• ই-পেপার

মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে পুড়িয়ে হত্যা

বাগেরহাট

চুইঝালে বেজায় ঝাল ঈদের বাজারে

মামুন আহমেদ, বাগেরহাট
চুইঝালে বেজায় ঝাল ঈদের বাজারে
বাগেরহাটের ফকিরহাট বাজারে চুইঝাল বেচায় ব্যস্ত এক বিক্রেতা। সোমবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

গরুর মাংসের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে চুইঝাল একটি অপরিহার্য উপকরণ। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে উপকরণটির  চাহিদা এখন ব্যাপক। বাড়তি চাহিদার কারণে বাজারে বেড়েছে এর বেচাকেনা; দামও ঊর্ধ্বমুখী। 

দেশের অন্যান্য স্থানের মতো বাগেরহাটের হাট-বাজারেও বেড়েছে ঐতিহ্যবাহী মসলা চুইঝালের চাহিদা ও দাম। অন্য সময় জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে আকারভেদে প্রতিকেজি চুইঝাল বিক্রি হয় ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায়। এখন তার দাম ৬০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকা পর্যন্ত। 

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার ফকিরহাট, চিতলমারী, মোল্লাহাট ও সদরসহ বিভিন্ন বাজারের চুইঝালের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। শুধু স্থানীয় ক্রেতাই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরাও ভিড় করছেন এ মসলার বাজারে। 

স্থানীয়রা জানান, কোরবানির মাংস রান্নায় বাড়তি স্বাদ ও ঝাঁজ যোগ করতে চুইঝালের জুড়ি নেই। সুগন্ধি ও ঝাঁঝালো স্বাদের কারণে যে কোনো মাংস রান্নায় এটি এনে দেয় ভিন্ন মাত্রা। ফলে ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও কয়েকগুণ বেড়েছে চুইঝালের চাহিদা।

ফকিরহাট বাজারের চুইঝাল ব্যবসায়ী মামুন শেখ বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদ সামনে রেখে চুইঝালের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় দামও বেড়েছে। আকার ও মানভেদে প্রতিকেজি চুইঝাল ৮০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মামুন শেখ আরো বলেন, শুধু বাগেরহাট নয়, পাশের জেলা খুলনা, পিরোজপুর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও খুচরা ব্যবসায়ীরা ফকিরহাট বাজারে চুইঝাল কিনতে আসছেন। ফলে কেনাবেচাও কয়েকগুণ বেড়েছে।

গোপালগঞ্জের চুইঝাল ব্যবসায়ী শেখ আকবর আলী বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে গোপালগঞ্জ পৌর মার্কেটে চুইঝালের ব্যবসা করছি। বাগেরহাটের ফকিরহাট বাজার থেকে পাইকারি দামে চুইঝাল সংগ্রহ করে খুচরা বাজারে বিক্রি করি। তিনি বলেন, বাগেরহাটের চুইঝালের চাহিদা বেশি, কারণ এখানকার চুইঝালের স্বাদ অনেক ভালো।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর বাজারের চুইঝাল বিক্রেতা মো. শুকুর শেখ বলেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বাজারে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা খুচরা ক্রেতাদের চুইঝাল দিতে পারছি না। কারণ পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। এ কারণে দামও কিছুটা বেড়েছে।

বরিশাল থেকে ফকিরহাট বাজারে চুইঝাল কিনতে আসা কালাম শেখ বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। তাই চুইঝাল কিনতে এসেছি। বাগেরহাটের চুইঝালের ঝাঁঝ ও স্বাদ অনেক ভালো। এটি মাংসের স্বাদ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া গ্যাসের সমস্যা, কাশি ও বাতের ব্যথাসহ নানা সমস্যায় উপকারে আসে চুইঝাল। 

ফকিরহাট বাজারে চুইঝাল কিনতে আসা সোহেল শেখ বলেন, আমরা বাগেরহাটের মানুষ, তাই চুইঝাল আমাদের কাছে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি মসলা। বাগেরহাটের প্রায় প্রত্যেক বাড়িতে মাংস রান্নায় চুইঝাল ব্যবহার করা হয়। শুধু চুইঝালেই নামেই বাগেরহাট ও খুলনায় অনেক হোটেল গড়ে উঠেছে,  যেখানে শুধু চুইঝালে রান্না গরুর মাংস বিক্রি করা হয়।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, চুইঝাল একটি ঔষধি গুণসম্পন্ন মসলা। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা, গ্যাসের সমস্যা কমানো, রুচি বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এছাড়া রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতেও এর জুড়ি নেই।

