‘সম্রাট’ নামে ডাক দিলে ষাঁড়টি সাড়া দেয়, এমনকি ঘুরে তাকায়ও। শান্ত স্বভাবের শাহিওয়াল-ফ্রিজিয়ান ক্রস জাতের প্রায় ৩০ মণ ওজনের ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘সম্রাট’। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইতোমধ্যে এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এটি। কোরবানির জন্য সুঠাম দেহের ষাঁড়টিকে প্রস্তুত করা হয়েছে।
বিক্রেতা সম্রাটের দাম নির্ধারণ করেছেন ১২ লাখ টাকা। ধূসর রঙের ষাঁড়টির শরীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট, উচ্চতা ৫ ফুট এবং ওজন প্রায় ৩০ মণ।
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের কয়লাখনি এলাকার মধ্যদুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক পেশায় একজন ব্যবসায়ী। শুধু সম্রাট নয়, তিনি আরো ১০টি উন্নত জাতের গরু লালন-পালন করছেন। ব্যবসার পাশাপাশি শখের বশেই গরু পালন করছেন তিনি। পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তায় এসব গরুর দেখাশোনা করা হয়।
রাজ্জাকের ছোট ভাই মাহাবুবসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা জানান, সন্তানের মতো করেই সম্রাটকে লালন-পালন করা হচ্ছে। পরিবারের সবাই মিলে যত্ন নিয়ে তাকে বড় করেছেন। তারা বলেন, ‘সম্রাট’ নামে ডাক দিলে ষাঁড়টি সাড়া দেয় এবং ঘুরে তাকায়। প্রাণীটির প্রতি পরিবারের সদস্যদের গভীর মায়া তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, সম্রাটকে দেখতে ইতোমধ্যে ভিড় করছেন ক্রেতা ও সাধারণ মানুষ। দেশীয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বাড়িতেই ষাঁড়টিকে লালন-পালন করা হয়েছে।
প্রায় দুই বছর আগে রাজ্জাকের খামারে একটি শাহিওয়াল জাতের গাভীর ঘরে সম্রাটের জন্ম হয়। ভালোবাসা থেকেই ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘দিনাজপুরের সম্রাট’।
বিশাল আকৃতির হওয়ায় হাটে আনা-নেওয়া করা কষ্টকর। তাই বাড়ি থেকেই সম্রাটকে বিক্রি করতে চান রাজ্জাক।
তিনি জানান, জন্মের পর থেকে সম্রাটকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার—খড়, ঘাস, ছোলা, মসুর ডাল, ভুষি, ভুট্টার আটা, চোপড়, খুদের ভাত, খৈল, ধানের গুঁড়া ও চিটাগুড় খাওয়ানো হচ্ছে। মাঝে মধ্যে কাঁচাকলা, গাজর, আপেল, কাঁঠাল, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলও দেওয়া হয়। এতে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা খরচ হয়।
সম্রাটের থাকার জায়গায় ২৪ ঘণ্টা ফ্যান চালু রাখা হয়। বিদ্যুৎ না থাকলে হাতপাখা দিয়েও বাতাস করা হয়। প্রতিদিন তিন থেকে চারবার গোসল করানো হয় তাকে।
রাজ্জাক বলেন, নিজের সন্তানের মতো যত্নে গরুটিকে বড় করেছি। সম্রাটকে ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চাই।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৬টি গরু, ২৪৮টি মহিষ, ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৯০টি ছাগল, ১৩ হাজার ৭২৯টি ভেড়া এবং ১১টি দুম্বা। জেলার ৬২ হাজার ৪০৮ জন খামারি ও বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরা এসব পশু লালন-পালন করছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম বলেন, জেলায় চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। খামারিদের সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালনে উৎসাহিত করা হয়েছে।







