• ই-পেপার

পদ্মা নদীতে ভাসছিল বস্তা, খুলতেই বেরিয়ে এলো নারীর মরদেহ

ব্রহ্মপুত্রে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, ময়মনসিংহ
ব্রহ্মপুত্রে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
ছবি: কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ব্রক্ষপুত্র নদে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজের পরদিন মো. মোকরামিন হাসান রাফি (২৫) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বয়রা বাজারে অবস্থিত ব্রক্ষপুত্র নদের বয়রা ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত মো. মোকরামিন হাসান রাফি একই এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৩ জুন) বেলা তিনটার দিকে তিন বন্ধুর সঙ্গে ব্রক্ষপুত্র নদে গোসল করতে যায় রাফি। একপর্যায়ে তারা সাঁতরে বেশি পানিতে চলে যায়। এসময় ধীরে ধীরে দুই বন্ধু সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও রাফি পানির স্রোতে পানিতে তলিয়ে যায়। এমতাবস্থায় ফায়ারসার্ভিসে খবর দিলে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানিতে নেমে খোঁজাখুঁজি করে ডুবুরি দল। কিন্তু তাতেও সন্ধান পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে আবারও ফায়ারসার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার তৎপরতা চালানোর একপর্যায়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত রাফির ফুফাতো ভাই এখলাছুর রহমান বলেন, ‘রাফি সাঁতার জানে। গোসলের একপর্যায়ে গভীর পানিতে চলে যাওয়ার পর রাফি পাড়ে উঠতে চেষ্টা চালাচ্ছিল। কিন্তু স্রোতের মধ্যে পড়ে শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। সে ধীরে ধীরে পানিতে তলিয়ে যায়। রাফি খুব ভালো ছেলে ছিল। তার এই মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ বাদ জোহর নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে।’

গৌরীপুর থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করেনি। ফলে এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

নবাবগঞ্জ

মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ, ৮ দিন পর মরদেহ উদ্ধার

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ, ৮ দিন পর মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর ইউনিয়নের বড় বক্সনগর চৌরাহাটি এলাকার বাসিন্দা নারায়ণ সরকারের (৪৮) মরদেহ নিখোঁজের আট দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে আড়িয়াল বিলের একটি ডাঙার পাশে মরদেহটি দেখতে পান স্বজনরা। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নারায়‌নের স্ত্রী চম্পা রানী ব‌লেন, ‘গত ২৮ মে সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে নারায়ণ সরকার এবং তার দেবর জগদীশ সরকার মাছ ধরার উদ্দেশ্যে আড়িয়ল বিলে যান। দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে জগদীশ সরকার বাড়ি ফিরে এলেও নারায়ণ সরকার আর ফেরেননি। এরপর পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে বিষয়টি নবাবগঞ্জ থানাকে অবহিত করে নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা চালানো হয়।’

পরিবার সূত্রে জানা যায়, নারায়ণের বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর ইউনিয়নের বড় বক্সনগর গ্রামে। তার বাবার নাম নরেশ সরকার এবং মা মেঘা রানী সরকার।

দোহার সা‌র্কেলের সি‌নিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শামীম হো‌সেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

নড়াইল

নিজস্ব ভবন নেই ২৭ দপ্তরের, ভাড়া বাসায় কার্যক্রম

নড়াইল সংবাদদাতা
নিজস্ব ভবন নেই ২৭ দপ্তরের, ভাড়া বাসায় কার্যক্রম
নড়াইল শহরে নির্মীয়মান ভবনের দোতলায় ভাড়া বাসায় জেলা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের কার্যালয়। মঙ্গলবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

নড়াইলে নিজস্ব ভবন না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় কার্যক্রম চলছে জেলার ২৭ সরকারি দপ্তরের। এতে প্রতিবছর বিপুল অংকের টাকা ভাড়া গুণতে হচ্ছে এসব দপ্তরকে। একই সঙ্গে বারবার কার্যালয় স্থানান্তর ও বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের। 

