• ই-পেপার

ঘুমধুম সীমান্তে বিস্ফোরণে প্রাণ গেল শিশুর

নাফ নদীতে সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে বিজিবির গোলাগুলি

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
নাফ নদীতে সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে বিজিবির গোলাগুলি

কক্সবাজারের উখিয়ার সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে বিজিবির গোলাগুলি হয়েছে। এ সময় অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেল ৩টায় উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিজিবি জানায়, বুধবার দুপুর ২টার দিকে বাহারপাড়া সীমান্ত সংলগ্ন নাফ নদীর শূন্যরেখার কাছে মিয়ানমার থেকে জেলের বেশে নৌকায় কয়েকজন অস্ত্রধারী সশস্ত্র ব্যক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এ সময় টহলরত ৬৪ বিজিবির একটি বিশেষ দল দ্রুত নাফ নদী সংলগ্ন বেড়িবাঁধে কৌশলগত অবস্থান নিয়ে সশস্ত্র গ্রুপটিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। জবাবে সশস্ত্র ব্যক্তিরাও কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এক পর্যায়ে তারা তাদের ব্যবহৃত নৌকা ফেলে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মিয়ানমারের ভেতরে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে বিজিবির টহল দল নৌকাটি জব্দ করে তল্লাশি চালায়। এ সময় সেখান থেকে একটি জি-থ্রি রাইফেল, তিনটি জি-থ্রি খালি ম্যাগাজিন, তিনটি ফাইবার খালি ম্যাগাজিন, ৫১৫ রাউন্ড গুলি, ৪ হাজার পিস ইয়াবা, একটি জি-থ্রি পাউচসহ অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

বিজিবির গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ মে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে হ্নীলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ কাব্যিক চর এলাকায় জেলের বেশধারী দুই রোহিঙ্গার কাছ থেকে ইয়াবা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত একই সশস্ত্র দল পালংখালীর এ ঘটনাতেও অংশ নিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির জনবল মোতায়েন ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত সাধারণ জনতা এবং জেলেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সীমান্তে সন্ত্রাস দমনে সবসময় কঠোর অবস্থান নিয়ে কাজ করছে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলবে।

সিংড়ায় অর্ধশতাধিক নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
সিংড়ায় অর্ধশতাধিক নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস
ছবি : কালের কণ্ঠ

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলার নিংগইন ডুবন্ত ব্রিজ এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল রিফাত। এ সময় সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, চলনবিলে নতুন পানি প্রবেশ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু অসাধু ব্যক্তি মা মাছ ও পোনা মাছ নিধনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ কারণে বর্ষার শুরু থেকেই প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, ‘নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। চলনবিলের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

‘পরিবেশ বাঁচাও’ আন্দোলনে বিনা পয়সার ফেরিওয়ালা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, মাদারীপুর
‘পরিবেশ বাঁচাও’ আন্দোলনে বিনা পয়সার ফেরিওয়ালা
নিজের নার্সারিতে চারার পরিচর্যা করছেন রাজন মাহমুদ। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

অন্য কোনো প্রধান ভাবনা নেই। ভাবনা জীবনভর একটাই- পরিবেশ। পরিবেশ বাঁচাতে হবে। পরিবেশ বাঁচাতে এর সঙ্গে যা কিছু যুক্ত, তা রক্ষা করতে হবে। পরিবেশের মূল অনুসঙ্গ প্রকৃতি রক্ষা করতে হবে। প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত জল, পশুপাখি, বৃক্ষ। এসব রক্ষা পেলে প্রকৃতি রক্ষা পাবে, পরিবেশ বাঁচবে। 

৪০ বছর ধরে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মাদারীপুরের রাজন। এই দীর্ঘ সময় ধরে বিনামুল্যে গাছের চারা বিতরণ করছেন তিনি। শুধু চারা বিতরণ নয়; নদী-খাল, পশুপাখি রক্ষায়ও একই সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার ২ নম্বর  শকুনী এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন খানের ছেলে রাজন মাহমুদ। কিশোর বয়স থেকেই গাছের প্রতি তার আগ্রহ। গত শতাব্দির ৮০’র দশকেই বাবার সঙ্গে নার্সারি গড়ে তোলেন রাজন। সেখানে উৎপাদিত চারা বিনা টাকায় বিতরণ করা হতো আশপাশের মানুষের মধ্যে। গাছ চেয়ে কেউ খালি হাতে যায়নি তার কাছ থেকে। বিনামূল্যে চারা বিতরণ করতেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও।

রাজন জানান, ২০০১ সালে একটি পত্রিকায় পরিবেশের ওপর  প্রতিবেদন পড়েন তিনি। সেখান থেকে ‍উৎসাহিত হন, গড়ে তোলেন পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ফ্রেন্ডস অব নেচার’। 

স্থানীয়রা জানায়, কোথাও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হতে দেখলেই সেখানে ছুটে যান রাজন। মাদারীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শকুনী লেকের ওপর কাজ করেছেন তিনি। লেকের পরিবেশ নষ্ট করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। পাশপাশি লেক উন্নয়নের নামে পুরনো গাছ কাটার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানান। 

