নে আমরা সবাই এক এবং ঐক্যবদ্ধ আছি।’

বৈঠকে নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক, আল্লামা শাহ সালাউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসীম উদ্দিন, আল্লামা আইয়ুব বাবুনগরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আল্লামা বশিরুল্লাহ, মাওলানা আতা উল্লাহসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শরীয়তপুরে চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরে চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সেই সঙ্গে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। 

রবিবার (১৭ মে) সকালে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের সামনে ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হবে। চিকিৎসকদের ওপর হামলার মতো ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

আরো পড়ুন
নেত্রকোনায় প্রতিপক্ষের হামলায় কৃষক নিহত, আটক ১

নেত্রকোনায় প্রতিপক্ষের হামলায় কৃষক নিহত, আটক ১

 

চিকিৎসকরা বলেন, হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি চিকিৎসকরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাই হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে তারা টানা কর্মসূচিতে যাবেন বলে জানান।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামের ওপর হামলা চালায় রোগীর স্বজনরা। হামলায় গুরুতর আহত ওই চিকিৎসক বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন।

মিরসরাইয়ে ৮২ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ | কালের কণ্ঠ