উপপরিচালক আরো বলেন, এ বছর বাগেরহাট জেলায় ৩২ হেক্টর জমিতে চুইঝালের আবাদ হয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৬৮ মেট্রিক টন চুইঝাল উৎপাদিত হয়েছে। চাষিদের আগ্রহ বাড়াতে চারা বিতরণসহ বিভিন্ন পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

হাতির জন্য পাতা ফাঁদে পড়ে নারীর মৃত্যু

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি
হাতির জন্য পাতা ফাঁদে পড়ে নারীর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

বান্দরবানের লামায় হাতি তাড়ানোর জন্য তৈরি করা বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে রুবি আক্তার (৩৮) নামে এক নারীর মৃত্যু হওয়ার অভিযোগ পাওয়া  গেছে। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ হায়দারনাশী এলাকায় গিয়াসউদ্দিনের আম বাগানে এই ঘটনা ঘটে। 

নিহত রুবি আক্তার ওই এলাকার আব্দুর শুক্কুরের স্ত্রী। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ হায়দারনাশী এলাকায়  বন্য হাতির পালের কবল থেকে আম বাগান ও ধানের ক্ষেত রক্ষায় বাগান মালিক জমিতে বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাতে। রুবি আক্তার গৃহস্থালি কাজে জমিতে গেলে হাতি তাড়ানোর সেই বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, ‘জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে লামা থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হবে।’ 

লামা বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা এম কবির হোসেন জানিয়েছেন, ‘ফাঁদ পাতা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ (নিরাপত্তা)আইন ২০১২ মতে অপরাধ। এই আইনে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে।’

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ গ্রেপ্তার

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্য এস কে নাহিদকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় রাণীনগর ও আত্রাই থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে রাণীনগর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নাহিদ উপজেলার পূর্ববালুভরা গ্রামের এস কে হাবিবুর রহমানের ছেলে।

নাহিদের ছোট ভাই মারুফ জানান, আমার ভাই ঢাকাতে চাকরি করত। তার স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় বাড়িতে আসে। সোমবার বিকেলে পারিবারিক কিছু বাজার করতে বাড়ি থেকে বের হয়ে রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে পুলিশ তাকে আটক করে। এখন জানতে পারলাম, আত্রাই থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চালান দেওয়া হবে।

রাণীনগর থানার ডিউটি অফিসার এএসআই মজিবুর রহমান জানান, মঙ্গলবার দুপুরে রাণীনগর থানা থেকে আত্রাই থানা পুলিশের কাছে নাহিদকে হস্তান্তর করা হয়।

আত্রাই থানার এস আই ওবায়দুর রহমান জানান, সন্ত্রাস দমন আইনে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যকে পুড়িয়ে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

বুড়িচং -ব্রাহ্মণপাড়া( কুমিল্লা) প্রতিনিধি
তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যকে পুড়িয়ে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদক বিক্রির টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তিকে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব ও পুলিশ। সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী ভোমরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

মঙ্গলবার (১৯ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-১১ কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মিঠুন কুমার কুণ্ডু।

গ্রেপ্তার আসামির নাম জহিরুল ইসলাম ওরফে জহির হিজড়া (৪৬)। তিনি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জাপর আলীর ছেলে। নিহত তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তির নাম এনামুল হক শিশির ওরফে মাহি (৩৫)। তিনি বুড়িচং পৌরসভার পূর্ণমতি গ্রামের কামরুল হক ফরহাদের সন্তান।

র‍্যাব জানায়, গত ১৩ মে সকালে বুড়িচং বাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি টিনশেড বাসায় এনামুল হক শিশিরের হাত-পা বেঁধে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৭ মে ভোরে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় জহিরকে প্রধান আসামি করে তিনজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়।

র‍্যাবের সহকারী পরিচালক মিঠুন কুমার কুণ্ডু জানান, নিহত শিশির ও অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে বসবাস করতেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। মাদক বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত ও আসামিদের বিরুদ্ধে আগেও মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।’