এ পরিস্থিতিতে জেলার বিভিন্ন ভাড়া বাসায় থাকা সরকারি দপ্তরকে একই স্থানে আনতে সমন্বিত কার্যালয় ভবন নির্মাণের দাবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাপ্রত্যাশীদের।

জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নড়াইলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ভাড়া ভবনে পরিচালিত হচ্ছে এসব কার্যালয়। অবকাঠামো গড়ে না ওঠায় সেবার মান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমও প্রভাবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

নড়াইল গণপূর্ত বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলায় ৮০টি সরকারি দপ্তর রয়েছে। এর মধ্যে ভাড়া বাসায় পরিচালিত হচ্ছে ২৭টি সরকারি দপ্তর। ২০১৮ সালের হিসাবে এসব কার্যালয়ের ভাড়ার জন্য বর্তমান বাজারদরে এই খরচ কোটির ঘরে পৌঁছেছে। 

ভাড়া বাসায় পরিচালিত সরকারি দপ্তরগুলো হলো নড়াইল মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর; জেলা তথ্য অফিস; কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট; জেলা সমাজসেবা কার্যালয়; জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়; জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা মৎস্য অফিস; জেলা পাট উন্নয়ন কার্যালয়; জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়; জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়; জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়; কর কমিশনারের কার্যালয়; জেলা সঞ্চয় অফিস; শহর সমাজসেবা; ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) জেলা কার্যালয়; প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়; হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম কার্যালয়; জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয়; নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা কার্যালয়; জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তার কার্যালয়; জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো,তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়; জেলা সমবায় অফিস; জেলা পল্লী উন্নয়ন (বিআরডিবি) অফিস; জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়; জেলা পরিসংখ্যান অফিস এবং জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়।

এসব দপ্তরের মধ্যে একটি হলো বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) জেলা কার্যালয়। প্রতিমাসে এ দপ্তরকে ভাড়া দিতে হচ্ছে ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা। এ হিসাবে দপ্তরটির বার্ষিক ভাড়া গুণতে হচ্ছে চার লাখ ১৪ হাজার টাকা। 

বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সোলায়মান হোসেন বলেন, জেলায় অনেক সরকারি দপ্তর ভাড়া বাসায় কার্যালয় পরিচালনা করে আসছে। বিসিক এর মধ্যে একটি। ভাড়া বাসায় কাজ করতে আমাদের অনেক সমস্যা হয়। সরকারিভাবে জেলায় একটি সমন্বিত অফিস ভবন থাকলে একই স্থানে সব কর্মকর্তা কার্যালয় পরিচালনা করতে পারেন। পাশাপাশি সেবাগ্রহীতারাও  সুফল পাবেন। 

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘প্রতিবছর সরকারের একটি মোটা টাকা বাসা ভাড়াবাবদ খরচ হচ্ছে। সমন্বিত অফিস ভবন হলে সরকারি অনেক কম টাকা খরচ হবে। জেলা প্রশাসন এ রকম একটি উদ্যোগ নিলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধা হবে। পাশাপাশি গণপূর্ত বিভাগের কাছে অনুরোধ, তারা যেন অতিদ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেন এবং এ ধরনের সুপারিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান’।

জেলার অধিকাংশ ভাড়ায় পরিচালিত কার্যালয় সদর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করছে। একাধিকবার দপ্তরে কোনো সেবাগ্রহীতার কাজ থাকলে তাকে দিনের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়। এতে সময় ও যাতায়াত দুটোই বাড়ে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও গ্রামাঞ্চল থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা বেশি ভোগান্তির শিকার হন।

নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল বিশ্বাস বলেন, ‘সরকারি জনগুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনেক দপ্তর ভাড়া বাসায় থাকায়  বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে সরকারকে। সেই সঙ্গে কোনো কার্যালয় বাসা পরিবর্তন করলে অনেক সময় ওই কার্যালয় খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের দাবি, জেলায় বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাসা ভাড়ায় থাকা অফিসগুলো একটি ভবনে আনার দাবি জানাই। জেলায় একটি  সমন্বিত অফিস হলে ভাড়া সাশ্রয়ের পাশাপাশি জনগণের সময় ও ভোগান্তি কমবে।’