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় এমপি মাদারীপুর শহরের ১ নম্বর  পুলিশ ফাঁড়িসংলগ্ন পুরনো ঐতিহ্যবাহী পুকুরটি ভরাট করতে চাইলে ফ্রেন্ডস অভ নেচার-এর ব্যানারে তার প্রতিবাদ জানান রাজন। পরে মাদারীপুর পৌরসভার তখনকার মেয়র ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুকুরটি রক্ষা পায়। 

সূত্র জানায়, পাখি রক্ষায় গাছে গাছে মাটির হাঁড়ি বসিয়ে তা পাখিকে বাসা হিসেবে ব্যবহারের ব্যবস্থা করেন রাজন। বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন বিলে নিজ টাকায় মাছের রেনু বা পোনা কিনে তা অবমুক্ত করেন। বিভিন্ন সময় নদীখাল ভরাট করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় জেলায়  পরিবেশবাদী হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। 

সম্প্রতি সরেজমিনে রাজনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির ছাদে রয়েছে নানা ফুল ও ঔষধি গাছের সংগ্রহ, রয়েছে বিভিন্ন জাতের ক্যাকটাস। বাড়ির পাশে পারিবারিক জমিতে গড়ে তুলেছেন নার্সারি। 

রাজন জানান, তাকে এ কাজে সহযোগিতা করেন প্রতিবেশী  সাখাওয়াত হোসেন মামুন ও স্থানীয় নূরু খা। বর্তমানে তিনজন  মিলে চারা উৎপাদন ও পরে তা বিনামূল্যে বিতরণ করছেন। শহরের অনেকেই বাড়িতে গাছ লাগাতে চাইলেও মাটির অভাবে লাগাতে পারে না। সেক্ষেত্রে তিনি নিজে মাটি ও টব কিনে তাতে গাছ লাগানোর উপযোগী করেন তারা। পরে তা বিনামূল্যে বিতরণ করেন।

রাজন আরো জানান, প্রত্যেক মানুষকে পরিবেশ, স্বাস্থ্য, পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করার চেষ্টা করছেন। তার আশা, একদিন সবাই পরিবেশ রক্ষায় আন্দোলনে দেশের তরুণ ও যুব সমাজসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ এগিয়ে আসবে। 

মাদারীপুর সদর উপজেলার হাজির হাওলা গ্রামের মিথিলা মোহসিন বলেন, ‘আমার কিছু টবের প্রয়োজন হয়। রাজন মাহমুদ তা ফেসবুকের মধ্যেমে জানতে পারেন। পরে তিনি আমাকে ২০টি টব  দেন। শুধু টপ না, তার ভেতর গাছ লাগানোর জন্য মাটিও ছিল। সেইসঙ্গে তার ছাদ বাগান থেকে বেশ কিছু গাছও বিনা টাকায় নিয়ে যাই। বর্তমানে কেউ টাকা ছাড়া এভাবে দেয় না। গাছের প্রতি তার  এমন ভালোবাসা দেখে আমি মুগ্ধ। 

মাদারীপুর ২ নম্বর শকুনি এলাকার রাবেয়া সুলতানা বলেন, ‘আমি তার (রাজন) কাছে বিভিন্ন ফুল গাছের ডাল চাইলে তিনি বিনামূল্যে অনেকগুলো গাছ টবসহ দিয়ে দেন।’

মাদারীপুর সদর উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আল-আমিন বলেন, অনেক আগে থেকেই রাজন মাহমুদের সঙ্গে আমার  পরিচয়। তিনি বিভিন্ন সময় বিনা টাকায় চারা বিতরণ করে থাকেন। এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। একটি গাছও যদি বেঁচে থাকে, তাহলে তা পরিবেশ রক্ষার জন্য কাজ করে। তাকে দেখে অন্যরা গাছ লাগাতে উৎসাহিত হবেন।

ময়মনসিংহে বজ্রাঘাতে এক কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহে বজ্রাঘাতে এক কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বজ্রাঘাতে এএসএম খালেকুল আজাদ নামের এক কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) দুপুর সোয়া একটার দিকে উপজেলার বড়গ্রাম ইউনিয়নের রঘুনাথপুর রৌয়ারচর বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহত খালেকুল আজাদ (৫৬) উপজেলার রঘুনাথপুর রৌয়ারচর গ্রামের মৃত হাজী ইউসুফ আলীর ছেলে। তিনি মুক্তাগাছা উপজেলার গাবতলী ডিগ্রী কলেজে গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 

পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, কলেজ বন্ধ থাকায় আজ বৃহস্পতিবার তিনি মসজিদ নির্মাণ কাজ তদারকি করছিলেন। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় অন্যান্যরা নিরাপদ স্থানে চলে যায়। তিনি পাশের এক আম গাছের নিচে আশ্রয় নিলেও বজ্রাঘাতে আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সায়েম তানভীর জানান, বজ্রপাতে তিনি আহত হন। তবে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তিনি মারা যান।