টিউশনিতে যাওয়ার পথে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক অটোচালকের বিরুদ্ধে। আহত শিক্ষার্থী রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। অন্যদিকে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ করেন।
শনিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নগরীর ভদ্রা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
আহত শিক্ষার্থীর নাম শাকিল দেওয়ান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। অন্যদিকে অভিযুক্ত অটোচালকের নাম আশিকুল ইসলাম (৪৩)। তিনি কাটাখালী থানার কাপাসিয়া এলাকার আজিজুল সরকারের ছেলে এবং বর্তমানে বোয়ালিয়া থানাধীন হেতেমখাঁ কলাবাগান এলাকায় বসবাস করেন।
এ দিকে অভিযুক্তকে আজ রবিবার আদালতে পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করেছে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘গতকাল বাকবিতণ্ডার জেরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ পেয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী একটি মামলার আবেদন করেন। আমরা সেটি গ্রহণ করেছি। গতকাল রাত থেকেই অটোচালক আমাদের হেফাজতে আছে। আজই তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে শাকিল তার হল থেকে সাইকেলযোগে বোয়ালিয়া থানাধীন জাদুঘর মোড়ের উদ্দেশে টিউশনির জন্য রওনা হন। রাত ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে তিনি ভদ্রা মোড়ের সামনে পৌঁছলে পেছন থেকে এক অটোচালক আকস্মিক ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন ‘এত আস্তে কেউ সাইকেল চালায়?’ শাকিল প্রথমে কোনো উত্তর না দিলেও উক্ত চালক তাকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। গালিগালাজের কারণ জানতে চাইলে চালক প্রথমে শাকিলকে ধাক্কা দিয়ে সাধারণ জখম করেন এবং মুহূর্তের মধ্যে তার অটোরিকশা থেকে একটি লোহার রড বের করে শাকিলকে হত্যার উদ্দেশে মাথায় সজোরে আঘাত করেন। লোহার রডের আঘাতে শাকিলের মাথা ফেটে গুরুতর জখম হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শাকিল বলেন, ‘আমি সাইকেল নিয়ে টিউশনিতে যাচ্ছিলাম। ভদ্রা মোড়ে পৌঁছলে এক অটোচালক পেছন থেকে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে ‘এত আস্তে কেউ সাইকেল চালায়?’ একই সঙ্গে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আমি এই আচরণের প্রতিবাদ জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার রড দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করেন।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই শিক্ষার্থীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করি। পাশাপাশি অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক যেন পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য বোয়ালিয়া থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই রাস্তায় শিক্ষার্থীরা প্রায়ই হেনস্তা ও ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছে। তাই তাদের নিরাপদ চলাচল ও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে আমরা আজই পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিচ্ছি এবং মাননীয় উপাচার্যের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’






