মা ইলিশ রক্ষায় ভোলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও ইলিশা নদীতে গত মার্চ ও এপ্রিল মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা শেষে দুই সপ্তাহের বেশি পার হয়েছে। এখনও ইলিশ না পেয়ে শূন্য হাতে ফিরছেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার জেলেরা।
দুই উপজেলার মাছঘাটগুলো এখন একেবারেই ফাঁকা। শুনসান নীরবতা দেখা গেছে ঘাটগুলোতে। এ অঞ্চলের ৩৪ হাজারের বেশি জেলে সম্প্রদায় মাছের জন্য অপেক্ষমান।
মাছের আড়তদার ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই মাস নিষেধাজ্ঞা শেষে গত ১ মে মধ্যরাত থেকে নদীতে মাছ ধরার জন্য প্রস্তুতি নেন তারা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে জেলেরা তখন সেভাবে মাছ শিকারে নামতে পারেননি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জেলেরা নৌকা ও ট্রলার নিয়ে নদীতে নামেন। তবে রাত-দিন জাল ফেলেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাদের।
রবিবার (১৭ মে) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মেঘনা নদীর রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার মাছঘাট, আসলপাড়া ঘাট, টাংকিরঘাট, ব্রিজঘাট, ওছখালী, গাবতলীর ঘাট, ওয়াপদা বাজার ঘাট ও কমলনগর উপজেলার লুধুয়াঘাট, মাতাব্বরহাট ঘাট, সাহেবেরহাট, চরকালকিনি, নাছিরগঞ্জ, নবীগঞ্জ ও মতিরহাট মাছঘাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
এসব ঘাটের জেলেরা জানান, ইলিশ ধরার জন্য মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে জাল ফেলেও কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। আগের মতো নদীতে মাছ নেই। আগে ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য মাছও পর্যাপ্ত পাওয়া যেত। এবার মাছ নেই বললেই চলে। এতে জেলে পল্লীগুলোতে হাহাকার দেখা দিয়েছে।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, কমলনগরে ১৪ হাজার ৯৮ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। আর রামগতিতে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২০ হাজার ৩৬০। দুই উপজেলায় মোট ৩৪ হাজার ৪৫৮ জন জেলে রয়েছেন।
মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার ১৮ দিন পার হলেও মেঘনা নদীতে দিন-রাত জাল ফেলেও কাঙ্খিত মাছ না পাওয়ায় জেলে পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে আর্থিক সংকট। একদিকে জেলেদের আয় নেই, অন্যদিকে স্থানীয় মাছের ঘাটগুলোতেও দেখা দিয়েছে ক্রেতা,বিক্রেতা ও মাছ সংকট। সেখানে এখন শুনসান নীরবতা।
মাছঘাটের শ্রমিকরা বলছেন, নদীতে মাছ নেই। অধিকাংশ জেলে খালি নৌকা নিয়ে ফিরছেন। এ জন্য তারা ঘাটে অলস সময় পার করছেন। আর অপেক্ষায় রয়েছেন, কখন ঘাটে স্বপ্নের সেই রূপালী ইলিশ আসবে, মাছঘাট জমজমাট হবে।
আলেকজান্ডার মাছঘাটের আড়ৎদার মফিজ মিয়া বলেন, অন্যান্য বছর এই সময় ইলিশসহ বিভিন্ন ধরনের মাছে ভরপুর থাকতো। ঘাট থাকতো সরগরম। এ বছর একেবারেই ভিন্ন চিত্র। জেলেদের জালে মাছ না পড়ায় মাছঘাট একেবারেই নীরব।
ট্টলার মালিক ইয়াছিন জমাদার বলেন, এমনিতেই দেশে জ্বালানি তেলের বাজার গরম। অতিরিক্ত টাকা খরচ করে তেলভর্তি করে ট্রলার নিয়ে ১৮ দিন নদীতে জাল ফেলে আজ শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে। তিনি বলেন, জেলেরা নদীতে নেমে মাছ পাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে দুই-চারটি মাছ পড়ে; তাতে ভাতের খরচও ওঠে না তাদের।
জেলে সেলিম মাঝি বলেন, দুই মাসের অভিযান শেষে যখন নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন আবহাওয়া ভালো ছিল না। এ কারণে অনেক জেলে নদীতে নামতে পারেনি। যারা নেমেছে, তারা অধিকাংশই খালি হাতে ফিরছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
রামগতি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৌরভ উজ জামান ও কমলনগরের মৎস্য কর্মকর্তা তুর্য সাহা বলেন, দুই মাস নিষেধাজ্ঞার পর স্বাভাবিকভাবেই মাছ কম পড়বে। সাগরের মিঠাপানির স্রোত শুরু হলে ইলিশ নদীতে আসতে শুরু করবে। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে কাঙ্খিত মাছ পেতে শুরু করবে জেলেরা।





