তলায় ফাটল। পলেস্তরা খসে বেরিয়ে গেছে রড। মাঝখানে বড় গর্ত। অ্যাঙ্গেলগুলোয় ধরেছে মরিচা। নড়বড়ে অবস্থা। যে কোনো মুহূর্তে পড়তে পারে ধসে।
এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বগুড়ার ধুনট-সারিয়াকান্দি পাকা সড়কের চুনিয়াপাড়া গ্রামের চৌধুরীপাড়া এলাকায় মানস নদীর ওপরের সেতুটির। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সেতুটি ব্যবহার করতে হচ্ছে দুই উপজেলার অন্তত ৫০ গ্রামের মানুষকে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৪০ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। উপজেলার গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের চুনিয়াপাড়া অকলেস মোড় থেকে সারিয়াকান্দি-কড়িতলা এলাকায় যাতায়াতের পথে মানস নদীর ওপর সেতুটির অবস্থান। প্রতিদিন দুই উপজেলার ৫০ গ্রামের মানুষকে যাতায়াতে সেতুটি ব্যবহার করতে হয়। বিশেষ করে দুই উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙনপ্রবণ জনপদের মানুষের জন্য সেতুটি ভীষণ গুরত্বপূর্ণ।
স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি সংস্কার না করায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এক সপ্তাহ আগে সেতুর মাঝখানে ভেঙে পড়লে সেখানে বড় ছিদ্র সৃষ্টি হয়। এতে ভেতরের রড বেরিয়ে পড়ে। এছাড়া সেতুর তলায় বেশ কয়েক জায়গায় বড় বড় ফাটল ধরেছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় থাকেন।
স্থানীয়রা আরো জানায়, সবচেয়ে বিপদে পড়তে হয় অসুস্থ রোগীকে নিয়ে সেতু পার হওয়ার সময়। অথচ এখনও এটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে পথচারীরা। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে বা ধসে পড়ে প্রাণহানি ঘটাতে তপারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
স্থানীয় সংবাদকর্মী গোলাম রব্বানী বলেন, এই সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ গর্তের কারণে গাড়ি নিয়ে যাতায়ত করা যায় না। রাতের অন্ধকারে সেতু পার হওয়ার সময় পথচারীদের মধ্যে শঙ্কা কাজ করে।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, প্রতিদিনই তারা ভয় ও আতঙ্ক নিয়ে এই সেতু দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে। দ্রুত নতুন একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানায় তারা।
স্থানীয় অটোরিকশা চালক আব্দুল রাজ্জাক জানান, কয়েক দিন আগে রাতে সেতু পার হওয়ার সময় চাকা গর্তে পড়ে রিকশা উল্টে যায়। এতে তার এক পায়ে বড়ু ধরনের আঘাত পান তিনি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অদিদপ্তরের ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী বখতিয়ার হোসেন বলেন, ‘সেতুটির আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’




