• ই-পেপার

বাগেরহাটে নজর কাড়ছে এক খামারের ‘অভিন্ন’ ১০ গরু

মেহেরপুরে আইফোনসহ জুয়াড়ি গ্রেপ্তার

মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরে আইফোনসহ জুয়াড়ি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

মেহেরপুরে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ ই-ট্রানজেকশন চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্সসহ এক জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, আগে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত সুয়াইব আহম্মেদ সৌমিক মেহেরপুর সদরের চাঁদবিল ঈদগাহপাড়া বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ডিবির একটি দল মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিল এলাকার কোলার মোড়ে অভিযান চালায়। এ সময় আসলাম অটোস নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে সৌমিককে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। 

এর আগে গত শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর ও গাংনী উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বায়েজিদ ডালিমসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ওই ঘটনায় মেহেরপুর সদর ও গাংনী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

ডিবি পুলিশের দাবি, ওই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার বিকেলে চাঁদবিল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সৌমিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মেহেরপুরে বোমাসদৃশ বস্তুসহ চিরকুট উদ্ধার

মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরে বোমাসদৃশ বস্তুসহ চিরকুট উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া গ্রামে একটি মুদি দোকানের সামনে থেকে লাল টেপ দিয়ে মোড়ানো দুটি বোমাসদৃশ বস্তু ও দুটি চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার জোড়পুকুরিয়া গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী বাবুল হোসেনের দোকানের সামনে থেকে বস্তু দুটি ও চিরকুট উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো রবিবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যান বাবুল হোসেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা দোকানের সামনে লাল টেপে মোড়ানো বোমাসদৃশ বস্তু দুটি এবং হাতে লেখা হুমকিমূলক চিরকুট রেখে যায়। সকালে স্থানীয়রা দোকানের সামনে সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পেয়ে বাবুল হোসেনকে খবর দেন। পরে বিষয়টি গাংনী থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তু দুটি ও চিরকুট উদ্ধার করে। নিরাপত্তার স্বার্থে উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো পানিভর্তি বালতিতে রেখে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।

জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া চিরকুটে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানসহ হুমকিমূলক বার্তা এবং কয়েকজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হলেও চিরকুটের ভাষা ও উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমাসদৃশ বস্তু ও চিরকুট উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।

জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে উত্তেজনা, সভা-সমাবেশে সিএমপির নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে উত্তেজনা, সভা-সমাবেশে সিএমপির নিষেধাজ্ঞা
ছবি: কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম নগরের শহীদ ওয়াসিম আকরাম ফ্লাইওভারের পিলারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে আঁকা গ্রাফিতি মুছে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নগরের জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও মিটিং নিষিদ্ধ করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।

সোমবার (১৮ মে) সকালে জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ৩০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ আদেশ জারি করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। আদেশে বলা হয়, ১৮ মে থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

সিএমপির আদেশে বলা হয়েছে, শান্তি-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট ওই এলাকায় কোনো ধরনের জনসমাবেশ, মিছিল বা মিটিং করা যাবে না। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, নগরের টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় এলাকায় ফ্লাইওভারের পিলারে আঁকা গ্রাফিতি মুছে বিজ্ঞাপনের জন্য ভাড়া দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে এনসিপি মিছিল সমাবেশ করে। জবাবে বিএনপির নেতাকর্মীরাও মিছিল সমাবেশ করেন। দুইপক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

আরো পড়ুন

ঈদে পশু পরিবহনে নতুন নির্দেশনা

ঈদে পশু পরিবহনে নতুন নির্দেশনা

 

সোমবার সকালে এনসিপির নেতাকর্মীরা পুনরায় পিলারে গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দাবি করেন, গ্রাফিতির ওপর পোস্টার লাগানোর কারণে সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ায় দেয়ালটি পুনরায় রং করা হয়েছে। শিগগিরই সেখানে আবার গ্রাফিতি আঁকা হবে বলেও তিনি জানান।

কেন্দুয়া

বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণচেষ্টা, পাটক্ষেতে মিলল শিশু

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণচেষ্টা, পাটক্ষেতে মিলল শিশু
প্রতীকী ছবি

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে এক মাস সাত দিন বয়সি বাচ্চাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে এক বাচ্চার মাকে জোরপূর্বক পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা শিশুকে পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়। 

রবিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের তাম্বুলীপাড়া গ্রামের পার্শ্বে কৈজানী নদীর পাড়ে পাটক্ষেতে এ ঘটনা ঘটে।

সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কেন্দুয়া থানার ওসি মেহেদী মাকসুদ। 

অভিযুক্ত আব্দুর রউফ (৫০) পার্শ্ববর্তী মদন উপজেলার চন্দ্রতলা গ্রামের মৃত আমির উদ্দিন ভূইয়ার ছেলে। ভুক্তভোগী আনোয়ারা (২৪) মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের নায়েকপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে মদন থেকে কেন্দুয়া হয়ে সিরাজগঞ্জ যাওয়ার পথে কৈজানি ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছান। সাথে ছিল এক মাস সাত দিন বয়সের তার বাচ্চা। এ সময় স্থানীয় (মদন, চন্দ্রতলা) দোকানদার আব্দুর রউফ তাকে এত রাতে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলেন। ওই নারী সহজসরলভাবে তাকে বিশ্বাস করেন। পরে বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে রউফ মিয়া তাকে হাওরের মধ্যবর্তী অন্ধকার এলাকায় নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।
এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী নারী ধস্তাধস্তি করে নিজের সন্তানকে পাটক্ষেতে রেখেই কোনোমতে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী চিরাং ইউনিয়নের সাজিউড়া বাজারে গিয়ে চিৎকার করেন। মহিলার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে ওই নারীর কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন। তারপর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর শিশুটিকে পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার করেন। এর মধ্যে কেন্দুয়া থানার ওসি মেহেদী মাকসুদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে চলে আসে। পরে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী মাকসুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগী নারী ও তার সন্তানকে চিকিৎসার জন্য কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এক গৃহবধূ ও এক মাস সাত দিন বয়সের এক শিশুকে গতকাল রবিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে তাদের দুজনকেই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী মাকসুদ বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা উপজেলার কৈজানি নদীর তীরে পাটক্ষেত এক গৃহবধূ ও এক শিশুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এদিকে আসামি আব্দুর রউফকে গত রাতেই তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে মদন থানা পুলিশ। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি। 

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানান স্থানীয়রা।