এদিকে, জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরও দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, উপযুক্ত অবকাঠামোর অভাবের কারণে অনেক সময় সরকারি কার্যক্রম প্রত্যাশিতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। 

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মালেক মিয়া বলেন, ‘ভাড়া অফিসে সরকারি কর্মসূচি সরকার যেভাবে চায় সেভাবে করা সম্ভব হয় না। ভাড়া ভবনে সরকারের ভাড়াও যাচ্ছে অনেক বেশি। তিনি বলেন, নড়াইল ছোট জেলা। এখানে সরকারি অফিস নেওয়ার মতো সেই মানের তেমন ভবন নাই। আর বার বার প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করলে প্রতিষ্ঠান খুঁজে পেতে সেবাগ্রহীতাদের সমস্যা হয়।’

একই ধরনের সমস্যার কথা বলছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান। জেলা পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় হওয়া সত্ত্বেও পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় নানা অসুবিধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতিমাসে ২৮ হাজার টাকা ভাড়া গুণতে হয়। জেলা অফিসের জন্য আমাদের যে জয়গা দরকার, তা এই ঘরে নেই। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’

তবে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ। জেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা সরকারি দপ্তরগুলোকে একটি সমন্বিত ভবনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে নড়াইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারোয়ার হোসাইন বলেন, ‘জেলায় অনেক সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কাজ ভাড়া বসায় পরিচালিত হচ্ছে। এতে সরকারের প্রতিবছর কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে সব অফিসকে এক ভবনে  আনার উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।’ 

কমলনগরে পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
কমলনগরে পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বসতবাড়ির পুকুর থেকে আরিফ হোসেন (৩৫) নামে এক যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে লক্ষ্মীপুর-রামগতি আঞ্চলিক সড়কের তোরাবগঞ্জ বাজারের নিকটবর্তী সেলিম চেয়ারম্যানের বাড়ির দরজার পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লুতু মুন্সী বাড়ির মাওলানা আক্তার হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ভ্রাম্যমাণ (চকলেট ও চানাচুর) দোকান করতেন। মরদেহটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আরিফ হোসেন মানসিকভাবে কিছুটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও সহজ-সরল প্রকৃতির ছিলেন। প্রতিদিনের নিয়মানুযায়ী ভোরে তিনি তোরাবগঞ্জ বাজারে এসে একটি হোটেলে নাস্তা করতেন। ঘটনার দিন সকালেও তিনি একইভাবে হোটেলে এসে নাস্তা খেয়েছিলেন। এরপর সকাল নয়টার দিকে স্থানীয় লোকজন সেলিম চেয়ারম্যানের বাড়ির দরজার পুকুরে তার গায়ের লুঙ্গি, জুতা ও গেঞ্জি দেখতে পান। সন্দেহ হলে তারা গিয়ে পুকুরে আরিফের মরদেহ ভাসতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। পরে আশপাশের লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা এসে পুলিশকে খবর দেয়।

নিহতের মামা সুলতান আহাম্মদ টিপু জানান, তার ভাগিনা দীর্ঘদিন ধরে মৃগী রোগে ভুগছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করতেন। বুধবার রাতেও তিনি ওষুধ খেয়েছেন। তিনি বিয়ে করেছিলেন। সংসারে তার দুটি সন্তান রয়েছে। প্রতিবন্ধী হলেও তিনি সংসারের প্রতি যথেষ্ট দায়িত্বশীল ছিলেন। তবে সকালে কেন বা কী কারণে ওই পুকুরে এসেছিলেন, তা স্পষ্ট করতে পারেননি তিনি।

কমলনগর থানার ওসি মো. ফরিদুল আলম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। পরিবারের আবেদন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করে মৃত্যুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।