নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে এক মাস সাত দিন বয়সি বাচ্চাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে এক বাচ্চার মাকে জোরপূর্বক পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা শিশুকে পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়।
রবিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের তাম্বুলীপাড়া গ্রামের পার্শ্বে কৈজানী নদীর পাড়ে পাটক্ষেতে এ ঘটনা ঘটে।
সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কেন্দুয়া থানার ওসি মেহেদী মাকসুদ।
অভিযুক্ত আব্দুর রউফ (৫০) পার্শ্ববর্তী মদন উপজেলার চন্দ্রতলা গ্রামের মৃত আমির উদ্দিন ভূইয়ার ছেলে। ভুক্তভোগী আনোয়ারা (২৪) মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের নায়েকপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে মদন থেকে কেন্দুয়া হয়ে সিরাজগঞ্জ যাওয়ার পথে কৈজানি ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছান। সাথে ছিল এক মাস সাত দিন বয়সের তার বাচ্চা। এ সময় স্থানীয় (মদন, চন্দ্রতলা) দোকানদার আব্দুর রউফ তাকে এত রাতে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলেন। ওই নারী সহজসরলভাবে তাকে বিশ্বাস করেন। পরে বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে রউফ মিয়া তাকে হাওরের মধ্যবর্তী অন্ধকার এলাকায় নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।
এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী নারী ধস্তাধস্তি করে নিজের সন্তানকে পাটক্ষেতে রেখেই কোনোমতে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী চিরাং ইউনিয়নের সাজিউড়া বাজারে গিয়ে চিৎকার করেন। মহিলার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে ওই নারীর কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন। তারপর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর শিশুটিকে পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার করেন। এর মধ্যে কেন্দুয়া থানার ওসি মেহেদী মাকসুদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে চলে আসে। পরে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী মাকসুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগী নারী ও তার সন্তানকে চিকিৎসার জন্য কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এক গৃহবধূ ও এক মাস সাত দিন বয়সের এক শিশুকে গতকাল রবিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে তাদের দুজনকেই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী মাকসুদ বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা উপজেলার কৈজানি নদীর তীরে পাটক্ষেত এক গৃহবধূ ও এক শিশুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এদিকে আসামি আব্দুর রউফকে গত রাতেই তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে মদন থানা পুলিশ। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানান স্থানীয়রা।